বাংলাদেশ পাকিস্তান টেস্ট সিরিজ: অভিষিক্ত আজানের ব্যাটিং বীরত্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাকিস্তান

সালেক সুফী

২১ বছরের তরুণ আজান আওয়াইস। অভিষেক টেস্ট ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে কাল মীরপুর টেস্ট ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষে অপরাজিত আছে ৮৫ রানে। সঙ্গী আরেক এই টেস্টে অভিষিক্ত আব্দুল্লাহ ফজল ৩৭ রানে। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে সংগ্রহীত ৪১৩ রানের জবাবে দিনশেষে পাকিস্তানের স্কোর ১৭৯/১। দারুন ভাবে ম্যাচে ফিরেছে পাকিস্তান। আজ সকালে প্রথম সেশনে ঝটফট কয়েকটি উইকেট তুলে না নিলে পাকিস্তান হয়তো বাংলাদেশের স্কোরের কাছাকাছি এমনকি স্কোর টপকে লিড নিতে পারে প্রথম ইনিংসে। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস কিনা জানিনা কাল বাংলাদেশের সমৃদ্ধ পেস আক্রমণ কিন্তু খাপছাড়া এলোমেলো বোলিং করেছে। আর তাই পাকিস্তান ইনিংসে একমাত্র ৪৫ রান করা ইমাম উল হক ছাড়া আর কোন উইকেট দখল করা সম্ভব হয়নি। দুই তরুণ আজান -ফজল জুটি অবিচ্ছিন্ন দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ইতিমধ্যেই ৭৩ রান করেছে। এর আগে আজান প্রথম উইকেটে ইমাম উল হকের (৪৫) সঙ্গে করেছিল ১০৬ রান।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় সকাল শুরু করেছিল ৩০১/৪।  উইকেটে ছিল মুশিফিকুর রহিম (৪৮* ) আর লিটন কুমার দাস (৮*)। কাল ছিল মুশফিকের জন্ম দিন। অনেকের প্রত্যাশা ছিল মিস্টার ডিপেন্ডেবল আরো শতরান করে দিনটাকে রাঙাবে।  মুশফিক  থেমে গেছে ৭১ রান করে শাহীন আফ্রিদির একটি দুর্দান্ত বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান।  ভালো খেলতে থাকা লিটনকে ফিরিয়েছে কাল দুর্দান্ত বোলিং করা মোহাম্মদ আব্বাস ৩৩ রানে। বাংলাদেশের দুর্বল লেট মিডল অর্ডার আব্বাস -আফ্রিদি জুটির ভালো বোলিংয়ে বেশি আগাতে পারেনি। তাসকিন শেষ দিকে ১৯ বলে ২৮ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস উপহার না দিলে হয়ত রান ৪০০ পেরুতো না। ৪১৩ রানে শেষ হয় বাংলাদেশ ইনিংস। বাহবা দিতেই হবে মোহাম্মদ আব্বাসকে।  উইকেটে ক্রমাগত সঠিক নিশানা আর লেংথে বোলিং করে ৯২ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নেয়ার জন্য। ১১৩ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট নিয়ে শাহীন আফ্রিদি যোগ্য সাঙ্গ দিয়েছে। কাল সকালের সেশনে অসম বাউন্স ছিল উইকেটে। সুযোগটা ভালো ভাবে ব্যবহার করেছে পাকিস্তানের বোলিং ইউনিট।

৪১৩ রানের জবাবে খেলতে নেমে পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি তাসকিন – এবাদতের নতুন বলের আক্রমণে শুরুতে কিছুটা অনিশ্চিত থাকলেও দ্রুত পেস আর বাউন্সের সঙ্গে মানিয়ে  নেয়।  নাহিদ রানার দ্রুত গতির প্রথম বলটি লাফিয়ে উঠে অভিষিক্ত আজানের হেলমেটে আঘাত হলেও একটুও বিচলিত হয় নি ২১ বছরের সাহসী তরুণ। সবুজ ঘাসের উইকেটে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ এলো মেলো বোলিং করে ফায়েদা লুটতে পারেনি। ইমাম উল হকের সঙ্গে আজান স্থিতু হয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যাটিং করে। প্রথম উইকেট জুটি ভালো খেলে ১০৬ রান জুড়ে দেয়ার পর ইমামকে ফেরায় স্পিনার মেহেদী মিরাজ। অপর প্রান্তে আজান একটির পর একটি দর্শনীয় স্ট্রোকস খেলে মাঠে থাকা দর্শক আর মিডিয়ায় দেখা অনুরাগীদের মুগ্ধ করে। ওর ব্যাটিং দেখে এই উপমহাদেশ তথা বিশ্ব ক্রিকেটের বিস্ময় সচিন টেন্ডুলকারকে মনে পড়েছে। সচিনের অভিষেক ইনিংসেও ওয়াকার ইউনূসের বাউন্সার মাথায় আঘাত করেছিল। কাল কিন্তু অপরাজিত ৮৫ রানের ইনিংসটি আরো একজন পাকিস্তানী বা হাতি ওপেনার সাঈদ আনোয়ারকেই স্মরণ করিয়েছে। ওর সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৩৭ রান করে অপরাজিত থাকা আরেক অভিষিক্ত তরুণ আব্দুল্লাহ ফজলকেও প্রতিভাবান মনে হচ্ছে। দীর্ঘ ২৩ বছর পর পাকিস্তানের টেস্ট বাটিংয়ে টপ অর্ডারে দুইজন অভিষিক্ত তরুণ খেলেছে। ১৭৯/১ করা পাকিস্তান দিনশেষে ৯ উইকেট হাতে নিয়ে ২৩৪ রানে পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রন নিতে হলে আজ প্রথম সেশনে ঝট পট ২-৩ উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তান বাটিংয়ে চাপ সৃষ্টি করতে হবে। না হলে পাকিস্তান কিন্তু ভোজন বিরতি নাগাদ সুবিধা জনক অবস্থায় পৌঁছে যাবে। স্বীকার করতেই হবে উইকেটের ফায়েদা নিতে পারে নি বাংলাদেশের বোলাররা। নিঃসন্দেহে দুই দিনের খেলায় সেরা বোলার ছিল মোহাম্মদ আব্বাস। প্রশংসা অবস্যই করবো ২১ বছরের প্রতিভাবান তরুণ আজান আইওয়াজের।  সকালের সূর্য দেখে যেমন দিন চেনা যায়। সকালের আজানকে তেমনি দেখে ভালো লাগছে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড:

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস ৪১৩ অল আউট (নাজমুল হোসেন শান্ত ১০১, মোমিনুল হক ৯১, মুশফিকুর রহিম ৭১, লিটন কুমার দাস ৩৩, তাসকিন আহমেদ ২৮, মোহাম্মদ আব্বাস ৫/৯২. শাহীন শাহ আফ্রিদি ৩/১১৩)

পাকিস্তান ১৭৯/১ (আজান আইওয়াজ ৮৫*, ইমামুল হক ৪৫, আব্দুল্লাহ ফজল ৩৭*, মেহেদী হাসান মিরাজ ১/৩৭)

৯ উইকেট হাতে নিয়ে ২৩৪ রানে পিছিয়ে পাকিস্তান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

15 − one =