রসকদমনামা

মাসুম আওয়াল

মিষ্টি নয় তো যেন কদমের ফুল,
দেখলেই জিভে জল বয় কুল কুল।
খেতে মজা ছেলে বুড়ো সকলের জানা,
মিষ্টির গায়ে মাখা পোস্তর দানা।
শুনেছো কোথাও রসকদমের নাম
শোনো তাকে নিয়ে এই ছড়া লিখলাম।
বাংলাদেশেও খুব জনপ্রিয় এরা,
পশ্চিমবঙ্গেও মিষ্টিটা সেরা।
পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলায়,
প্রথম জন্ম তার কথা শোনা যায়।
ঘটনাটা আঠারোশো একষট্টির,
জানা হবে সব রাখো মন স্থির।
ভারতের মালদাতে, নয় তা দূরের,
ঘটনাটা ওপারের মেহেরপুরের।
এক ছিলো মিষ্টির নামি কারিগর,
তার ছিলো এক রসকদমের ঘর।
ইতিহাস দেখি আরো নানা কথা বলে,
প্রাক-আধুনিক যুগ থেকে এটা চলে।
তথ্যবহুল কোনো সূত্রতে নেই,
যাই হোক মিষ্টিটা খেতে লাগে সে-ই।
আরও নানা গল্পই আছে প্রচলন,
সেসব জানতে চায় খুব বুঝি মন।
হুসেন শাহের ছিলো রাজত্বকাল,
কেটে গেছে কতদিন কত কত কাল।
চৈতন্য মহাপ্রভু গৌড়ে এলেন,
সেখানে অনেক তিনি শিষ্য পেলেন।
এক কেলি কদম্ব গাছের ছায়ায়,
রূপ সনাতনকেই শেখান মায়ায়।
সেই কেলি কদম্ব গাছ থেকে নাকি,
রসকদমের সিরা ফেলে কোনো পাখি।
বৈষ্ণব লোকজন এই কথা বলে,
ইতিহাসে এই সব গল্প কী চলে!
শোনো ইতিহাসবিদ বলছেন যেটা-
সুলতানি আমলের মিষ্টিই এটা।
তারকাটা ভেঙে সেরা বাংলাদেশেও,
রসকদমের মজা নিয়েছো কী কেউ।
রাজশাহী শহরের রসকদমের,
পৃথিবীতে নাম ডাক ছড়িয়েছে ঢের।
পরিচিত ভারত আর আমেরিকাতেও,
সাথে নেয় এইখানে আসে যদি কেউ।
আত্মীয় স্বজনরা খুশি হয়ে নাচে,
রাজশাহীর রসকদম পায় যদি কাছে।
সিলেট ঢাকায় আরও চট্টগ্রামে,
এ মিষ্টি বেশ চলে তার নিজ নামে।
স্কুল-কলেজের ছাত্ররা আসে,
রসকদমের স্বাদ নেয় আর হাসে।
পরিবারে হলে কোনো বড় আয়োজন,
এই মিষ্টির স্বাদে ভালো হয় মন।
মিলাদ ও মাহফিলে পুজোতেও লাগে,
খেতে চাও পেয়ে যাবে আগে এলে আগে।
রাজশাহী মিষ্টান্ন ভান্ডার এসো,
মিষ্টির স্বাদ নিয়ে মন খুলে হেসো।
সাহেব বাজারে বেলীফুল, নবরুপ,
বানায় রসকদম খেলে হবে চুপ।
কীভাবে বানায় এই মিষ্টিটা শোনো,
মন দাও আর কথা বলবে না কোনো।
বিশ্বনাথের নাম বলি মনে করে,
বানান রসকদম তিন যুগ ধরে।
মিষ্টান্ন ভান্ডারের কারিগর যিনি,
নিয়ম কানুন সব বলছেন তিনি।
লাগবে দুধের মোয়া আর চিনি-ছানা,
চিনির গুলির সাথে সাদা সাদা দানা।
প্রথমে দুধের মোয়া, ছানা, চিনি দিয়ে,
দশটা মিনিট সেটা জ্বাল করে নিয়ে।
গরম গরম সেটা নাড়া দিতে হয়,
জুড়িয়ে তা গোল করো নেই কোনো ভয়।
গোল মিষ্টির গায়ে দাও সাদা দানা,
রসকদমের কথা হয়ে গেলো জানা।
ভাবছো কোথায় কবে মিষ্টিটা খাবে,
রাজশাহী চলে এসো সেরাটাই পাবে।
নকলে বাজার ভরা আসলটা চাই!
চলো চলো দল বেঁধে রাজশাহী যাই।

লেখাটির পিডিএফ দেখতে চাইলে ক্লিক করুন: নিবন্ধ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 × 1 =