আন্তর্জাতিক নার্স দিবস ও ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল

 

প্রিয়াংকা আচার্য্য

বিশ্বব্যাপী নার্সদের অবদানকে সম্মান ও প্রশংসা করার জন্য প্রতি বছর ১২ মে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস পালিত হয়। এই দিনটি বিশ্বব্যাপী নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং উৎসর্গের প্রতীক হিসেবে কাজ করে। এবছরের প্রতিপাদ্য হলো, ‘যত্নের অর্থনৈতিক ক্ষমতা’।

আধুনিক নার্সিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল। তাঁর জন্মবার্ষিকী ১২ই মে। ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব নার্সেস তাঁর প্রতি সম্মান জানাতেই ১৯৭৪ সাল থেকে এ দিনটি আন্তর্জাতিক নার্স দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

ফ্লোরেন্স যুদ্ধের সময় আহত ব্রিটিশ সৈন্যদের সেবায় এতাটাই নিয়োজিত ছিলেন যে তাঁকে বলা হয় ‘লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’।

১৮২০ সালের ১২ মে ইতালির আভিজাত পরিবারে জন্ম হয় তার। ডার্বিশায়ার থেকে ১৭ বছর বয়সে লন্ডনে আসেন ফ্লোরেন্স। লন্ডনের হাসপাতালে তখন খুবই খারাপ অবস্থা ছিল। কোনও নার্স সেখানে কাজ করেন না সেই সময়। কারণ ঐ সময় নার্সিং সেবাকে  সামাজিক ভাবে মর্যাদা দেওয়া হতো না। ফ্লোরেন্স এই সময়ের হাল ধরেছিলেন। মানবসেবার প্রতি তিনি প্রথম টান অনুভব করেন।  ১৮৫১ সালে নার্সের প্রশিক্ষণ নিতে জার্মানি যান।

এদিকে সেবাকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হওয়ায় আপত্তি জানায় তার পরিবার। সমাজে নিম্নবিত্ত, অসহায়, বিধবা নারীদের পেশা হিসাবে গণ্য করা হতো নার্সিংকে।  তবে পরিবারের আপত্তিকে পাশ কাটিয়ে নিজেকে নার্সিংয়ের কৌশল ও জ্ঞানে দক্ষ করে তোলেন ফ্লোরেন্স। বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন। সেসব দেশের সেবা ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা ও প্রশিক্ষণ নেন। পরে ১৮৫৩ সালে লন্ডনের মেয়েদের একটি হাসপাতালে নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব নেন তিনি।

ফ্লোরেন্সের সবচেয়ে বড় অবদান ছিল ক্রিমিয়ার যুদ্ধে। তখন নিবিড়ভাবে অসুস্থ সৈন্যদের পাশে দাঁড়ান তিনি। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের এই যুদ্ধে সৈন্যদের অবস্থা ছিল বিপন্ন। প্রতিরক্ষা দপ্তরের সেক্রেটারি সিডনি হার্বাট ফ্লোরেন্সেকে লিখেন – ‘যুদ্ধের এই বিশৃঙ্খল অবস্থায় আহত সৈন্যদের তত্ত্বাবধান করার মতো একজনও উপযুক্ত ব্যক্তি নেই। যদি আপনি এ কাজের ভার গ্রহণ করেন, দেশ আপনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে।’ সেই ডাকে সাড়া দিয়ে ফ্লোরেন্স নিজ উদ্যোগে নার্সিংয়ের জন্য ৩৮ জনের স্বেচ্ছাসেবী দল নিয়ে সেখানে ছুটে যান। যোদ্ধাদের সেবা দেন। যা এক অনন্য উদাহরণ।

১৮৬০ সালে নার্সিংকে সম্পূর্ণ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে নাইটিঙ্গেল ট্রেনিং স্কুল স্থাপন করেন। ১৮৬৭ সালে নিউ ইয়র্কে উইমেন্স মেডিকেল কলেজ চালু করেন। সেখানে পড়ানো শুরু করেন নার্সিং সেবা সম্পর্কে।

ধীরে ধীরে নার্সিং সেবার গুরুত্ব পৌছে দেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত। ১৮৮৩ সালে এই কাজের জন্য তিনি রয়েল রেডক্রস সম্মানও পান। কয়েকটি সম্মানে তাকে ভূষিত করা হয়।

ফ্লোরেন্স তার সময় থেকেই নার্সিং সেবার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। যুগের পর যুগ নার্সদের অবদান সবার কাছে প্রশংসনীয় হয়ে উঠে। ডাক্তারদের পাশাপাশি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা অনবরত রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করে যাচ্ছেন।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

nine − 1 =