মাইমে বিশ্বজয়ী পার্থ প্রতিম মজুমদারের আজ জন্মদিন

নির্বাক অভিনয়ে আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত একজন মূকাভিনেতা বাংলাদেশের পার্থ প্রতিম মজুমদার। গত চার দশকে যিনি তার মূকাভিনয়, তথা নিঃশব্দ অভিনয়ের প্রতিভাকে পুঁজি করে চষে বেড়িয়েছেন পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত। কঠোর শ্রম আর অধ্যবসায় তাকে নিয়ে গেছে খ্যাতি এবং কিংবদন্তী মাইম আর্টিস্টের তালিকায়।

আজ (১৮ জানুয়ারি) তার জন্মদিন। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারের জন্মদিন নিয়ে পার্থ প্রতিম মজুমদারের কোন পরিকল্পনা নেই। প্যারিস থেকে তিনি বলেন, ‘সবাই সুস্থ থাকুক ভাল থাকুক পৃথিবী জুড়ে মহামারীর এ সংকট কেটে যাক এটাই এখন চাওয়া। এই করোনায় অনেক গুণী মানুষের মৃত্যু হয়েছে। খবরগুলো শুনলে মনটা খুব খারাপ হয়।’

জগদ্বিখ্যাত এই মূকাভিনেতার জন্ম ১৯৫৪ সালের ১৮ জানুয়ারি পাবনার কালাচাঁদপাড়ায়। বাবা হিমাংশু কুমার বিশ্বাস ছিলেন ফটোসাংবাদিক এবং সুশ্রীকা বিশ্বাস ভজন গায়িকা। জন্মের পর নাম রাখা হয়েছিল প্রেমাংশু কুমার বিশ্বাস, আর ডাক নাম ছিল ভীম। শৈশবে তার দুরন্তপনার কোনো কমতি ছিল না। ফটোসাংবাদিক এবং বনমালী থিয়েটারের সদস্য বাবার ক্যামেরা-স্টুডিও-থিয়েটার, ভজন গায়িকা মায়ের হারমোনিয়ামের সাথে তার বেড়ে ওঠা।

ফ্রান্সের আরেক কিংবদন্তী মূকাভিনেতা মার্শাল মারচু ছিলেন বিশ্বের সবচাইতে জনপ্রিয় এবং শ্রেষ্ঠ মূকাভিনেতা। পৃথিবীজোড়া মানুষ তাকে চেনে। বছরে ৩৬৫ দিনের মধ্যে ৩০০ দিন মাইম উপস্থাপনের রেকর্ড রয়েছে তার। পার্থ প্রতিম মজুমদার মার্শাল মারচুর কাছেও মূকাভিনয়ের শিক্ষা নিয়েছিলেন। মারচুর কাছে মূলত মাইমের পারফেকশন শিখেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে মার্শাল মারচুর দলেই তার জায়গা হয়েছিল।

মার্শাল মারচুর দলের সাথে তিনি যেখানেই শো করতে গিয়েছেন না কেন, প্রচারপত্রে দলের প্রতিটি সদস্যের পাশে তার দেশের নাম লেখা থাকে। অর্থাৎ পার্থ প্রতিম মজুমদারের নামের পাশে লেখা থাকে বাংলাদেশ। এভাবেই বিশ্ববাসী জেনেছে মাইমের বিচারে শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় মাইম আর্টিস্ট একজন বাংলাদেশি। আর এভাবেই বিশ্বব্যাপী মাইমের জগতে ছড়িয়ে পড়েছে পার্থ প্রতিম মজুমদারের নাম।

এক মূকাভিনয়কে কেন্দ্র করে পার্থ প্রতিম মজুমদারের ঝুলিতে যত পুরষ্কার এবং সম্মাননা যোগ হয়েছে, তাতে করে তাকে আন্তর্জাতিকভাবে জীবন্ত কিংবদন্তী বলা যেতেই পারে। বাংলাদেশের একুশে পদক (২০১০) থেকে শুরু করে ফ্রান্সের নাইট উপাধি খ্যাত শেভলিয়র অ্যাওয়ার্ড জয় করে (২০১১) ফ্রান্সের সর্বোচ্চ খেতাব যুক্ত হয়েছে তার মুকুটে। এর আগে ফ্রান্সের জাতীয় থিয়েটারের মলিয়ের এওয়ার্ড (১০০৯) অর্জন করেছেন তিনি। কলকাতার যোগেশ মাইম একাডেমি থেকে পেয়েছেন মাস্টার অফ মাইম উপাধি। এথেন্স, নিউ ইয়র্ক, ডেনমার্ক, সুইডেনসহ সারা বিশ্বে বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে একক মূকাভিনেতা হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন ১৯৮৮ সালে।

সারাবাংলা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

17 − 7 =