তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ‘থালাপতি’ বিজয়

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শিল্পসমৃদ্ধ রাজ্য তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রোববার শপথ নিয়েছেন চলচ্চিত্র তারকা সি. জোসেফ বিজয় ওরফে ‘থালাপতি’ বিজয়। তার নতুন দল জোট গঠন করতে সক্ষম হওয়ার পর তিনি রাজ্যটির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। খবর বাসস

রাজ্যের রাজধানী চেন্নাইয়ে কয়েকদিনের রাজনৈতিক নাটকীয়তার পর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের পর বিজয়ের নবগঠিত দল টিভিকে প্রথমদিকে ছোট দলগুলোর সমর্থন পেতে হিমশিম খাচ্ছিল।

মাত্র দুই বছর আগে গঠিত বিজয়ের দল টিভিকে তামিলনাড়ুর ২৩৪ সদস্যবিশিষ্ট বিধানসভায় ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। তবে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসনের চেয়ে তা কম ছিল।

পরে বিরোধী দল ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসসহ কয়েকটি দলের সমর্থন পেয়ে দলটির আসনসংখ্যা ১২০-এ পৌঁছায়। এতে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথ সুগম হয় বিজয়ের।

রোববার চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে হাজারো সমর্থক জড়ো হন। তারা ‘মুধালভার’ অর্থাৎ তামিল ভাষায় ‘মুখ্যমন্ত্রী’ স্লোগান দিয়ে বিজয়ের শপথ গ্রহণ প্রত্যক্ষ করেন।

৫১ বছর বয়সী বিজয় সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক রাজবংশ থেকে আসিনি, আমি একজন সাধারণ মানুষ।’

তিনি বলেন, ‘আমার প্রধান লক্ষ্য হবে শিক্ষা, রেশন সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি, সড়ক ও বাসসেবার মতো মৌলিক বিষয়গুলো।’

বিজয়ের প্রথম দফার নীতিগত পদক্ষেপের মধ্যে বিদ্যুতের দাম কমানো এবং নারীদের নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ রয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিজয়কে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার তার প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করে ‘জনগণের জীবনমান উন্নয়নে’ সহযোগিতা করবে।

খ্রিষ্টান বাবা ও হিন্দু মায়ের সন্তান বিজয় ১৯৮৪ সালে তার চলচ্চিত্র নির্মাতা বাবার পরিচালিত একটি সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় শুরু করেন।

আকর্ষণীয় পর্দা উপস্থিতি ও ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে ভক্তরা তাকে ‘থালাপতি’ বা ‘নেতা’ উপাধি দেন। অ্যাকশন, সামাজিক বার্তা ও জনমুখী বিষয়বস্তুর সমন্বয়ে নির্মিত তার সুপারহিট চলচ্চিত্রগুলো তাকে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

কৃষকদের সমস্যা থেকে শুরু করে নির্বাচনী কারচুপির মতো নানা বিষয়ভিত্তিক চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে নিজের জনমুখী ভাবমূর্তি গড়ে তোলেন। দুর্নীতি দূর ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে ২০২৪ সালে তিনি টিভিকে গঠন করেন।

তামিলনাড়ু ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র। রাজ্যটির শিল্পখাতে গাড়ি থেকে ইলেকট্রনিক পণ্য পর্যন্ত বিভিন্ন সামগ্রী উৎপাদিত হয়। এছাড়া এটি ভারতের স্মার্টফোন উৎপাদনের কেন্দ্র, যেখানে অ্যাপলের আইফোনও তৈরি হয়।

টিভিকের নির্বাচনী প্রচারণার লক্ষ্য ছিল ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিক থেকে রাজ্য শাসন করা ঐতিহ্যবাহী দল দ্রাবিড়া মুন্নেত্রা খাজাগাম এবং অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড়া মুন্নেত্রা খাজাগামের আধিপত্যের অবসান ঘটানো।

বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের বিপুল ভক্তসমর্থন এবং তরুণদের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের চাহিদাই তার বিস্ময়কর নির্বাচনী সাফল্যের মূল কারণ।

তবে রাজনৈতিক নবাগত বিজয়ের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই জনপ্রিয়তাকে কার্যকর নীতিতে রূপ দেওয়া।

তার নির্বাচনী সমাবেশগুলোতে হাজারো সমর্থকের উপস্থিতি দেখা গেলেও, জনসমাগম ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনার অভিযোগও ওঠে। গত সেপ্টেম্বরে একটি সমাবেশে পদদলিত হয়ে অন্তত ৪০ জন নিহত হন। তবুও এতে তার জনপ্রিয়তায় বড় কোনো প্রভাব পড়েনি।

নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষক এএফপিকে বলেন, ‘যখন কারও ব্যক্তিপূজা তৈরি হয়, তখন মানুষ আর কোনো প্রশ্ন তোলে না।’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

19 + 14 =