হালান্ড ঝড়ে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ

আর্লিং হালান্ডের দুর্দান্ত জোড়া গোলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে নরওয়ে। প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইউরোপের দেশটি। অন্যদিকে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোর গণ্ডি পেরোতে ব্যর্থ হলো ব্রাজিল।

সোমবার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নরওয়ের জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন গোলরক্ষক ওরলান নাইল্যান্ড। প্রথমার্ধে ব্রুনো গুইমারেসের নেওয়া পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন তিনি। পাশাপাশি একাধিক দুর্দান্ত সেভ করে পুরো ম্যাচেই ব্রাজিলের আক্রমণ ভেস্তে দেন এই গোলরক্ষক।

ম্যাচের ৭৯ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের ক্রস থেকে হেডে গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন আর্লিং হালান্ড। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে শক্তিশালী শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্রাজিলের বিদায় নিশ্চিত করেন তিনি।

যোগ করা সময়ে ক্যাসেমিরোর আদায় করা পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করেন বদলি খেলোয়াড় নেইমার। তবে সেটি শুধু ব্যবধানই কমাতে পেরেছে।

এই জোড়া গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে হালান্ডের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাত। সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তিনি এখন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সমকক্ষ।

২৪ বছরের শিরোপা-খরা কাটানোর লক্ষ্য নিয়ে ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে দায়িত্ব দিয়েছিল ব্রাজিল। তবে তার অধীনেও হতাশাই সঙ্গী হলো সেলেসাওদের। টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের কাছে হেরে বিদায় নিতে হলো ব্রাজিলকে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় ব্রাজিল। তৃতীয় মিনিটেই প্যাট্রিক বার্গের গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এরপর ১৪ মিনিটে পেনাল্টি পেলেও ব্রুনো গুইমারেসের শট রুখে দেন নাইল্যান্ড। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি ও গুইমারেস একাধিক সুযোগ নষ্ট করলে গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই আক্রমণের গতি বাড়ায়। ৬৭ মিনিটে মাঠে নামেন নেইমার। তবে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন হালান্ড। শেষ ১১ মিনিটে দুই গোল করে নরওয়েকে ঐতিহাসিক জয় উপহার দেন তিনি।

এর ফলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ আটে জায়গা করে নিল নরওয়ে। আর ৩৬ বছর পর আবারও শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হলো ব্রাজিলকে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 × five =