আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতি

সালেক  সুফী

ঘনিয়ে আসছে টি২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা ২০২৪। যুক্তরাষ্ট্র এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী  দেশ স্কোয়াড ঘোষণা করলেও বাংলাদেশ প্রকাশ করেনি স্কোয়াড।  শক্তি সামর্থে অনেক পিছিয়ে থাকা জিম্বাবুয়ে দলের বিরুদ্ধে ৫ ম্যাচের টি২০ সিরিজকে অদৌ টুর্নামেন্টের জন্য আদর্শ প্রস্তুতি বলা যাবে না। সেই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ অর্জন হলেও বাংলাদেশের আত্মতুষ্টির কোন কারণ দেখি না।

বিশ্বকাপে অধিকাংশ প্রতিদ্বন্দ্বী এমনকি নেপাল, নেদারল্যান্ডস অনেক সুসংহত দল।  বাংলাদেশ অবশ্য চলতি সিরিজ শেষে যুক্তরাস্ট্রে যাবে। পরিবেশ এবং উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অনুশীলন ম্যাচ খেলবে। দেশে এখন তীব্র দাবদাহের পাশাপাশি বৃষ্টি চলছে। সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ অনায়াসে জয়ী হয়ে ২-০ এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

আজ জয়ী হলেই ২ ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জিতে নিবে বাংলাদেশ। বাকি থাকবে ঢাকার মীরপুরে দুটি ম্যাচ। সেখানে সাকিব আল হাসান এবং মুস্তাফিজুর রহমান সংযুক্ত হওয়ায় দলের ভারসাম্য আরো বৃদ্ধি পাবে। এতো কিছুর পরেও আমি মনে করি না বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতি যুৎসই হচ্ছে।

দলের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে ওপেনিং জুটি এবং টপ অর্ডার ব্যাটিং সমস্যা রয়েই গাছে।  লিটন কুমার দাস আছে দীর্ঘ সময় রান খরায়।  তামিম ইকবাল সংকট মিটাতে পারেনি বিসিবি। তামিম ইকবাল রহস্যজনক আচরণ করছে।  ওপেনার হিসাবে তরুণ তানজিদ হাসান তামিম এখনো অপরিণত।  জানিনা সিরিজে পারভেজ ইমনকে যাচাই করা হলেও চূড়ান্ত স্কোয়াডে নেওয়া হবে কিনা। দল হয়তো ভরসায় আছে ম্যাচ ফিট হয়ে শেষ মুহূর্তে স্কোয়াডে ফিরবে।

দলের অধিনায়ক নাজমুল শান্তর ব্যাট কিন্তু কথা বলছে না। টি২০ ম্যাচে টপ অর্ডার ব্যাটিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  প্রথম ৬ ওভারে দ্রুত ৬০-৭০ রান তুলে নেওয়া দল এগিয়ে থাকে। সেখানে দ্রুত ২-৩ উইকেট হারালে মিডল অর্ডারের উপর চাপ সৃষ্টি হয়। আমার মনে হয় না লিটন, শান্ত দলে তাদের মূল ভূমিকা সঠিক ভাবে পালন করছে। সাকিব ফিরলে বাংলাদেশের ব্যাটিং শক্তি বাড়বে। এমনিতেই তাওহীদ হৃদয়, মাহমুদুল্লাহ, জাকির, অনিক, রিশাদ হোসেনের সমন্বয়ে গড়া মিডল অর্ডার লেট্ অর্ডার ব্যাটিং নির্ভরযোগ্য।

এখন আবার সাইফুদ্দিনের প্রত্যাবর্তন ব্যাটিং গভীরতা বাড়িয়েছে। টপ অর্ডার সমস্যা সমাধান হলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টি করবে বলে আশা করি। বিশ্বকাপের উইকেট গুলো কিন্তু চলতি আইপিএলের মত হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের উইকেট গুলো ড্রপিং পিচ হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ উইকেট গুলোতে স্পিন সহায়তা পাবে। অন্যান্য শীর্ষ স্থানীয় দলের স্কোয়াডে স্পিনারদের আধিক্য সেই সম্ভাবনার কথা বলে।

বাংলাদেশের বোলিং ইউনিট এখন শক্তিশালী। তাসকিন, শরিফুল আছে সেরা ফর্মে।  আইপিএলে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মুস্তাফিজকে টুর্নামেন্ট শেষ করে আসতে দিলে ভালো হতো।  মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন স্কোয়াডে থাকলে বোলিং গভীরতা বাড়বে। স্পিনার হিসাবে আমি সাকিবের সঙ্গে রিশাদ এবং মেহেদী মিরাজকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিব। স্মরণে রাখতে হবে বিগত দুটি টি২০ টুর্নামেন্টে ব্যর্থ ছিল বাংলাদেশ।

এবার স্কোয়াডটি নবীন প্রবীনের সমন্বয়ে গড়া অধিকতর ভারসাম্য পূর্ণ দল। তবে অন্যান্য শীর্ষ স্থানীয় দলগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি পর্যাপ্ত হয়েছে বলা যাবে না। দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, নেপাল, আফগানিস্তান টুর্নামেন্টে আছে।  বাংলাদেশকে সামর্থের সবকিছু দিয়ে লড়াই করে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ অর্জন করতে হবে। সাফল্যের জন্য টিম ম্যানেজমেন্টের পজিটিভ ভূমিকা বিরাট ভূমিকা পালন করবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eight + seven =