ছন্নছাড়া ক্রিকেট খেলে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ শূন্য হাতে ঘরে ফিরছে

নিজেদের বাঁচা মরার ম্যাচে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৭ উইকেটের হতাশাজনক পরাজয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছে বাংলাদেশ। খেলাধুলোয় জয় পরাজয় স্বাভাবিক পরিণতি, কিন্তু কিছু পরাজয় মেনে নিতে কষ্ট হয়। নিজ দলের কিছু খেলা অনেক প্রশ্ন রেখে যায়।

সংযুক্ত আরব এমিরেটসে অনুষ্ঠিত তিন জাতির ওডিআই ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন না হলেও নিদেনপক্ষে ফাইনাল খেলবে এতটুকু প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশের ভক্ত অনুরাগীরা। কিন্তু প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ে আর কাল যেভাবে আফগানিস্তানের সঙ্গে নাকানি চুবানি খেয়ে পরাজিত হলো বাংলাদেশ সেটি সবাইকে দারুন হতাশ করেছে। ফাইনাল খেলতে হলে বাংলাদেশকে একটি নির্দিষ্ট ব্যবধানে আফগানিস্তানকে হারাতে হতো।

টস জয়ী হয়ে বাংলাদেশ অনেকটা প্রাথমিক সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। কিন্তু বিধি বাম। টপ অর্ডারের মেরুদণ্ডহীন ব্যাটিংয়ে ৬.৬ ওভারে ২৮ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সেখান থেকে রুখে দাঁড়িয়ে সাইফ হাসান ( ৪১) আর পারভেজ হোসেন ইমন (৭০) রান করে দলের স্কোর কিছুটা ভদ্রজনক ১৬০ করে।

কিন্তু আফগানের তুখোড় মারকুটে ব্যাটসম্যানদের এই সামান্য টার্গেটে সীমিত করার সামর্থ বাংলাদেশ বোলারদের ছিল না, পারেওনি। অনেকটা হেসেখেলে ৩৫.৩ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে ১৬১ তুলে ৭ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয় আফগানিস্তান। দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্টস নিয়ে আফগান দল এখন ফাইনাল খেলবে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে ৯৯ রানে হারানো জিম্বাবুয়ে দলের বিরুদ্ধে। হতাশ বিপর্যস্ত বাংলাদেশ শূন্য হাতে ঢাকা ফিরে আসার বিমানে উঠবে।

সবাই স্বীকার করবেন যেভাবে খেলছে এখন বাংলাদেশ দল সেখান থেকে বাংলাদেশের পক্ষে কোন দলের বিরুদ্ধে জয় পাওয়ার আশা করে দুরাশা। চাল চুলোহীন দলটির ব্যাটিং বোলিং সবকিছু অজানা কারণে ছন্দহীন হয়ে পড়েছে। কেন জানি দলের রসায়ন ভারসাম্যহীন বলে দৃশ্যমান। যেন আতংক সবার মাঝে। নাহিদ রানা বিশ্রামে। অধিনায়ক লিটন কুমার দাস টুর্নামেন্ট শুরুর প্রাক্কালে আহত হয়ে ছিটকে পড়েছে। কিন্তু দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় এইতো কিছু দিন আগেও নিয়মিত ওডিআই ক্রিকেটের সফল খেলোয়াড়। কেন এমন ছন্দপতন?

কাল টস জয় করে ব্যাটিং সূচনার শুরুতেই দুর্দান্ত আফগান ঝড়ে লন্ডভন্ড হয় বাংলাদেশের টপ অর্ডার। ইয়ামিন আহমেদজাই আর আজমাতুল্লাহ ওমরজাই তাণ্ডবে তামিম (১) , সৌম্য সরকার (০), শান্ত (১৫), তাওহীদ হৃদয় (০) রানে বিদায় নিলে ৬.৬ ওভারে দল ২৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে। শংকা জাগে বাংলাদেশ শত রানের কোঠা পেরুতে পারবে কিনা।

যা হোক দেয়ালে পিঠ রেখে লড়াই করে সাইফ হাসান আর পারভেজ ইমন। ৫ম উইকেট জুটির দৃঢ়তায় যোগ হয় মূল্যবান ৯৩ রান। দলের বিপর্যয় সামাল দিয়ে দলকে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দিতে পারেনি সাইফ (৪১) বা ইমন (৭০)। বাংলাদেশ ইনিংস সাঙ্গ হয় ১৬০ রানে। বাংলাদেশের মিডেল আর লেজ রশিদ খানের ( ৪/৩১) মত বিশ্বসেরা স্পিনারকে সামাল দিতে পারেনি। আর শুরুতে কাজের কাজটি করেছিল ইয়ামীন আহমেদজাই (২/২১) আর আজমাতুল্লাহ ওমরজাই (২/২৭)। বাংলাদেশের ৮ জন ব্যাটসম্যান দুই অংকের স্কোরে পৌঁছাতে পারেনি।

১৬০ রানে  আফগান দলের তুখোড় ব্যাটিং সীমিত রাখার সামর্থ্য নেই বাংলাদেশ দলের। বাংলাদেশ যদিও শুরুতে রামানুল্লাহ গুরবাজ (৬) আর সেদিকুল্লাহ অতলকে ( ৪) দ্রুত ফিরিয়েছিল তাসকিন। ঠান্ডা মাথায় ধীরস্থিরভাবে ব্যাটিং করে রাহমাত শাহ ( ৬৭*) আর হাসমাতুল্লাহ শাহিদী (৩৬*) অবিচ্ছিন্ন ৫ম উইকেট জুটিতে ৭৬ রান যোগ করে আফঘানিস্তানকে ৭ উইকেটের বিশাল জয় এনে দেয়।

আমি দুই ম্যাচে বাংলাদেশের উপুর্যপুরি দুটি শোচনীয় পরাজয়ের জন্য খেলোয়াড়দের পাশাপাশি টিম ম্যানেজমেন্টকে দায়ী করবো। বাংলাদেশ দলের খেলায় আদৌ কোন পরিকল্পনার ছাপ দেখিনি। কেমন যেন দায়সারা ভাব। জয়ের জন্য কোন উৎসাহ উদ্দীপনা ছিল না। হতাশ একটি দলের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ  খেলার জন্য দেশে অপেক্ষা করছে ভিন্নরূপে আবির্ভুত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। জানিনা দ্রুত দলটি তিন জাতি টুর্নামেন্টের দুঃস্বপ্ন থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে কিনা? যাই হোক বাংলাদেশ দলের ব্যার্থতার জন্য বিসিবি টিম মানাজেমেন্টের জবাবদিহি চাইতেই পারে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড

বাংলাদেশ ১৬০ অল আউট (পারভেজ হোসেন ইমন ৭১, সাইফ হাসান ৭০, রাশিদ খান ৪/৩১, ইয়ামিন আহমেদজাই ২/২১, আজমাতুল্লাহ ওমারজাই ২/২৭)

আফগানিস্তান ১৬১/৩ (রহমাত শাহ ৬৭* , হাসমাতুল্লাহ শাহিদী ৩৬*, ইব্রাহিম জাদরান ৩৪, তাসকিন আহমেদ ২/ ৩৬)

ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়: রাশিদ খান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eight + 9 =