ওডিআই সিরিজে পরাজয় শেষে এখন চ্যালেঞ্জ টি২০ সিরিজ

সালেক সুফী

অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সিরিজের প্রথম দুইমাস  অস্বাভাবিক  ক্রিকেট খেলে ২-১ ওডিআই সিরিজ খুইয়েছে বাংলাদেশ। সৌভাগ্য তৃতীয় ম্যাচে নিজেদের স্বরূপে ফিরে আফগানিস্তানকে তৃতীয় ম্যাচে উড়িয়ে দিয়ে ধবল ধোলাই বাঁচিয়েছে। কাল থেকে সিলেটে শুরু হবে দুই ম্যাচের টি২০ সিরিজ। ক্রিকেটবিশ্ব জানে টি২০ ভার্সনে আফগানিস্তান তুখোড় দল। ওদের অন্তত আধা ডজন বিশ্বমানের ক্রিকেটার বিশ্বব্যাপী টি২০ফ্যাঞ্চাইজ  দাপিয়ে  বেড়ায়।

যে দল নিয়ে ওরা বাংলাদেশে এসেছে সেখানেও রয়েছে ওদের সেই তুখোড় খেলোয়াড় সবাই। আর ওডিআই সিরিজ জিতে স্বাভাবিক কারণেই ওদের মনোবল তুঙ্গে আছে। প্রথম দুই ম্যাচে দাপুটে জয়ের পর যেভাবে তৃতীয় ম্যাচে হেরে গেছে তার ধরন দেখে কেউ কেউ ম্যাচটির সততা নিয়ে প্রশ্ন  তুলেছে।  বিশেষত ধবল ধোলাইয়ের সুযোগ থাকার ম্যাচে কেন চ্যাম্পিয়ন বলার রাশিদ খানকে বিশ্রাম দেওয়া হলো? বাংলাদেশ ভালো বোলিং, ব্যাটিং করে ম্যাচ জিতেছে যার কোনটি নিজেদের সামর্থ অনুযায়ী করতে পারেনি প্রথম দুই ম্যাচে। যাক ধবল ধোলাই হতে হয়নি বাংলাদেশকে।

যাক সেই কথা এবারের প্রসঙ্গ টি২০ সিরিজ।  এযাবৎ ৯ বার বাংলাদেশ টি২০ ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হয়েছে। ৬ বার জিতেছে আফগানিস্তান ৩ বার বাংলাদেশ। ভারতে অনুষ্ঠিত ৩ ম্যাচের একটি সিরিজে ধবল ধোলাই হয়েছিল বাংলাদেশ।  শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচের শেষ সিরিজটির ফলাফল ছিল ১-১। আফগানিস্তান তুখোড় টি ২০ দল।  বাংলাদেশ এই ফরম্যাটে এখন পায়ের নিচে মাটি খুঁজে পাচ্ছে।  দুই ম্যাচের সিরিজটিতে তাই ফেভারিট আফগানিস্তান।

বাংলাদেশ স্কোয়ার্ডস: সাকিব আল হাসান ( অধিনায়ক), লিটন কুমার দাস (উইকেট রক্ষক), রনি তালুকদার, নাজমুল হোসাইন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, শামীম হোসাইন, মেহেদি হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসাইন, আফিফ হোসাইন ধ্রুব।

বাংলাদেশ স্কোয়াডে তামিম, মুশফিক। মাহমুদুল্লাহ নানা কারণে নেই। ওদের অবর্তমানে যারা যারা দলে আছেন তাদের আফগানিস্তানের তুখোড় বোলিংয়ের বিরুদ্ধে অগ্নিপরীক্ষা হবে। সাকিব, লিটন, শান্ত, মিরাজকে অনেক দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। হয় তাওহীদ হৃদয়, শামীম হোসাইন মানিয়ে নিতে পারে।

আফগানিস্তানের এই দলে রাশিদ খান, মুজিব উর রহমান, মোহাম্মদ নবীর মত তিন জন বিশ্বমানের স্পিন বলার আছে। উদীয়মান বাম হাতি স্পিনার নূর আহমেদ নতুন সংযোজন। ওডিআই সিরিজে ফজল হক ফারুকী সেরা খেলোয়াড় হয়েছে। বাংলাদেশ দুটি ম্যাচে অন্তত ১৬০ রান করতে বার্থ হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টি করতে পারবে না। টপ অর্ডার ভালো শুরু না করলে মিডল অর্ডার রাশিদ, মুজিবের সামনে বিপদে  পড়বে।

আফগানিস্তান  স্কোয়াড: রাশিদ  খান ( অধিনায়ক), রামানুল্লাহ  গুরবাজ (উইকেট রক্ষক), হাজরাতুল্লাহ জাজাই, মোহাম্মদ শেহজাদ, ইব্রাহিম জাদরান, মোহাম্মদ নবি, নাজবুল্লাহ জাদরান, সাদিক আতাল, করিম জানাত, আজমাতুল্লাহ আমারজাই, ফাজালহক ফারুকী, নিঝাত মাসুদ, ওফাদার মোমান্ড, ফরিদ আহমদ মালিক, নূর আহমেদ এবং মুজিব উর রহমান।

আফগান দলের পেস এবং স্পিন আক্রমণ অনেক ব্যালান্সড।  যে কোনো দলের জন্যই রাশিদ খান, মুজিব, নবি, নূর আহমেদকে খেলা কঠিন। যোগ করুন ফজল হক ফারুকী এবং উদীয়মান তরুণ ওফাদার মোমান্ডকে।  আফগানিস্তান ব্যাটসম্যানরা ১৬০ রান করলে সেই রান ডিফেন্ড করার মতো তুখোড় বোলিং ওদের আছে। তবে ওদের গুরবাজ এবং জাজাইকে ভালো সূচনা দিতে হবে। মারকুটে সেজাদ, ইব্রাহিম জাদরান, নাজিবুল্লাহ জাদরান, নবী এমনকি রাশিদ থাকায় টি ২০ ফরম্যাটে ব্যাটিং গভীরতা আছে।

আমরা জানি বাংলাদেশ কিন্তু ইংল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড দলের বিরুদ্ধে দেশের মাটিতে সিরিজ জিতেছে। তবে ওই দুইটি দলের থেকেও আফগানিস্তান উন্নত এই ফরম্যাটে অনেক শক্তিশালী। বাংলাদেশের ভালো খেলেই সিরিজে টিকে থাকতে হবে।

সালেক সুফী: আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিশ্লেষক

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

five × four =