বাঘের ডেরায় সিংহের যুদ্ধপ্রস্তুতি

সালেক সুফী: দেশে চলছে লঙ্কা কাণ্ড।  লংকার ক্রিকেট সিংহবাহিনী রয়েল বেঙ্গলের ডেরায় এসেছে টেস্ট ক্রিকেট মল্লযুদ্ধে। ওদিকে আবার অশনি নামের ঝড় সাগর থেকে চোখ রাঙাচ্ছে। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু হবে ১৫ মে ২০২২ সাগরপাড়ে সাগরিকায়। কক্সবাজারের ছেলে মমিনুলের নেতৃত্বের বাংলাদেশ দলের সাম্প্রতিক দক্ষিণ আফ্রিকা সাদা সিংহের দেশের টেস্ট সফর সুখের হয়নি।  দুই ম্যাচের সিরিজে শুধু ধবল দোলাই নয় দুটো ইনিংসে ৫৩ এবং ৮০ রানে গুটিয়ে যাবার কলঙ্ক আছে। দেশের মাটিতেও পাকিস্তানের সঙ্গে টেস্ট সিরিজে ধবল ধোলাইয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে। আইসিসি টেস্ট রাংকিংয়ে বর্তমান অবস্থান ৮।  দ্বিতীয় মেয়াদের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজে ৬ ম্যাচে ১ জয় ৫ পরাজয় পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। পক্ষান্তরে শ্রীলংকার অবস্থান ৫।  তবে শক্তি আর ভারসাম্যের বিচারে শ্রীলংকার বর্তমান দলটি বাংলাদেশ থেকে এগিয়ে আছে বলবো না। বরং গুণগত মান আর অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশ এগিয়ে। উপরন্তু ঘরের মাঠে চেনা দর্শক এবং পরিবেশে খেলা।

ইতিহাস বলে দুই দল এযাবৎ ২২টি টেস্ট খেলেছে।  শ্রীলংকার ১৭টি জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশ মাত্র ১টি টেস্ট, নিজেদের ১০০ম টেস্ট শ্রীলংকায়। বাকি ৪টি টেস্ট ছিল অমীমাংসিত। বাংলাদেশে খেলা ৮টি টেস্টের ৬টি জিতেছে শ্রীলংকা বাকি ২টি  হয়েছে ড্র।  এবারে সুযোগ বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস গড়ার।

দীর্ঘ দিন পর তথাকথিত পঞ্চ পাণ্ডবের তিন  জন- সাকিব, মুশফিক, তামিম একসঙ্গে খেলবে কথা ছিল। কিন্তু ঈদের ছুটি পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটিয়ে দেশে ফেরার পর সাকিব কোভিড টেস্ট পসিটিভ হওয়ায় প্রথম টেস্ট থেকে ছিটকে পড়েছে। তবে সঙ্গে আছে দেশের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে উজ্জ্বল মোমিনুল, দুর্দান্ত ফর্মে  থাকা লিটন দাস, এখন অভিজ্ঞ নাজমুল হোসেন শান্ত, তরুণ উদীয়মান মাহমুদুল হাসান জয়, ইয়াসির আলী। ইনজুরির কারণে দলে নেই সাম্প্রতিক সময়ে নিজেকে নতুন করে চেনানো তাসকিন আহমেদ এবং  চৌকষ খেলোয়াড় মেহেদী মিরাজ। কিন্তু উইকেট এবং পরিবেশ সহায়ক হলে করুণারত্নের নেতৃত্বাধীন অপেক্ষাকৃত স্বল্প অভিজ্ঞ দলকে স্পিন চাপে ফেলে জয় ছিনিয়ে নিতে পারে নায়ীম-তাইজুল  জুটি। পরিস্থিতির কারণে হয়তো এখন খেলবে মোসাদ্দেক।

বিশ্বমানের চৌকষ খেলোয়াড় সাকিবের উপস্থিতি দলকে অনুপ্রাণিত করতো। কিন্তু বিধি বাম। বেশ কিছু দিন ধরেই নানা কারণে বাংলাদেশের পোস্টের বয় খেলছে না। এবারেও সম্ভাবনা জাগিয়েও খেলা হচ্ছে না  প্রথম টেস্ট।  সাকিবের অনুপস্থিতিটি দলের ভারসাম্য পাল্টে  দিবে। বোলিংয়ের থেকেও আমি ব্যাটিং নিয়ে কিছুটা শংকিত। দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট ম্যাচ দুটিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করার সময় শংকিত মনে হয়েছে। স্পিন বোলিং খেলার জন্য প্রয়োজনীয় টেকনিক এবং টেম্পারমেন্টে ঘাটতি ছিল। দলের ব্যাটিং শক্তি সুসংহত করার জন্য দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এনামুল হক বিজয়কে বিবেচনা করার সুযোগ ছিল। এমনকি মিঠুন বা নাঈমকেও নেয়া যেত। দক্ষিণ আফ্রিকায় কিন্তু টেস্টে তামিম, মোমিনুল, মুশফিক নড়বড়ে ছিল।

আমি আশাবাদী পরিস্থিতি কিন্তু সুযোগ সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ যদি প্রতিশ্রুতি মতো নিজেদের প্রয়োগ করে খেলতে পারে তাহলে এখনো সুযোগ আছে অন্তত একটি টেস্ট জয় করার অথবা দুটো টেস্ট ড্র করার। তাসকিন না থাকলেও হয়তো শরিফুল, এবাদত/খালেদ খেলবে। আমি তিন স্পিনার নিয়ে খেলার পক্ষপাতী। সেইক্ষেত্রে হয়তো তাইজুল নাঈমের সঙ্গে খেলবে মোসাদ্দেক। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া হয়তো চট্টগ্রাম টেস্ট বিঘ্নিত করতে পারে। ঢাকা টেস্টে উইকেট নিয়ে শঙ্কা আছে। স্পিনিং উইকেট থাকলে বুমেরাং হতে পারে। বাংলাদেশের জন্য। সব কিছু মিলিয়ে বলবো বাংলাদেশকে সতকতার সঙ্গে আশাবাদী হতে হবে.

বাঘের ডেরায় বাঘ-সিংহের  লড়াই উপভোগ্য হোক সে আশায় থাকলাম।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

thirteen + three =