মিরাজের বোলিং নৈপুণ্যে ৩৪ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ

স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজের বোলিং নৈপুন্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ১০ উইকেট হাতে নিয়ে ৩৪ রানে এগিয়ে রয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। খবর বাসস

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৪১৩ রানের জবাবে মিরাজের ঘূর্ণিতে ৩৮৬ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। প্রথম ইনিংস থেকে ২৭ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। বল হাতে মিরাজ ১০২ রানে ৫ উইকেট নেন। দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে দিন শেষে বিনা উইকেটে ৭ রান করেছে টাইগাররা।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১ উইকেটে ১৭৯ রান করেছিল পাকিস্তান। ৯ উইকেট হাতে নিয়ে ২৩৪ রানে পিছিয়ে ছিল তারা। দুই অভিষিক্ত ব্যাটার আজান আওয়াইস ৮৫ ও আব্দুল্লাহ ফজল ৩৭ রানে অপরাজিত ছিলেন।

তৃতীয় দিনের পঞ্চম ওভারে সেঞ্চুরি তুলেন নেন আজান। এজন্য ১৫৩ বল খেলেন তিনি। সেঞ্চুরির পর ইনিংস বড় করতে পারেননি আজান। বাংলাদেশ পেসার তাসকিন আহমেদের বলে স্লিপে নাজমুুল হোসেন শান্তকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন তিনি। ১৪টি চারে ১৬৫ বলে ১০৩ রান করেন আজান। দ্বিতীয় উইকেটে ফজলের সাথে ১৯৮ বলে ১০৪ রান যোগ করেন আজান।

দলীয় ২১০ রানে দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে আজান ফেরার পর দ্রুত ৩ উইকেট হারায় পাকিস্তান। ২৩০ রানে পঞ্চম উইকেট পতন হয় তাদের। পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদকে ৯ রানে তাসকিন এবং সৌদ শাকিলকে শূন্য ও ফজলকে ৬০ রানে বিদায় দেন মিরাজ।

চাপে পড়া পাকিস্তানকে লড়াইয়ে ফেরাতে জুটি বাঁধেন সালমান আঘা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। এসময় সালমানকে খালি হাতে ফেরাতে পারতেন তাসকিন। উইকেটের পেছনে ক্যাচও দিয়েছিলেন সালমান। কিন্তু তাসকিনের ডেলিভারি নো-বল হওয়ায় এ যাত্রায় বেঁচে যান সালমান।

জীবন পেয়ে রিজওয়ানের সাথে ১৫৭ বলে ১১৯ রানের জুটি গড়েন সালমান। এসময় দু’জনই হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন। চা-বিরতির ঠিক আগ মুর্হূতে থামেন রিজওয়ান। বাংলাদেশ স্পিনার তাইজুল ইসলামের বলে মাহমুদুল হাসান জয়কে ক্যাচ দেন রিজওয়ান। ৮টি চারে ৫৯ রান করেন তিনি।

রিজওয়ানের আউটের পর বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা। এসময় পাকিস্তানের স্কোর ছিল- ৬ উইকেটে ৩৪৯ রান। প্রায় দুই ঘন্টা পর খেলা শুরু হলে বাংলাদেশ বোলারদের তোপের মুখে ৩৭ রানে শেষ ৪ উইকেট হারায় পাকিস্তান। এতে ৩৮৬ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। সালমান ৫৯, শাহিন শাহ আফ্রিদি ১৩ রান করেন।

৩৮ ওভারে ১০২ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন মিরাজ। ৫৭ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৪তমবারের মত ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিলেন তিনি। এছাড়া তাসকিন ও তাইজুল ২টি করে এবং নাহিদ ১ উইকেট নেন।

দিনের শেষভাগে ১১ বল খেলার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। এসময় বিনা উইকেটে ৭ রান তুলে তারা। আলো স্বল্পতায় বিকেল সাড়ে ৫টায় দিনের খেলার ইতি ঘটে। সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত খেলা হবার কথা ছিল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৪১৩/১০, ১১৭.১ ওভার (শান্ত ১০১, মোমিনুল ৯১, মুশফিক ৭১, আব্বাস ৫/৯২)।

পাকিস্তান: ৩৮৬/১০, ১০০.৩ ওভার (আজান ১০৩, ফজল ৬০, রিজওয়ান ৫৯, সালমান ৫৮, মিরাজ ৫/১০২)।

বাংলাদেশ: ৭/০, ১.৫ ওভার (জয় ২*, সাদমান ০*)।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eighteen − 11 =