বাংলাদেশ পাকিস্তান মীরপুর টেস্ট চতুর্থ দিনশেষেও উন্মুক্ত

সালেক সুফী
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জীবন্ত বাংলাদেশ পাকিস্তান ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলার বড় অংশ বৃষ্টি ধুয়ে দিলেও শেষ দিনে ম্যাচে তিনটি সম্ভাবনাই উন্মুক্ত আছে. যদি সারাদিন খেলা হয় তাহলে বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের জয় অথবা ড্র তিনটিই হতে পারে। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে হাড্ডা হাড্ডি লড়াইয়ের পর ২৭ রানের লিড পেয়েছিলো। কাল নাজমুল শান্ত আর মোমিনুল হকের আরো একটি ১০৫ রানের জুটির অবদানে বাংলাদেশ দিন শেষ করেছে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫২ রানে। মোমিনুল ম্যাচে উপর্যুপরি দ্বিতীয় অর্ধশত (৯১, ৫৬) করে বিদায় নিয়েছে। শান্ত প্রথম ইনিংসে শত রান করার পর ৫৮ রানে অপরাজিত আছে.সঙ্গী মুশফিকুর রহিম আছে ১৬ রানে। বাংলাদেশ ৭ উইকেট হাতে নিয়ে ১৭৯ রানে এগিয়ে আছে. আজ ম্যাচের শেষ দিনে দ্রুত আরো ১২০- ১৩০ রান করে পাকিস্তানকে দুই সেশনে ৩০০ রানের টার্গেট দিতে পারে বাংলাদেশ। শেষ দিনে উইকেটের চরিত্র পাল্টে গেলে আর বৃষ্টি বাধা না থাকলে পাকিস্তানকে পরাজয় এড়াতে লড়াই করতে হবে. অন্যদিকে পাকিস্তান ভালো বোলিং করে বাংলাদেশের লিড ২৫০ সীমিত করে ম্যাচ জিতে নেয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না. তবে ম্যাচ ড্র হবার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়ার আগাম বার্তাও বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলছে। বাংলাদেশে বৃষ্টির মৌসুম এসে গেছে।
কাল বিনা উইকেটে ৭ রান নিয়ে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের মত দ্বিতীয় ইনিংসেও বার্থ হয়েছে বাংলাদেশের ওপেনার্স মাহমুদুল হাসান জয় আর সাদমান ইসলাম। ১০.৫ ওভারে ২৩ রান তুলতেই দুইজন বিদায় নেয়ায় চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের মত দ্বিতীয় ইনিংসেও পরিণত কুশলী  টেস্ট ব্যাটসম্যানদের মত ব্যাটিং করেছে শান্ত আর মোমিনুল। ওদের যোগাযোগে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১০৫ রান সংগ্রহীত হলে বিপদ মুক্ত হয় বাংলাদেশ। পাকিস্তানের ফিল্ডাররা দুই বার মোমিনুল ক্যাচ ছেড়ে দেয়ার পর ছোট পাখি দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৮ রান করে. টেস্ট ক্রিকেটে দুই ইনিংসে শান্ত -মোমিনুল শত রানের জুটি গড়ার কৃতিত্ব অর্জন করে।  মমিনুলের টেস্ট সংগ্রহ ৫০০০ রান পেরিয়ে যায়. ভোজন বিরতির পর মুসল ধারায় বৃষ্টি হওয়ায় গোটা সেশনের খেলা পরিত্যক্ত হয়. পরে খেলা শুরু হলেও আলোক সল্পতায় খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ ১৫২/৩ করে ১৭৯ রানে এগিয়ে থাকে। ম্যাচের বর্তমান পর্যায়ে বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও ম্যাচ ভাগ্য নির্ধারিত হবে আজ শেষ দিন সকালের সেশনে। বাংলাদেশ দ্রুত ১০০-১২৫ রান যোগ করে পাকিস্তানকে ৩০০ রানের টার্গেট ছুড়ে দিলে শেষ সেশনে পরাজয় এড়াতে কঠিন সংগ্রাম করতে হবে পাকিস্তানকে। উইকেটে কিছুটা হলেও বল ঘুরছে। আর বাউন্স অসম হয়ে পড়েছে। শুরুতে তাসকিন ,নাহিদ রানা দ্রুত ব্রেক থ্রু এনে দিলে অভিজ্ঞ মেহেদী মিরাজ আর তাইজুলকে সামাল দেয়া সহজ হবে না. তবে বৃষ্টি বিঘ্ন ঘটানোর সম্ভাবনা আছে. পাকিস্তান কিন্তু দ্রুত কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়েও ম্যাচে ফিরতে পারে।
যায় হোক টেস্টের পরিণতি বাংলাদেশ এই টেস্ট থেকে পরিণত টেস্ট দল হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশেষত অধিনায়ক শান্তর বাটিংয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন দলকে অনেক ভরসা দিয়েছে। মোমিনুল আছে স্বভাব সুলভ ছন্দে।  বাংলাদেশকে পেস বোলিং কম্বিনেশন নিয়ে ভাবতে হবে. তাসকিন ,নাহিদ ,এবাদত অনেকটা একই ঘরনার বোলার। বাম হাতি শরিফুল থাকলে হয়ত ভিন্নতর হতো। জানিনা হাসান মাহমুদ বা খালেদ আহমেদ কেন স্কোয়াডে নেই।  অপরদিকে পাকিস্তান লাইন আপে বাম হাতি ব্যাটসম্যানের ছড়াছড়ি।  অফ স্পিনার নাঈম হাসানকে সিলেট টেস্টের জন্য বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে।
একটি আদর্শ টেস্ট ম্যাচ বলবো। দুই দলই ভালো খেলেছে ,লড়াই করে ম্যাচে ভারসাম্য সৃষ্টি করেছে। প্রকৃতি যদি সহায় হয়ে শেষ দিনে পুরো সময় খেলার সুযোগ দেয় তাহলে কিন্তু শেষ বিকেলে টেস্ট জমে উঠবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড:
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস ৪১৩ অল আউট ( নাজমুল হোসেন শান্ত ১০১, মোমিনুল হক ৯১, মুশফিকুর রহিম ৭১. লিটন কুমার দাস ৩৩ ,তাসকিন আহমেদ ২৮, মোহাম্মদ আব্বাস ৫/৯২ ,শাহীন শাহ আফ্রিদি ৩/১১৩)
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস : ১৫২/৩ ( নাজমুল হোসেন শান্ত ৫৮* ,মোমিনুল হক ৫৬, মুশফিকুর রহিম ১৬* )
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস ৩৮৬ অল আউট ( আজান আইওয়াজ ১০৩, আব্দুল্লাহ ফাজায়েল ৬০, মোহাম্মদ রিজওয়ান ৫৯, সালমান আলী আগা ৫৮, মেহেদী হাসান মিরাজ ৫/১০২, তাইজুল ইসলাম ২/৪৬, তাসকিন আহমেদ ২/৭০)
দ্বিতীয় ইনিংসের ৭ উইকেট হাতে নিয়ে বাংলাদেশ ১৭৯ রানে এগিয়ে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

11 − 11 =