বাংলাদেশ পাকিস্তান ঢাকা টেস্ট: শেষ দিন শেষ বিকেলে নাহিদ ঝড়ে লন্ড ভন্ড পাকিস্তান

সালেক সুফী

সমন্বিত উন্নত ব্যাটিং বোলিং আর সঠিক কৌশলে খেলে ঢাকা টেস্টে কাঙ্খিত জয় পেয়ে সিরিজে ১-০ এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ। দুই ইনিংসে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আর মোমিনুল হকের দুর্দান্ত ব্যাটিং আর প্রথম ইনিংসে মেহেদী মিরাজ  ঘূর্ণি আর দ্বিতীয় ইনিংসে দলের কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় নাহিদ রানার আগুন ঝরানো পেস বোলিং বাংলাদেশের ১০৪ রানের জয় এনে দিয়েছে। মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের বদলে যাওয়া স্পোর্টিং উইকেটে টস হেরে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে শান্ত, মোমিনুল, মুশফিকের অনবদ্য ব্যাটিংয়ের কলাণে ৪১৩ সংগ্রহ করেছিলো। জবাবে পাকিস্তান অভিষিক্ত দুই তরুণ আজান আইওয়াজ আর আব্দুল্লাহ ফজলের দৃঢ়তায় করেছিল ৩৮৬। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪০/৯ করে পাকিস্তানকে দুই সেশনে ২৬৭ রান করার টার্গেট ছুড়ে দেয়। টেস্টের শেষ দিনে কিছুটা বোলিং সহায়ক উইকেটে এই টার্গেট তাড়া করা সহজ ছিলনা। আর বাংলাদেশ দলে আছে এখন তরুণ তুর্কি ক্রমাগত ১৪০+ কিলোমিটার গতিতে পাঁজর নিশানায় বল করা নাহিদ রানা, পরিণত তাসকিন আহমেদ, ঘূর্ণি বলের বিচক্ষণ অপারেটর তাইজুল ইসলাম আর মেহেদী মিরাজ। অভিষিক্ত নবীন ফজল একা যুদ্ধ করলেও পাকিস্তান নাহিদ, তাসকিন, তাইজুলের সামনে দাঁড়াতেই পারলো না। ১৬৩ রানে গুটিয়ে যাওয়া পাকিস্তান হেরে গেলো ১০৪ রানে। বাংলাদেশের সঙ্গে এটি নিয়ে পর পর তৃতীয় টেস্ট পরাজয়। সিরিজে পাকিস্তানকে ধবল ধোলাই করার পথ উন্মুক্ত হলো।

নানা কারণেই ঢাকা টেস্ট স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এবারেই প্রথম বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দেশের মাটিতে টেস্ট জয় করলো। ৭০, ৮০ দশকে বাংলাদেশ দলকে ইমরান, ওয়াসিম, ওয়াকার, শোয়েবদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেখেছি। সেই পাকিস্তান দলকে নাহিদ, তাসকিনরা যেভাবে কোনঠাসা করেছে দেখে ভালো লেগেছে। বাংলাদেশ টেস্ট দলে স্থিতি আসছে। শুধুমাত্র আব্বাস, শাহীনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ওপেনার্স জয়, সাদমানের ব্যর্থতা ছাড়া পুরো দল সারা টেস্ট ম্যাচে প্রশংসনীয় নৈপুণ্য দেখিয়েছে। অধিনায়ক শান্ত (১০১, ৮৭) দুটি দৃষ্টি নন্দন ইনিংস উপহার দিয়েছে, টেস্ট স্পেশালিস্ট মোমিনুল  (৯১, ৫৬) দুটি ইনিংসের একটিতে শত রান পেলে ভালো লাগতো। একই ভাবে মুশফিক ওর জন্মদিনে ৭১ রানের ইনিংসটি শতরানে রাঙ্গাতে পারলে খুশি হতাম। বাংলাদেশ দুই ইনিংসে উন্নত ব্যাটিং উপহার দিয়েছে। শান্ত -মোমিনুল জুটি উভয় ইনিংসে শত রানের জুটি গড়ে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছে।

পাকিস্তান ব্যাটিং ছিল মূলত দুই মেধাবী অভিষিক্ত ব্যাটসম্যান আজান আইওয়াজ আর আব্দুল্লাহ ফজল নির্ভর। অভিজ্ঞ শান মাসুদ, সাউদ শাকিল, ইমামুল হক বার্থ হয়েছে। অবশ্য শেষ দিনে শেষ প্রহরে বাংলাদেশের আগ্রাসী বোলিং মোকাবিলা করা সহজ ছিলনা। বাংলাদেশের সুষম বোলিং আক্রমণ স্পোর্টিং উইকেটে সফল হয়েছে। নাহিদ, তাসকিন, এবাদত, শরিফুলদের উপর ভরসা করে স্পোর্টিং উইকেট বানানোর কৌশলকে সাধু বাদ দিবো। এই বোলিং আক্রমণ নিয়ে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকায় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবে। নাহিদ রানা বিরল প্রতিভা। সঠিক পরিচর্যা করলে অচিরে শুধু বাংলাদেশ ক্রিকেট নয় বিশ্ব ক্রিকেটে আলো ছড়াবে।

বাংলাদেশ হয়ত উইনিং কম্বিনেশন ভাঙ্গতে চাইবে না। তবুও সিলেট উইকেট বিবেচনায় আমি শরিফুলকে একাদশে নেয়ার সুপারিশ করবো। বিশেষ করে পাকিস্তান দলে যখন বাবর আজম ফিরে আসবে তখন শরিফুল ওর বিরুদ্ধে কার্যকরী হবে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস ৪১৩ অল আউট (নাজমুল হোসেন শান্ত ১০১, মোমিনুল হক ৯১, মুশফিকুর রহিম ৭১, লিটন কুমার দাস ৩৩, তাসকিন আহমেদ ২৮, মোহাম্মদ আব্বাস ৫/৯২ ,শাহীন শাহ আফ্রিদি ৩/১১৩)

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ২৪০/৯ ডিক্লারেড  (নাজমুল হোসেন শান্ত ৮৭, মোমিনুল হক ৫৬, মেহেদী হাসান মিরাজ ২৪,  মুশফিকুর রহিম ২২, হাসান আলী ৩/৫২, নোমান আলী ৩/৭৬, শাহীন শাহ আফ্রিদি ২ /৫৪)

পাকিস্তান প্রথম ইনিংস ৩৮৬ অল আউট (আজান আইওয়াজ ১০৩, আব্দুল্লাহ ফজল  ৬০, মোহাম্মদ রিজওয়ান ৫৯, সালমান আলী আগা ৫৮, মেহেদী হাসান মিরাজ ৫/১০২, তাইজুল ইসলাম ২/৪৬, তাসকিন আহমেদ ২/৭০)

পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস ১৬৩ অল আউট (আব্দুল্লাহ ফজল ৬৬, সালমান আগা ২৬, নাহিদ রানা ৫/৪০, তাইজুল ইসলাম ২/ ২২, তাসকিন আহমেদ ২/৪০)

বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী

ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়: নাজমুল হোসেন শান্ত

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

five × two =