শরীরে ক্যালসিয়াম ঘাটতি হলে কিভাবে বুঝবেন

ক্যালসিয়াম ঘাটতির লক্ষণগুলো হলো: পেশিতে ব্যথা ও দুর্বলতা, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, আঙ্গুলে অসাড়তা, ঝিনঝিন অনুভূতি হওয়া, স্মৃতিশক্তি হারানো বা মতিভ্রম, হাতের নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখা ছাড়াও দেহের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে দরকার ক্যালসিয়াম।যেমন রক্ত জমাট বাঁধা, পেশির সংকোচন প্রসারণ এবং হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখা।

ম্যানহ্যাটনের সনদপ্রাপ্ত পুষ্টিবিদ এবং ‘সার্টিফায়েড ইনটিউইটিভ ইটিং কাউন্সিলর’ ব্রিটানি মোডাল ‘ওয়েলঅ্যান্ডগুড ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “নতুন অস্থিকোষ তৈরি করতে এবং হাড়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম চাই-ই চাই। বয়স যত বাড়তে থাকে শরীরে এই খনিজ উপাদানের গুরুত্ব আরও বাড়তে থাকে। ৯৯ শতাংশ ক্যালসিয়ামই জমা থাকে হাড়ে।”

ক্যালসিয়াম আর ভিটামিন ডি মিলে তৈরি হয় শক্তিশালী একটা জুটি।যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল অস্টিওপোরোসিস ফাউন্ডেশন (ওডিএস)’য়ের মতে, “ভিটামিন ডি’র কাজ হল শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করা। সেখান থেকেই তৈরি হয় শক্তিশালী হাড়।

মোডাল বলেন, “এছাড়াও ভিটামিন কে, ম্যাগনেসিয়াম আর পটাশিয়ামের সঙ্গে মিলেও হাড় শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে ক্যালসিয়াম।”যুক্তরাষ্ট্রের ‘অ্যাকাডেমি অফ নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেসিকস’য়ের মতে, “১৯ থেকে ৫০ বছর বয়সিদের প্রতিদিন ন্যূনতম ১০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন। নারীদের বয়স ৫০ পার হওয়ার পর আর পুরুষের বয়স ৭০ পার হওয়ার পর দৈনিক ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে হবে ১২০০ মিলিগ্রাম।”

ক্যালসিয়ামের ক্ষেত্রে বেশি মাত্রা মানেই ভালো নয়।যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেল্থ অফিস অফ ডায়েটারি সাপ্লিমেন্টস (ওডিএস)’য়ের মতে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণ করলে শরীরের ক্যালসিয়াম শোষণের হার মারাত্মক হারে কমে যায়।

একারণে দৈনিক ন্যূনতম মাত্রার পাশাপাশি দৈনিক ক্যালসিয়াম গ্রহনের সর্বোচ্চ মাত্রাও বেঁধে দেওয়া হয়।ওডিস’র তথ্য অনুযায়ী, “১৯ থেকে ৫০ বছর বয়সিদের সর্বোচ্চ ক্যালসিয়াম গ্রহণের মাত্রা হবে ২৫০০ মিলিগ্রাম। এর বেশি বয়সের মানুষের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ মাত্রা হবে ২০০০ মিলিগ্রাম।”

দুধের কথাই প্রথম মাথায় আসে ক্যালসিয়ামের উৎস হিসেবে।তবে মোডাল বলেন, উদ্ভিজ্জ উৎস থেকেও ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় যথেষ্ট। সবুজ শাকসবজিতে দুধের থেকেও বেশি ক্যালসিয়াম পাওয়া সম্ভব।আর ‘সাপ্লিমেন্ট’ নিতে হলে অবশ্যই আগে পুষ্টিবিদের সঙ্গে আলাপ করে নেওয়া উচিত।

বিডিনিউজ

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 × three =