‘চলচ্চিত্র পরিবার’ অকার্যকর, আলমগীরের নেতৃত্বে আহ্বায়ক কমিটি

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৮টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘চলচ্চিত্র পরিবার’। অনেক আগে থেকেই চলচ্চিত্রের নানা সংকট ও সমস্যা সমাধানের জন্য একজোট হয়ে চলচ্চিত্রের মানুষদের নিয়ে এই পরিবারের যাত্রা। কখনো এর নেতৃত্বে ছিলেন নায়করাজ রাজ্জাক, কখনো বা সোহেল রানা, ফারুকেরা।

২০১৭ সালে চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুককে আহ্বায়ক করে এ পরিবার নতুন করে যাত্রা করে। মূলত যৌথ প্রযোজনার সিনেমা নির্মাণ ও বিদেশি ছবি আমদানিতে অনিয়মের প্রতিবাদে এই পরিবারের জন্ম। এরপর চলচ্চিত্রের নানা সংকটে এই পরিবারকে ভূমিকা রাখতে দেখা গেছে।

সম্প্রতি শিল্পী সমিতির নির্বাচনে চলচ্চিত্রের মানুষদের এফডিসিতে প্রবেশ করতে না দেয়া ও সিনেমার উন্নয়নমূলক বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়ে আবারও সক্রিয় হয়েছিল চলচ্চিত্র পরিবার। তবে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতিকে নিয়ে এবার ১৯ সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত হলো আহ্বায়ক কমিটি। চলচ্চিত্রের উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করবে এই কমিটি।এর মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র পরিবারের কার্যক্রম বন্ধ হলো। এখন থেকে চলচ্চিত্রের সার্বিক সমস্যা সমাধানে কাজ করবে এই আহ্বায়ক কমিটি।

গত বুধবার, ৯ মার্চ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির স্টাডি রুমে এক জরুরি বৈঠকে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে আহ্বায়ক নির্বাচিত হয়েছেন দেশের কিংবদন্তি অভিনেতা আলমগীর।

তার নেতৃত্বে কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র গ্রাহক সংস্থার সভাপতি আব্দুল লতিফ বাচ্চু, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি সাহেনুর রহমান সোহান চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক খোরশেদ আলম খসরু, চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি কাজী শোয়েব রশিদ।

এই কমিটিতে সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনজন। তারা হলেন চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব শাহীন সুমন, চলচ্চিত্র গ্রাহক সংস্থার মহাসচিব আসাদুজ্জামান মজনু এবং শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ আক্তার।

চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির অর্থসচিব মো. সালাহউদ্দিন এই কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে কাজ করবেন। চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক মো. সামসুল আলম, চলচ্চিত্র পরিচালক বদিউল আলম খোকন সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক মােহাম্মদ হােসেন, চলচ্চিত্র পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, শাহ আলম কিরণ ও মুশফিকুর রহমান গুলজার উপদেষ্টা পদে আছেন।

এ কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য পদে আছেন ফিল্ম এডিটরস গিল্ডের সভাপতি আবু মুসা দেবু, সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সহকারী পরিচালক সমিতি (সিডাব) এর সভাপতি কাজী মনির, সাধারণ সম্পাদ আবুল বাশার খন্দকার, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রর্দশক সমিতির মহাসচিব মো. উজ্জ্বল।

চলচ্চিত্র উৎপাদন ব্যবস্থাপক সমিতি থেকে আছেন সভাপতি মো. সালাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম, চলচ্চিত্র নৃত্য পরিচালক সমিতি থেকে সভাপতি আজিজ রেজা ও মহাসচিব ইমদাদুল হক খোকন, চলচ্চিত্র লেখক সমিতির সভাপতি জামান আখতার ও মহাসচিব সানি আলম।

স্থিরচিত্র গ্রাহক সমিতির সভাপতি জি.ডি পিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হােসেন, চলচ্চিত্র রূপসজ্জাকর সমিতি সভাপতি শামসুর ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আলী বাবুল, সাধারন সম্পাদক, চলচ্চিত্র অঙ্গ সজ্জাকর সমিতির সভাপতি মো. নাজিম ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল, চলচ্চিত্র উৎপাদন সহকারী ব্যবস্থাপক সমিতির সভাপতি মো. স্বপন ও সাধারণ সম্পাদক মো. লোকমান।

মারপিট সমিতি থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সভাপতি মো. আরমান ও সদস্য সচিব আতিকুর রহমান চুন্নু, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্প নির্দেশক সমিতির সভাপতি উত্তম গুহ ও সাধারণ সম্পাদক মো. ফরিদ, চলচ্চিত্র লাইট সরবারহ মালিক সমিতির প্রতিনিধি হিসেবে আছেন সালাম, চলচ্চিত্র সহকারী চিত্রগ্রাহক সংস্থা থেকে আছেন সভাপতি মো. বশির হোসেন ও মহাসচিব কামরুল ইসলাম টিপু। ফিল্ম ক্লাব লিমিটেড থেকে আছেন সভাপতি কামাল মোহাম্মদ কিবরিয়া লিপু ও মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার এম এ রহমান জাহান।

আহ্বায়ক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই তারা মিটিংয়ে বসে দেশের সিনেমার হল পরিস্থিতি, সিনেমার নানা রকম সংকট সমাধানে পরিকল্পনা করবেন।চলচ্চিত্র পরিবারের হয়ে সর্বশেষ অভিনেতা জায়েদ খানকে বয়কটের সিদ্ধান্ত এসেছে। শিল্পী সমিতির নির্বাচনের দিন ভোটার শিল্পী ছাড়া আর কাউকে এফডিসিতে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এ বিষয়টিকে চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কালো অধ্যায় বলে অভিহিত করছেন চলচ্চিত্র পরিবারের নেতৃবৃন্দরা। তারা এই ঘটনার পেছনে জায়েদ খানের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন।

জাগো নিউজ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

twelve − 5 =