নতুন মোড়কে ফিরছে পুরোনো সিনেমা

বলিউডে কোনো সিনেমা হিট হলে সেই ফর্মুলায় একাধিক সিনেমা তৈরি হয়। ফলে সিক্যুয়েলের ধারণা এ ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, সিনেমা হিট হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই তৈরি হয় তার সিক্যুয়েল। তবে গত বছর ‘গাদার টু’ দিয়ে বলিউডে নতুন উদাহরণ তৈরি করেন সানি দেওল। ‘গাদার: এক প্রেম কথা’ মুক্তির ২২ বছর পর সিক্যুয়েল নিয়ে আসেন নির্মাতারা। ৬০ কোটির গাদার টু বক্স অফিসে প্রায় ৭০০ কোটি রুপি আয় করে। সিনেমাটির এমন সাফল্যে চমকে গিয়েছিলেন সবাই। সানি দেওল এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তিনি নিজেই গাদার টুর সাফল্যে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন।

গাদার টুর সাফল্যের পর অন্য হিট সিনেমার নির্মাতারাও নড়েচড়ে বসেছেন। ৩০-৩৫ বছর আগের সিনেমারও সিক্যুয়েল তৈরির ঘোষণা আসছে একের পর এক। পুরোনো গল্পের নতুন ভার্সন সঙ্গে নিয়ে ফিরছেন পুরোনো শিল্পীরা। সম্প্রতি ঘোষণা এসেছে ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘নায়ক: দ্য রিয়েল হিরো’র দ্বিতীয় পর্ব তৈরি হবে। এর মূল চরিত্রে ছিলেন অনিল কাপুর ও রানী মুখার্জি। দ্বিতীয় পর্বেও অনিল থাকবেন, এমন খবর মিলেছিল। গতকাল জানা গেল, রানীও থাকবেন নায়কের সিক্যুয়েলে। তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা প্রায় চূড়ান্ত।

কয়েক দিন আগে ‘সারফারোশ’ মুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করা হলো। সেখানে আমির খান জানিয়েছেন, সারফারোশ টু তৈরি হবে। তাতে আমির ও সোনালি বেন্দ্রে—পুরোনো জুটিই ফের দেখা দেবেন। আগের পর্বের গল্প যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখান থেকে শুরু হবে দ্বিতীয় পর্বের গল্প। নতুন মোড়কে পুরোনো সিনেমা ফিরিয়ে আনার এ তালিকায় রয়েছে সুভাষ ঘাইয়ের ‘খলনায়ক’-এর নামও। ১৯৯৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল খলনায়ক। ৩০ বছর পর তৈরি হতে চলেছে খলনায়ক টু। সিক্যুয়েলে সঞ্জয় দত্ত অভিনীত চরিত্র বলরামের বয়স দেখানো হবে ৫৫। এ চরিত্রে সঞ্জয় দত্ত যে চূড়ান্ত, তা জানিয়েছেন সুভাষ নিজেই।

গাদার টু দিয়ে সাফল্য পাওয়ার পর সানি দেওল নিজেই আবার অভিনয় করছেন ‘বর্ডার টু’ সিনেমায়। বর্ডার মুক্তি পেয়েছিল ১৯৯৭ সালে। তবে সিক্যুয়েলে সময়ের ব্যবধান থাকবে না। বর্ডার যে সময়ের গল্প, সেই টাইমলাইনেই তৈরি হবে বর্ডার টু। প্রথম পর্বে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে দেখানো হয়েছিল, এবার নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর অবদানও দেখানো হবে। বর্ডার টু সিনেমায় সানির পাশাপাশি আয়ুষ্মান খুরানাও থাকবেন।

অন্যদিকে ১৯৯৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আন্দাজ আপনা আপনা’র সিক্যুয়েল আনতে চাইছেন রাজকুমার সন্তোষি। এ সিক্যুয়েলে হয়তো আবার একসঙ্গে দেখা যেতে পারে আমির ও সালমান খানকে। পুরোনো হিট সিনেমার সিক্যুয়েলে দর্শকের আগ্রহ যে তৈরি হয়, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু পুরোনো সিনেমার গল্প, চিত্রনাট্য ও জুটির সেই ম্যাজিক আবার বড় পর্দায় তৈরি হবে কি না সেটাই দেখার বিষয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

six − four =