টি২০ বিশ্বকাপ: দীর্ঘ খরার পর একপশলা বৃষ্টি হয়ে এলো বাংলাদেশের জয়

সালেক সুফী

প্রস্তুতি পর্বে ছন্নছাড়া থাকায় বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশের অনেক ভক্ত অনুরাগীরা সন্ধিহান হয়ে পড়েছিল। কঠিন গ্রুপে সূচনা ম্যাচটি আজ শ্রীলংকার বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ২ উইকেটে জিতে নিয়ে বাংলাদেশ এখন অনেক স্বস্তিতে।  যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অনুষ্ঠিত দিন রাতের খেলায় আজ বাংলাদেশ টস জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। স্মার্ট বোলিং এবং ফিল্ডিং করে বাংলাদেশ শ্রীলংকা দলের ইনিংস ১২৪/৯ সীমিত রেখেছিলো।

জবাবে টপ অর্ডার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়লেও নিজেকে ফিরে পাওয়া লিটন দাস (৩৬) এবং বিকশিত হতে থাকা তৌহিদ হৃদয় (৪০) হৃদয়গ্রাহী ব্যাটিং করে দলের সহজ জয়ের পথে নিয়ে যায়। সহজ জয় যখন হাতের মুঠোয় ঠিক তখনি হাসারাঙ্গা তৌহিদ হৃদয় এবং লিটনকে ফিরিয়ে ম্যাচটিকে কঠিন করে তুলেছিল। ৯১ থেকে ১১৩ মাত্র ২২ রানের ব্যাবধানে ৫টি উইকেট পড়ে যাওয়ায় একসময় পরাজয় বাংলাদেশকে চোখ রাঙাচ্ছিল। সৌভাগ্য উইকেটে ছিল শীতল স্নায়ুর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।  সহজ জয় কঠিন করে নিঃশ্বাসরোধী পরিস্থিতিতে ২ উইকেটে ম্যাচ জয় করে গ্রুপ পর্যায় থেকে পরবর্তী রাউন্ডে উন্নীত হবার মিশন অনেকটাই উজ্জ্বল করে ফেলেছে। জয়ে সৃষ্ট মোমেন্টাম ধরে রাখলে বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে জয়ী হলেও বিস্মিত হবো না।

টস জয় করে বাংলাদেশের বোলিং করার সিদ্ধান্ত ছিল স্মার্ট।  বাংলাদেশের প্রধান বোলার সাকিবকে ইচ্ছাকৃত ভাবে টার্গেট করেছিল শ্রীলংকান ব্যাটসম্যানরা।  অনেকদিন পর ফিরে এসে তাসকিন একটু অগোছালো থাকলেও মুস্তাফিজ ছিল তুখোড় ফর্মে। উপযোগী উইকেট পেয়ে বিচক্ষণতার সঙ্গে বোলিং করে ফিজ (৩/১৭)   শ্রীলংকা দলকে কোণঠাসা করে ফেলে।  বাংলাদেশের বিস্ময় তরুণ রিসাদ হোসেন (৩/২২) উইকেট নিলে মুস্তাফিজ-রিশাদ যুগল তোপে ২৪ রানে শেষ ৬ উইকেট হারায় শ্রীলংকা।  বিধ্বংসী বোলিংয়ের পাশাপাশি আগ্রাসী তুখোড় ফিল্ডিং করে বাংলাদেশ।

২০ ওভারে ১২৫ রান।  সহজ জয় আশা করা অমূলক ছিল না। কিন্তু আতঙ্ক ছিল টপ অর্ডার ব্যাটিং নিয়ে। সৌম্য সরকার, তানজিদ তামিম, নাজমুল শান্ত আনাড়ির মতো উইকেট বিলিয়ে দিলে ৫.২ ওভারে ৩২/৩ উইকেট হারানো বাংলাদেশ চাপে পড়ে।  অনেকদিন ফর্ম হীন থাকার পর আজ লিটন দাস নিজেকে ফিরে পেয়েছিল। মেধাবী তরুণ তাওহীদ হৃদয় শুরু থেকেই জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির মতো জ্বলছিল। চতুর্থ উইকেটে ৬৩ পার্টনারশিপ বাংলাদেশকে সহজ জয়ের পথে নিয়ে গিয়েছিল।

শ্রীলংকার দলনায়ক ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার বলে পর পর তিনটি প্রচণ্ড ছক্কা হাঁকানোর পর বিচক্ষণ লেগ স্পিনার তাওহীদ হৃদয় এবং লিটনকে ফিরিয়ে দিয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। ৯১ থেকে ১১৩ রানের ব্যাবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ জয় কঠিন করে তুলেছিল বাংলাদেশ। সৌভাগ্য বাংলাদেশের উইকেটে ছিল শীতল স্নায়ুর নীরব খুনি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ১৯ ওভার শেষে বাংলাদেশ জয়ের মঞ্জিলে পৌঁছে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশিদের জয়ের জোয়ারে ভাষার সুযোগ করে দিলো।

বাংলাদেশের স্মার্ট বোলিং, ফিল্ডিংয়ের সঙ্গে স্মার্ট ব্যাটিং যোগ করতে পারলে দলটির অর্জন স্বপ্নের সীমানায় পৌঁছে যেতে পারে। আপাতত শঙ্কা টপ অর্ডার ব্যাটিং। লিটন ফর্মে ফিরে আসা শুভ লক্ষণ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

five × three =