৯৮১ দিনের অপেক্ষার অবসান, ব্রাজিলে ফিরেই আবেগে ভাসলেন নেইমার

প্রায় তিন বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে ফিরলেন নেইমার। আর সেই প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় হয়ে রইল অশ্রুসিক্ত এক আবেগঘন মুহূর্তে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচ শেষে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি দেশটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গুরুতর হাঁটুর চোটে জাতীয় দল থেকে ছিটকে পড়েছিলেন নেইমার। এরপর দীর্ঘ পুনর্বাসন, একাধিক চোট এবং অনিশ্চয়তা পেরিয়ে অবশেষে ৯৮১ দিন পর আবারও ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামেন তিনি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামার সময় গ্যালারিজুড়ে ধ্বনিত হয় ‘নেইমার, নেইমার’ স্লোগান।

মাঠে নামার পর গোল না পেলেও আক্রমণে প্রাণ ফেরান তিনি। তবে ম্যাচ শেষে আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননি। দর্শকদের অভিবাদন গ্রহণের সময় বারবার চোখ মুছতে দেখা যায় তাকে। পরে পরিবারের সদস্যদের আলিঙ্গন করতেও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ব্রাজিলিয়ান তারকা।

ম্যাচ শেষে নেইমার জানান, ড্রেসিংরুমে ফিরে একা বসেই কেঁদেছিলেন তিনি।

তার ভাষায়, “লকার রুমে ফিরে আমি একা ছিলাম। কয়েক ফোঁটা চোখের জল ফেলেছি। এতদিন পর আবার এই মুহূর্তগুলো ফিরে পাওয়া এক অসাধারণ অনুভূতি। আমি কৃতজ্ঞ, আবারও ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপে খেলতে পেরেছি।”

৩৪ বছর বয়সী নেইমারের এটি চতুর্থ বিশ্বকাপ। ব্রাজিলের হয়ে ৭৯ গোল করে তিনি দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলে ফিরে তিনি বলেন, এখনকার দলটিকে নতুন চোখে দেখছেন।

“অনেকদিন দূরে ছিলাম। দলটাও বদলে গেছে। সবকিছু নতুন মনে হচ্ছে। কিন্তু বিশ্বকাপে আবার ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার জন্য গর্ব ও আনন্দের বিষয়।”

স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছে ব্রাজিল। শিরোপার পথে এগিয়ে চলা সেলেসাওদের জন্য নেইমারের প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে বড় এক প্রাপ্তি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 − four =