জীবন খাতা থেকে ঝরে গেলো আরো একটি বছর

সালেক সুফী

ঊনসত্তর পেরিয়ে সত্তর এসে গেলো। বাঙালির গড় আয়ু অতিক্রান্ত হয়েছে। মহান আল্লাহ তালা সুস্থ শরীরে এই সুন্দর পৃথিবীর রূপ সুষমা উপভোগ করার সুযোগ দিয়েছেন তার জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা। জানিনা আর কতদিন মহান আল্লাহতালা সুযোগ দিবেন বেঁচে থাকার। জীবনের গোধূলি বেলায় কত স্মৃতি মনে পড়ে। বাংলাদেশের ঝালকাঠি নদীর পারে একটি ছোট্ট কুটিরে আজ থেকে ৭০ বছর আগে জন্ম নিয়ে অন্তত ৪০টি দেশ ঘুরে দেখার সুযোগ হয়েছে।কয়েক হাজার মানুষের ঘনিষ্ট সংস্পর্শে এসেছি।

হিমালয়, হিন্দুকুশ, মাউন্ট ফুজিয়াম, এন্ডিস দেখেছি। প্রশান্ত, আটলান্টিক, ভারত মহাসাগর, দক্ষিণ মহাসাগর দেখেছি। কত বিচিত্র মানুষের ঘনিষ্ট সান্নিধ্যে এসেছি। শিখেছি, জেনেছি অনেক কিছুই। আল্লাহতালা অনেক সুযোগ দিয়েছেন। অনেকটা পরিস্থিতির কারণেই প্রবাসজীবন ২০ বছর হতে চলেছে। কোন অভিযোগ নেই কারো বিরুদ্ধে। মাঝে মাঝে খারাপ লাগে পেশাদার জীবনের সেরা সময়টা বাংলাদেশের জন্য সরাসরি অবদান রাখতে না পারার জন্য। হয়ত আমার অবস্থানের কারণে জ্বালানি সংকট এতো ভয়াবহ রূপ নিতো না।

গত এক বছরে কুইন্সল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাপক ভাবে ঘুরেছি পাহাড়, সাগর, নদী, বন বনানীর মাঝে। অস্ট্রেলিয়ায় নাতি নাতনির সাথে খুনসুটি করে সময় কাটে। ছেলে দুইজন শুভ্র ও অভ্র আমাদের কাছাকাছি থাকে। এখানে অবসর কাটে নিয়মিত প্রার্থনা, ক্রিকেট এবং নানাবিষয় নিয়ে লেখালিখি আর ঘোরাঘুরিতে। অনেক দিন শুভ্রর সাথে গেছি ওর কাজের সুবাদে দক্ষিণ পূর্ব কুইন্সল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায়।

কিছুদিনের জন্য বাংলাদেশ থেকে বিদ্যুৎ সেক্টরের ১৭ জন সিনিয়র প্রকৌশলি প্রশিক্ষণে আসায় ওদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি মেলবোর্ন এবং ব্রিসবেনে। ২০২৩ নভেম্বর থেকে ২০২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ছিলাম। এবার রাজনৈতিক পরিস্থিতি টালমাটাল থাকায় ঢাকার বাইরে খুব একটা যাওয়া হয়নি। তবে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি সেক্টরের অধিকাংশ কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলিত হয়ে সেক্টর পরিচালনার চ্যালেঞ্জগুলো উপলব্ধি করেছি।

বিপিএমআই,  এনডাব্লুপিজিসিএল, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জিটিসিএল, বিজিডিসিএল, বাপেক্স, পেট্রোবাংলার সঙ্গে ঘনিষ্ট ভাবে আলোচনা করেছি। বুয়েট এবং আইএইবিতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে যোগদান করে মত বিনিময় করেছি। পিজিসিবি জাতীয় লোড ডেসপাচ সেন্টার এবং ডিপিডিসি স্কাডা সেন্টার পরিদর্শন করেছি।

বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ফুটবল এবং শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ক্রিকেট দেখেছি। ক্রিকেট, জ্বালানি নিয়ে অনেক প্রতিবেদন লিখেছি। বন্ধুর কোম্পানির কর্মকর্তাদের জন্য কয়েকটি প্রশিক্ষণ সেশন নিয়েছি। জানুয়ারি ২০২৩ থেকে ফেব্রুয়ারির শুরু কয়েকদিন বন্ধুর কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন সফর উপভোগ করেছি।

অস্ট্রেলীয়ায় ফিরে ৫টি কোভিড ভ্যাকসিন নেওয়া সত্ত্বেও আবারো সংক্রমণে পড়েছি। যাহোক এখন সুস্থ। রোজা, তারাবি ভালোভাবে কেটে গেলো। রোজী ২৬ রোজা আমাদের সাথে থেকে ৯ বছর পর বাংলাদেশে যাওয়ার পর একাকী আছি বিশাল বাসায়। মাঝে মাঝে নাতি, নাতনি আসে। দুইজন স্কুলে যায়। ওদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখি। প্রতিদিন কিছু লিখতে চেষ্টা করি।

কত ইচ্ছা হয় দেশে ফিরে জীবনের বাকি সময় বাংলাদেশে কাটাই। যদি একটি সুন্দর গ্রামে শান বাঁধানো পুকুর সহ বাসা থাকতো নীরবে কেটে যেত বাকি সময়। হয়ত কোন স্কুলে বাচ্চাদের পড়াতাম। বাকি সময় লেখালিখি করতাম। নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে দেশ সেবা করতাম। হয়তো এটি স্বপ্ন হয়েই থাকবে। একসময় পাড়ি জমাবো না ফেরার দেশে। শুভ কামনা সবার জন্য।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

four × 4 =