আলোকিত মানুষ সালেক সুফীর জন্মদিন আজ

আজ পহেলা বৈশাখ।  বাংলা নববর্ষ। ঠিক এই দিনে ৬৮ বছর আগে এক কালবৈশাখী ঝড়ের সকালে ঝালকাঠির নদীপাড়ে যেই শিশুটির জন্ম হয়েছে আজ তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ,  খেলা বিশ্লেষক, তুখোড় লেখক। মনে-প্রাণে,  ধ্যানে-জ্ঞানে বাংলাদেশকে ধারণকারী অসাধারণ দেশপ্রেমিক। সাধারণ মানুষের একান্ত আপনজন। চাইলেই অবলীলায় স্বল্প সময়ে লিখে ফেলতে পারেন বাংলা-ইংরেজিতে আকর্ষণীয় তথবহুল মৌলিক লেখা। পেশায় একজন মেধাবী প্রকৌশলী। ১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধে নীরবে-নিভৃতে কাজ করেছেন রণাঙ্গনে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সহগামী হয়ে,  রণাঙ্গনের সংবাদ সংগ্রহকারী বিদেশি সাংবাদিকের সঙ্গী হয়ে।  বঙ্গবন্ধুকে হৃদয়ে ধরেছেন আদর্শ হিসাবে।  উদ্বুদ্ধ হয়েছেন, “সোনার বাংলা গড়তে হলে সোনার মানুষ চাই” সেই মন্ত্রমুগ্ধ উদাত্ত আহ্বানে।

সামর্থের সবটুকু দিয়ে চাকরি জীবনে তিন দশক প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান,  উন্নয়ন, সঞ্চালন এবং বিপণন অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছেন। দেশে-বিদেশে কৃতিত্বের সাথে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। শুধু পেশাদারি জীবনেই সফল নন; ক্রিকেট,  ফুটবল খেলেছেন, লিখেছেন নিয়মিত,  ক্রীড়া সংগঠক হিসাবেও ভূমিকা রেখেছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক স্থাপনে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন।

বৈরী সময়েও বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ থেকে বেপথু হননি। ভয় তাকে আদর্শ বিচ্যুত করতে পারেনি। নির্মোহ,  সৎ, বন্ধুবৎসল সালেক সুফী দেশের স্বার্থে আপোষ করেননি,  কোনো চাপের কাছে নতি  স্বীকার করেননি।

একসময়ে কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রে অন্যায় ভাবে চাকরিচ্যূত হয়ে জীবিকার তাড়নায় দেশ ছেড়েছেন। অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানির অনুরোধে সেদেশের সরকার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে ২০০৫ সালে সেদেশে নিয়ে গেছে। এরপর থেকে অস্ট্রেলিয়া,  দক্ষিণ এশিয়া,  দূরপ্রাচ্য, মধ্যপ্রাচ্য, এমনকি আফ্রিকার কয়েকটি দেশে কাজ করেছেন। যুদ্ধবিক্ষুব্ধ আফগানিস্তানের জ্বালানি পরামর্শক হিসাবেও ভূমিকা রেখেছেন।

যেখানেই থাকেন বাংলাদেশকে ভুলে যাননি।  বাংলাদেশের পত্রপত্রিকায় নিয়মিত লিখেছেন এবং লিখছেন স্পোর্টস,  এনার্জিসহ নানা বিষয়ে। দেশে আসলে এবং বিদেশ থেকেও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংযুক্ত হয়ে নানা বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিলিয়ে দিয়েছেন। প্রশিক্ষণ এবং চাকরি জীবনে এশিয়া,  ইউরোপ,  আমেরিকা,  আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের ৪০টি দেশ সফরে ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। অভিজ্ঞতার ঝুলি খুলে দিয়েছেন আগ্রহী বর্তমান প্রজন্মের জন্য। একজন ফুলচাষি,  মৎসশিকারি সালেক সুফীর এখন সময় কাটে ফুলের মতো ফুটফুটে নাতি-নাতনির সাথে কুইন্সল্যান্ডের লোগান সিটিতে।  সুযোগ পেলেই ছুঠে যান প্রশান্ত সাগর পাড়ে।

সালেক সুফীর আজ জন্মদিন। জন্মদিনে ‘রঙ বেরঙ’ পত্রিকার পক্ষ থেকে অফুরন্ত শুভেচ্ছা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 × 5 =