টি২০ বিশ্বকাপ: ক্রিকেট জননীর দেশ ইংল্যান্ড অন্যতম শীর্ষ ফেভারিট দল

সালেক সুফী

আধুনিক বিশ্ব ক্রিকেটে নানা কারণেই অস্ট্রেলিয়া, ভারতের সঙ্গে একটি সঙ্গে উচ্চারিত হয় ক্রিকেট জননী ইংল্যান্ডের নাম। ক্রিকেট অবকাঠামো, উন্নত মানের ঘরোয়া ক্রিকেট, বিশ্বজুড়ে ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ইংলিশ ক্রিকেটারদের দাপটের বিবেচনায় সীমিত ওভার ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ড এখন টুর্নামেন্টের আগে শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার বিবেচিত হয়। এবারের টুর্নামেন্টে কোন দল শীর্ষ ছারে শেষ করবে সেই আলোচনায় অধিকাংশ বিশ্লেষক ইংল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করছে।

পেশাদার ক্রিকেট, ক্রিকেটে প্রযুক্তি বিবেচনায় নিয়ে বিবেচনায় নিলে ইংল্যান্ডকে অবস্যই এগিয়ে রাখতে হবে। তবে সংক্ষিপ্ততম ভার্শনের সাদা বল ক্রিকেট অনেক ক্ষেত্রেই জুয়া খেলার মতো। আর জুয়া খেলায় কখনো হারাবেন কখনো জিতবেন। নিশ্চিত করে বলা যাবে না কখন কোন দলের ভাগ্যের দুয়ার খুলে যাবে। বিশ্বকাপ সামনে রেখে পাকিস্তানে বিরুদ্ধে প্রস্তুতি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে আইপিএল ২০২৪ খেলতে থাকা ইংলিশ ক্রিকেটারদের ডেকে পাঠানো থেকে বোঝা যায় শিরোপা জয়ের জন্য কতটুকু বেপরোয়া ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ড।

ইংলিশ স্কোয়াড: জস বাটলার (অধিনায়ক), ফিল সল্ট, বেন ডাকেট, জনি বেয়ারস্টো, উইল জ্যাক, হ্যারি ব্রুক, মঈন আলী, স্যাম কুরান, লিয়াম লিভিংস্টোন, জোফরা অরচার, মার্ক উড, রিসি টোপলি, ক্রিস জর্ডান, আদিল রাশিদ।

স্কোয়াডের অধিকাংশ সদস্য বিশ্ব টি২০ পরিসরে পরিচিত মুখ।  ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং সবক্ষেত্রেই তুখোড় পেশাদারি নাম তবে বলতে পারেন যতটা ভাবা হয় অস্ট্রেলিয়া বা ভারতের মতো শীর্ষ স্থান নিয়মিত অর্জন করেনি ইংল্যান্ড। অধিকাংশ টুর্নামেন্টে সাড়া জাগিয়ে একটি পর্যায়ে এসে কক্ষচ্যুত হয় ইংরেজ সিংহ।

দলে যেমন আছে জনি বেয়ারস্টো, জস বাটলার, উইল জ্যাক,   হ্যারি ব্রুক, মতো ধুমধাড়াক্কা ব্যাটসম্যান, ঠিক তেমনি আছে স্যাম কুরান, মঈন আলী, আদিল রশিদ, লিয়াম লিভিংস্টোনের মতো তুখোড় চৌকষ খেলোয়াড়।  আর্চার, উড, জর্ডান, টপলির মতো উঁচু মানের পেস বোলারদের পাশাপাশি আছে মঈন আলী, আদিল রশিদের মতো উইকেট টেকিং বলার। ইংল্যান্ড কতদূর যাবে এই টুর্নামেন্টে সেটি নিখুঁত ভাবে বলা মত মানুষ কম থাকলেও এই দল শেষ চারে শেষ করবে এমন ভবিষৎবাণী দেওয়ার মোট ক্রিকেট বিশ্লেষক পাওয়া যাবে ক্রিকেট বিশ্ব জুড়ে।

গ্রুপ বি তে ইংল্যান্ডের সঙ্গী চিরচারিত প্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও অপেক্ষাকৃত দুর্বল নামিবিয়া, ওমান এবং স্কটল্যান্ড। নিতান্তই কোন দৈব অঘটন না ঘটলে ইংল্যান্ড হেসে খেলে দ্বিতীয় রাউন্ডে উন্নীত হওয়ার কথা। বাধা হতে পারে স্কটল্যান্ড। নামিবিয়াকেও তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা ভুল হতে পাড়ে।  দ্বিতীয় রাউন্ডে তুখোড় প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়াই করার মতো পেশাদারী দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং মানসম্পন্ন খেলোয়াড়দের গভীরতা দলে আছে।

আমি আস্থার সাথেই বলতে পারি ইংল্যান্ড শেষ চারে স্থান নেওয়ার দাবিদার। মাঠের ফলাফল কি হবে নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট দলের জ্বলে ওঠার উপর নির্ভর করবে। কুড়ি বিশ ক্রিকেটে বিস্ময় প্রতিনিয়ত দানা বাধে।  হয়ত কেউ কিছু কখনো ভাবেনি এমন কিছু ঘটে যায়। তবে এবারের ইংল্যান্ড অনেক তুখোড় দল এতটুকু বলতে দ্বিধা নেই কোনো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

seventeen − five =