বাংলাদেশ সিরিজ জিতলেও জিতেছে আফগানিস্তান

সালেক সুফী: আইসিসি ওডিআই ক্রিকেট লিগের বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ক্রিকেট সিরিজ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দুটি দলের জন্য গুরুত্ব পূর্ণ ছিল। ২-১ সিরিজ জয় করে ২০ পয়েন্ট অর্জন করে বাংলাদেশ আপাতত পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে।  সিরিজ জয় করে শেষ ম্যাচটি যেভাবে দাপুটে ৭ উইকেটে জয় করলো আফগানিস্তান তা থেকে বাংলাদেশের সমর্থকদের আহত হবার যথেষ্ট কারণ আছে। টেস্ট ক্রিকেট এবং টি২০ ফরম্যাটে আফগানিস্তান এগিয়ে থাকলেও অনেক বেশি অভিজ্ঞতা এবং বেশি ম্যাচ খেলার সুবাদে বাংলাদেশ সুস্পষ্ট ফেভরিট ছিল।

প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের মামুলি সংগ্রহ তাড়া করে ৪৫ রানে ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। আফিফ এবং মিরাজের অতিমানবীয় জুটির ব্যাটিং বাংলাদেশকে মৃত্যুকূপ থেকে রক্ষা করে মাইলস্টোন জয় এনে দিলো। দ্বিতীয় ম্যাচটি দাপটের সঙ্গে খেলে লিটনের শতরান এবং মুশফিকের অর্ধশতাধিক রানের সুবাদে তিন শতাধিক  রান করে।  ভালো বোলিং করে বিশাল ব্যবধানে ম্যাচ জয় এবং তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ এগিয়ে জয় নিশ্চিত করে। দুটি ম্যাচ থেকে ২০ চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট অর্জন বাংলাদেশকে ওডিআই লিগ চূড়ায় নিয়ে যায়। তৃতীয় ম্যাচ জয় করলে বাংলাদেশের তিনটি অর্জন হতো। পয়েন্টস দাঁড়াতো ১১০, আইসিসি রাংকিং হতো ৬।  পত্থমবারের মতো আফগানিস্তানকে ওডিআই সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ করতে পারতো।

আজ প্রথম বারের মতো চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তাজা সবুজ ঘাসের উইকেট দেখলাম। কি মনে করে চট্টগ্রামের ছেলে তামিম টস জয় করে ব্যাটিং করলো বলা মুশকিল। এই ধরনের উইকেটে সচরাচর বাংলাদেশ দেশের মাটিতে খেলে অভস্ত নয়। আগে বোলিং নিলে তাসকিন, মুস্তাফিজ, শরীফ বাড়তি সুবিধা পেত। যেন জেনে শুনে নিজেকে এবং দলকে বলির পাঠা বানালো তামিম। নিজের ব্যাটিং ফর্ম অস্তগামী। আফগান তরুণ ফজল ফারুকী গোটা সিরিজ জুড়িই ওকে নাকানি চুবানি খায়িয়েছে।  আজও ফারুকী ইয়র্ক করলো অস্বস্তিতে থাকা তামিমকে।  এই বয়সে ছন্দ হারানো তামিমকে সমূর্তিতে সক্রিয় হতে বেগ পেতে হবে।

শাকিব উইকেটে এসে তাড়াহুড়ো করছিলো। সিরিজটি তামিমের জন্য ছিল দুঃস্বপ্ন। যাহোক ৩০ রানের বেশি করতে পারলো না। গোটা সিরিজে ওর ব্যাট হেসেছে বলা যাবে না। মুশফিক দ্বিতীয় ম্যাচটি ভালো ব্যাটিং করলেও আজ ছিল নড়বড়ে। অন্য প্রান্তে ক্রমাগত বিকশিত হতে থাকা লিটন আজও খেললো ঝকমকে ইনিংস। একদিকে যখন প্যাভিলিয়নে ফেরার মিছিল সেখানে লিটন মনে হলো ভিন্ন গ্রহের মানুষ। জানিনা এই ম্যাচে ইয়াসিরের স্থানে মাহমুদ হাসান জয়কে খেলানো যেত কিনা। ব্যাটিং ধসের সময়ে কেন মাহমুদুল্লাহ নিদেন পক্ষে ৫ নম্বরে ব্যাটিং করতে পারতো। ওকে কেন ৬ নম্বরেই খেলতে হবে।  দলের রসায়নে কি কোনো সমস্যা আছে?

প্রথম দুই ম্যাচে সুবিধা করতে না পারা রাশিদ খান এবং মোহাম্মদ নবি ২০ ওভার বোলিং করে ৬১ রানে ৫ উইকেট ভাগ করে নিলো। তাড়াহুড়া করে তিন তিন জন ব্যাটসম্যান রান আউটেত কাটা পড়লো। প্রশ্ন থাকতে পারে কেন রিয়াদ টেইল এন্ডারদের প্রতিরক্ষা দিলো না। ১৯২ রান করে গুটিয়ে গেলো বাংলাদেশ।

যে উইকেটে হাস-ফাঁস করেছে বাংলাদেশ সেখানেই সাচ্ছন্দে খেললো আফগানিস্তান। বাংলাদেশের শরীরী ভাষা দেখে সন্দেহ হতে পারে ম্যাচটি গড়াপেটার ম্যাচ ছিল কিনা। গুরবাজ এবং রিয়াজের যোগাযোগে প্রথম উইকেটে যোগ হলো ৭৯। দ্বিতীয় উইকেটে গুরবাজ এবং রাহমাত শাহ জুড়ে দিলো ১০০। ম্যাচের আর কি বাকি থাকে। ১৯৩/৩ করে ৭ উইকেটে জয় পেলো বাংলাদেশ সাকিবের স্পনসর করা আফগানিস্তান।

দেখা যাক টি২০ ভার্শনে অনেক এগিয়ে থাকা আফগানিস্তানকে ঢাকায় কিভাবে মোকাবিলা করে বাংলাদেশ? গোটা সিরিজ জুড়েই ব্যর্থ তামিম, সাকিব। ব্যাটিং বোলিং সাকিব ভালো করেছে বলা যাবে না। একটি ইনিংস ছাড়া মুশফিক ব্যর্থ। মাহমুদুল্লাহকে ম্রিয়মান মনে হয়েছে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে গাছে বাংলাদেশ চাইলেই স্পোর্টিং উইকেট বানাতে পারে। পরিশেষে বলবো বাংলাদেশ সিরিজ জয় করলেও ক্রিকেট জিতেছে আফগানিস্তান।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

18 + 17 =