টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেরা ৫ ব্যাটার

অস্ট্রেলিয়ার প্রথমবারের মতো বিশ্ব জয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২১। আবারও হৃদয় ভেঙেছে নিউজিল্যান্ডের। ফাইনালে ডেভিড ওয়ার্নার আর মিচেল মার্শের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ভর করে প্রথমবারের মতো ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণের শিরোপা ঘরে তুলে শিরোপা কেবিনেটের ষোল কলা পূর্ণ করল অজিরা। এবারের বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হওয়া ডেভিড ওয়ার্নার তবে হতে পারেননি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকা।

১. বাবর আজম: পাকিস্তানের অধিনায়ক এবং উদ্বোধনী ব্যাটার বাবর আজম গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে দেখিয়েছেন তার ফর্মের ঝলক। সুপার টুয়েলভের পাঁচ ম্যাচ আর সেমিফাইনাল মিলিয়ে রান করেছেন ৩০৩। কোনো শতকের দেখা না পেলেও ছয় ম্যাচের মধ্যে চারটি ম্যাচেই হাঁকিয়েছেন অর্ধশতক। এই ছয় ম্যাচে ৬০.৬০ গড়ে, ১২৬.২৫ স্ট্রাইক রেটে বাবরের রান সংখ্যা ৩০৩। গোটা টুর্নামেন্টে বাবর চার মেরেছেন ২৮টি আর ছক্কার সংখ্যা মাত্র ৫টি।

২. ডেভিড ওয়ার্নার: বিশ্বকাপের আগে ফর্মহীনতায় ভুগছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। আইপিএলের দল থেকেও বাদ পড়েছিলেন ফর্মহীনতার কারণেই। তবে বিশ্বকাপেই আবার স্বরূপে ফিরেছেন এই ব্যাটার। সুপার টুয়েলভের পাঁচ ম্যাচ এবং সেমিফাইনাল মিলিয়ে মোট ছয় ম্যাচ খেলে করেন ২৩৬ রান। যেখানে আছে অপরাজিত ৮৯ রানেরও দুর্দান্ত এক ইনিংস। বড় মঞ্চে তাই অস্ট্রেলিয়ার ভরসা ছিল ওয়ার্নারের কাঁধেই। সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে তার দুর্দান্ত ইনিংসেই জয়ের পথ সুগম হয়েছিল অজিদের। এরপর ফাইনালে ম্যাচ জেতানো দুর্দান্ত আরও একটি ইনিংস খেলে দলকে এনে দিলেন প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা। ফাইনালে ৩৮ বলে ৫৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন এই উদ্বোধনী ব্যাটার। টুর্নামেন্টের ৭ ইনিংসে ব্যাট হাতে ওয়ার্নারের রান সংখ্যা ২৮৯। এই সাত ম্যাচে ৪৮.১৬ গড়ে, ১৪৬.৭০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছেন। গোটা টুর্নামেন্টে ওয়ার্নার চার মেরেছেন ৩২টি আর ছক্কার সংখ্যা ১০টি।

৩. মোহাম্মদ রিজওয়ান: বিশ্বকাপের আগে থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন পাকিস্তানের উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। আর সেই ফর্ম ধরে রাখেন বিশ্বকাপেও। সুপার টুয়েলভের পাঁচ ম্যাচে হাঁকিয়েছিলেন দুটি অর্ধশতক। এরপর সেমিফাইনালে খেললেন ৫২ বলে ৬৭ রানের দুর্দান্ত আরেকটি ইনিংস। এতেই উঠে এসেছিলেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকার দুইয়ে। সামনে ছিলেন কেবল স্বদেশী বাবর আজম। তবে ডেভিড ওয়ার্নার শেষ পর্যন্ত টপকে গেছেন রিজওয়ানকে। তাই তো টুর্নামেন্ট শেষে তার অবস্থান তিনে চলে গেছে। গোটা টুর্নামেন্টে ১২৭.৭২ স্ট্রাইক রেটে রান সংগ্রহ করেছেন ২৮১। যেখানে তার রানের গড় ৭০.২৫।

৪. জশ বাটলার: সুপার টুয়েলভে একটি শতকের সঙ্গে পাঁচ ম্যাচে বাটলারের নামের পাশে রান সংখ্যা ছিল ২৪০। এরপর সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেননি। আউট হয়ে ফিরেছেন মাত্র ২৯ রান করে। তার ব্যাট হাসেনি আর দলও পেরোতে পারেনি সেমিফাইনালের গণ্ডি। শেষ পর্যন্ত বাটলার বিশ্বকাপের ইতি টেনেছেন ২৬৯ রান করে। আর এতেই সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় তিনি অবস্থান করছেন চারে। গোটা টুর্নামেন্টে ৮৯.৬৬ গড়ে আর ১৫১.১২ স্ট্রাইক রেট ব্যাট করেছেন বাটলার। টুর্নামেন্ট জুড়ে হাঁকিয়েছেন ১৩টি ছক্কাও। এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি। আছে ২২টি চারও।

৫. চারিথ আসালাঙ্কা: বাছাইপর্বের পর সুপার টুয়েলভেও ব্যাট হেসেছে শ্রীলংকা ব্যাটার চারিথ আসালাঙ্কার। দুর্দান্ত ব্যাটিং এবারের বিশ্বকাপের পঞ্চম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছেন তিনি। দল সুপার টুয়েলভের গণ্ডি পেরোতে পারলে রান সংখ্যায় আরও এগোনোর সুযোগও ছিল তার কাছে। তবে শক্ত গ্রুপ-১ থেকে সেমিফাইনালের টিকিট কাটা সহজ ছিল না। শেষ পর্যন্ত ওই সুপার টুয়েলভেই যাত্রা শেষ হয়েছে তাদের। টুর্নামেন্ট জুড়ে মোট ছয় ম্যাচে ২৩১ রান করেছেন আসালাঙ্কা। নামের পাশে আছে দুটি অর্ধশতকও। ৪৬.২০ গড়ে এবং ১৪৭.১৩ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছেন গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে। নামের পাশে ২৩টি চারের সঙ্গে সঙ্গে আছে ৯টি ছক্কাও।

সারাবাংলা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 × four =