বাংলাদেশের মেয়েদের ক্রিকেট এখনো বিশ্বমানের হয়নি

সালেক সুফী

প্রথমে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া দলের বিরুদ্ধে টি ২০ এবং ওডিআই সিরিজে (৬-০) ধবল ধোলাই এর পর শক্তিশালী ভারতের বিরুদ্ধে (৫-০) অনায়াস পরাজয় প্রমান করে বাংলাদেশের মেয়েদের ক্রিকেট মান এখনো বিশ্ব পর্যায় থেকে যোজন যোজন পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য টি ২০ বিশ্ব কাপ সামনে রেখে দুটি শীর্ষ স্থানীয় দলের বিরুদ্ধে সিরিজ আয়োজন করার জন্য বিসিবি অবশ্যই কৃতিত্ব পেতে পারে। আর কিছু না হোক দুটি সিরিজ বুঝিয়ে দিয়েছে বিশ্বমানে বাংলাদেশের মেয়েদের ক্রিকেট কোথায় অবস্থান করছে। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বসেরা দল।  দক্ষতা, কৌশল, অভিজ্ঞতা, শারীরিক সক্ষমতার বিবেচনায় বাংলাদেশের থেকে বহুপথ এগিয়ে। তবুও আশা ছিল বাংলাদেশ নিজেদের মাঠ এবং পরিবেশে কিছুটা হয়তো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবে।  কিন্তু টি ২০ বা ওডিআই দুটি সিরিজের ৩+৩=৬ ম্যাচের কোঁটটিতেই দাঁড়াতে পারে নি বাংলাদেশ। বোলাররা কিছুটা সফল হলেও ব্যাটসম্যানরা ছিল পুরোপুরি ব্যার্থ। বরং বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশের পরিবেশ এবং উইকেট বিষয়ে ভালো অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের দল।  অস্ট্রেলিয়ার মেয়ে ক্রিকেট দলের খেলা দেখার অভিজ্ঞতা থাকায় আমি মোটেও বিস্মিত হইনি পেশাদার দলটির দ্রুত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে দেখে। অস্ট্রেলিয়া কেন মেয়ে ক্রিকেটেও পুরুষ দলের মত শীর্ষ স্থানে সেটি কাছে থেকেই দেখলো বাংলাদেশ।

কিন্তু ভারত দলের বিরুদ্ধে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ৫ ম্যাচের টি ২০ সিরিজে বাংলাদেশ দলের ধবল ধোলাই মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। শক্তিমত্তা এবং অভিজ্ঞতার তুলনায় ভারত দল অস্ট্রেলিয়া থেকে পিছিয়ে। বাংলাদেশ এমন না যে ওদের বিরুদ্ধে আগে কখনো জয় পায়নি। সিরিজে বিভিন্ন পর্যায়ে বাংলাদেশের বোলাররা চাপ সৃষ্টি করলেও দুর্বল ফিল্ডিং ভারতকে কোনঠাসা করতে পারেনি। আর ভারতের পেস বা স্পিন কোন বোলিংয়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশ। অথচ বাংলাদেশ দলটি কিছু দিন আগে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং পাকিস্থানের বিরুদ্ধে সিরিজ জয় করেছিল। পর পর দুটি সিরিজে এভাবে নিজেদের মাঠে পরিচিত পরিবেশে নাস্তা নাবুদ হতে দেখে দুঃখ পেয়েছে ক্রিকেট অনুরাগীরা। মনে হয়েছে স্কিলের ঘাটতি নয়, মানসিক সমস্যা ছিল বাংলাদেশ দলের। আসন্ন বিশ্ব কাপে ভালো করতে হলে বাংলাদেশ দলকে সঠিক ভাবে মেন্টরিং করতে হবে।

মারুফ আখতার, ফারিহা তৃস্না পেস বোলিং যথেষ্ট প্রতিশ্রুতিময়। স্পিন আক্রমণ বৈচিত্র পূর্ণ। রাবেয়া, নাহিদা, স্বর্ণা ফিল্ডিং থেকে সহায়তা পেলে প্রতিপক্ষ দলকে চাপে রাখতে পারবে। কিন্তু বাংলাদেশের গ্রাউন্ড ফিল্ডিং এবং ক্যাচিং অনেক তৎপর এবং তুখোড় হতে হবে। সমস্যা হলো ব্যাটিং। দুটি সিরিজে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ছাড়া কাউকেই বিশ্বমানের মনে হয়নি। জ্যোতি নিজেও ধারাবাহিক ছিলনা। ব্যাটসম্যানরা সোজা বাটে খেলার চেয়ে ক্রস বাটে খেলতে আগ্রহী। ম্যাচের পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেয়ার মানসিক দৃঢ়তার বেশ অভাব। আমি কোন ভাবেই মেয়েদের ক্রিকেট দক্ষতাকে কটাক্ষ করছি না। বিশ্বকাপের এখনো বেশ সময় বাকি আছে। এখন থেকে পরিকল্পিত উপায়ে প্রস্তুতি নিলে বাংলাদেশের মেয়েরা সাফল্য লাভ করবে আশা করা যেতে পারে।

 

সালেক সূফি, ক্রীড়া লেখক

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

three × three =