রেকর্ড ১৫ বিলিয়ন ডলারের রাজস্বে ইতিহাস গড়ল ২০২৬ বিশ্বকাপ

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াই নয়, আর্থিক দিক থেকেও নতুন ইতিহাস গড়েছে। তিন স্বাগতিক দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত এই আসর থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ১৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রাজস্ব আয় করেছে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফিফার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার। তবে বিশ্বকাপ শেষে সেই লক্ষ্য ছাড়িয়ে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত আয় হয়েছে। টিকিট বিক্রি, হসপিটালিটি প্যাকেজ, সম্প্রচারস্বত্ব এবং বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব থেকে এসেছে এই অতিরিক্ত রাজস্ব।

বিশ্বকাপের আগের আসরগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে এ সাফল্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয় ছিল প্রায় ৭.৬ বিলিয়ন ডলার। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে আয় হয়েছিল ৫.৫ বিলিয়ন, ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে ৪.৭ বিলিয়ন এবং ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে প্রায় ৩.৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র এক আসরের ব্যবধানে ফিফার আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই রেকর্ড আয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের বিশ্বকাপ, যেখানে ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১০৪-এ। বেশি ম্যাচ মানে বেশি টিকিট বিক্রি, সম্প্রচার সময় বৃদ্ধি এবং স্পন্সরদের জন্য বড় বাণিজ্যিক সুযোগ।

এছাড়া অধিকাংশ ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রীড়া-বিনোদন বাজারের সুবিধা পেয়েছে ফিফা। উচ্চমূল্যের টিকিট ও করপোরেট হসপিটালিটি প্যাকেজও রাজস্ব বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

ফাইনালের সাধারণ গ্যালারির কিছু টিকিটের মূল্য প্রায় ১১ হাজার ৭০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছায়। অন্যদিকে ভিআইপি ট্রফি লাউঞ্জ হসপিটালিটি প্যাকেজের প্রতিটি টিকিটের মূল্য ছিল ৩৪ হাজার ৫০০ ডলার। পাশাপাশি পুনরায় বিক্রি হওয়া টিকিট থেকেও উল্লেখযোগ্য কমিশন আয় করেছে ফিফা।

সম্প্রচারস্বত্ব বিক্রি, নতুন স্পন্সরশিপ চুক্তি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকেও সংস্থাটির আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তবে অর্থনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি টুর্নামেন্টজুড়ে বেশ কয়েকটি বিতর্কও আলোচনায় ছিল। আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্ন, প্রযুক্তিগত কিছু ঘটনা এবং শৃঙ্খলাজনিত সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা দেখা দেয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও ওঠে, যদিও ফিফা তা অস্বীকার করে জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটি।

এসব বিতর্কের মধ্যেও রেকর্ড আয় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগামী নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে ২০০টির বেশি সদস্য দেশের সমর্থন পেয়েছেন তিনি।

ফিফা জানিয়েছে, বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত আয়ের বড় একটি অংশ বিশ্বজুড়ে ফুটবলের অবকাঠামো উন্নয়ন, সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়ন কর্মসূচি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করা হবে।

এদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপের আর্থিক সাফল্য ভবিষ্যতের আসর আয়োজন নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ২০৩৮ বিশ্বকাপ এককভাবে আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি ২০২৯ ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়েও ফিফার সঙ্গে দেশটির আলোচনা চলছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

four × 5 =