ফিলিস্তিনিদের জন্য তহবিল সংগ্রহে নেমেছেন হলিউড তারকা ও বিনোদন সাংবাদিকেরা

গাজায় জরুরি চিকিৎসা সহায়তায় তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন কয়েকজন ব্রিটিশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক ও নির্মাতা। ‘সিনেমা ফর গাজা’ শিরোনামের এই উদ্যোগ থেকে পাওয়া অর্থ পৌঁছে যাবে মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টিনিয়ানসের (এমএপি) তহবিলে। চলচ্চিত্র তারকাদের বিভিন্ন জিনিসপত্র নিলামে বিক্রি করে এ তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে।

দ্য হলিউড রিপোর্টারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত চলা নিলাম থেকে এখন পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৭৮ ডলার।

নিলামের জন্য ব্রিটিশ অভিনেত্রী টিল্ডা সুইন্টন, গায়ক ও গীতিকার অ্যানি লেনক্স, হলিউড অভিনেতা হোয়াকিন ফিনিক্স, পরিচালক ও প্রযোজক স্পাইক লি এবং পরিচালক গিলেরমো দেল তোরো বিভিন্ন জিনিসপত্র দান করেছেন।

নিলামে সবচেয়ে বেশি মূল্য পেয়েছে লেনক্সের লেখা পপ সংগীতের ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় গান ‘সুইট ড্রিমস’-এর হাতে লেখা কপি। একজন দরদাতা এর জন্য ২৬ হাজার ২২২ ডলার দিয়েছেন।

এদিকে, ‘দ্য জোন অব ইন্টারেস্ট’ নির্মাতা জোনাথন গ্লেজার তাঁর চলচ্চিত্রের সাতটি পোস্টার তহবিলে দান করেছেন। সেখানে তাঁর, সুরকার মিকা লেভি এবং প্রযোজক জেমস উইলসনের স্বাক্ষরিত ২০১৩ সালের চলচ্চিত্র ‘আন্ডার দ্য স্কিন’-এর পোস্টারও রয়েছে। সব মিলিয়ে নিলাম থেকে ১৩ হাজার ৭০২ ডলার সংগৃহীত হয়েছে।

তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগটি প্রথমে ব্রিটিশ নির্মাতা ও সাংবাদিকেরা শুরু করেন। তারকা দাতাদের মধ্যে ব্রিটিশ পরিচালক কেন লোচ, মাইক লে, আসিফ কাপাডিয়া ও জোয়ানা হগ, অভিনেতা হ্যারিস ডিকিনসন ও অ্যালিসন অলিভার প্রমুখ ছিলেন। এরপরই উদ্যোগটি দ্রুত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

গোল্ডেন গ্লোব জয়ী মিসরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন তারকা কমেডিয়ান ও নির্মাতা রামি ইউসুফ তাঁর লাইভ শোর পাশাপাশি ‘আফটার পার্টি’ এবং ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠানের টিকিট দান করেছেন। অস্কার বিজয়ী হোয়াকিন ফিনিক্স তাঁর স্বাক্ষরিত ‘জোকার’ পোস্টার দান করেছেন। অস্কার বিজয়ী মেক্সিকান নির্মাতা দেল তোরো স্বাক্ষরিত ছয়টি বই নিলামে বিক্রি করা হয়েছে।

প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সাড়া পাওয়া প্রসঙ্গে লন্ডনভিত্তিক চলচ্চিত্র সাংবাদিক এবং সমালোচক হানা ফ্লিন্ট হলিউড রিপোর্টারকে বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম, হয়তো সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ডলার সংগ্রহ করতে পারব।’

গাজায় ইসরায়েলের চলমান সামরিক হামলা শুরু হওয়ার কয়েক মাস পর ফ্লিন্ট চলচ্চিত্র-শিল্পে তাঁর বন্ধু হান্না ফার, জুলিয়া জ্যাকম্যান, লায়লা লতিফ, সোফি মঙ্কস কৌফম্যান এবং হেলেন সিমন্সের সঙ্গে ‘সিনেমা ফর গাজা’র উদ্যোগটির পরিকল্পনা করেন।

হানা ফ্লিন্টের কথায়, ‘আমরা নারীদের সমন্বয়ে খুব বৈচিত্র্যপূর্ণ একটি দল। আমাদের মধ্যে আছেন কৃষ্ণাঙ্গ নারী, ইহুদি নারী, মুসলিম নারী, খ্রিষ্টান নারী, নাস্তিক—যারা আমাদের সমর্থন দেখানোর জন্য বাস্তব কিছু করার তাগিদ থেকে একত্রিত হয়েছেন। গাজায় যে মানবিক সংকট চলছে এর জন্যই এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা।’

হানা ফ্লিন্ট আরও বলেন, ‘আমরা সত্যিই বিশ্বাস করি, সিনেমা হতে পারে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার, একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার, বিশ্ব সম্পর্কে কথা বলার, যা ঘটছে তা প্রতিফলিত করার। আমরা ভেবেছিলাম, আমাদের শিল্পের লোকদের একত্রিত হওয়ার জন্য এর চেয়ে ভালো উপায় আর কী হতে পারে! যারা ভালো নেই, তাদের সাহায্য করার চেষ্টা করতে হবে।’

সিনেমা ফর গাজার সমন্বয়কারী, মেডিকেল এইডের কমিউনিটি এবং চ্যালেঞ্জ ইভেন্ট ম্যানেজার জাহরা ইয়াসিন বলেন, ‘তারকাদের এই ক্ষমতা অবিশ্বাস্য। সত্যি বলতে, কিছু মানুষ শুধু ব্যাপারগুলো গ্রাহ্যই করেন না, তাঁরা সত্যিই সক্রিয়ভাবে অংশও নিতে চান। মানুষকে সহায়তার জন্য তাঁদের কিছু করতে চাওয়ার এ আগ্রহ আমাদের মন ছুঁয়ে গেছে। এটি অবিশ্বাস্য!’

ইয়াসিন আরও বলেন, ‘সংগ্রহ করা সব অর্থ সরাসরি গাজার মেডিকেল এইডের তহবিলে পৌঁছে যাবে।’

উত্তর গাজায় একমাত্র বেসরকারি সংগঠন (এনজিও) হিসেবে এই সংগঠনটি বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করছে। জাহরা ইয়াসিনের কথায়, ‘গত ছয় মাস সত্যিই আমাদের জন্য কঠিন সময় ছিল, আমরা প্রতিদিন আমাদের সহকর্মীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন থেকেছি। সত্যিই এটি একটি অবিশ্বাস্য বিপজ্জনক জায়গা।’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 − two =