কাউন্টি ক্রিকেটের অভিজ্ঞতাই ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে হাসানকে

ঢাকা, ১৩ আগস্ট ২০২৬ – অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনেই ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে বাংলাদেশকে দারুণ সূচনা এনে দিয়েছেন পেসার হাসান মাহমুদ। ১৭ ওভারে মাত্র ৫৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। হাসানের মতে, সম্প্রতি ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে ভালো করতে তাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।

হাসানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে টস জিতে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়া ১৯৮ রানে অলআউট হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে কোনো বাংলাদেশি বোলারের এটিই এখন সেরা বোলিং ফিগার। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে ৫ উইকেট নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি বোলারও হলেন হাসান।

দিনের খেলা শেষে হাসান জানান, ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেট এবং ডারউইনের কন্ডিশনের মধ্যে তিনি বেশ কিছুটা মিল পেয়েছেন।

তিনি বলেন, “অভিজ্ঞতার কথা বলতে গেলে, আমি দুই জায়গার কন্ডিশনের মধ্যে বেশ মিল পেয়েছি। সেখানে বল করার পর এখানকার কন্ডিশনে কীভাবে বল করতে হবে এবং কোন লাইন-লেন্থে বল করা উচিত, সে বিষয়ে আমার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।”

সকালের আর্দ্রতা ও নরম উইকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের পেসাররা শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের চাপে রাখেন। বল থেকে ভালো সিম মুভমেন্ট আদায় করে নেন তারা।

হাসান বলেন, “সকালে উইকেটে কিছুটা আর্দ্রতা ছিল। উইকেট নরম ছিল এবং সিম মুভমেন্টও ভালো ছিল। আমরা সুশৃঙ্খলভাবে এবং জুটি বেঁধে বোলিং করার পরিকল্পনা করেছিলাম। শেষ পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক হয়েছে।”

ট্রাভিস হেড ও স্টিভেন স্মিথের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারদের ফিরিয়ে দেন হাসান। স্মিথের উইকেট সম্পর্কে তিনি বলেন, “স্মিথের উইকেটটির কথা বলব, সে বুঝতে পারেনি কী হতে যাচ্ছে। আমার মনে হচ্ছিল সে কিছু একটা করবে। আমি বাউন্সার দিলাম এবং সে মিস করল।”

তবে নিজের সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব একা নিতে চাননি হাসান। তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনের কার্যকর বোলিংয়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দুই প্রান্ত থেকে ধারাবাহিক চাপ তৈরি করতে পারায় অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।

“অন্য প্রান্ত থেকে এবাদত ও তাসকিন দারুণ বল করেছে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার ওপর আমরা চাপ তৈরি করতে পেরেছিলাম। শেষ পর্যন্ত ফলাফলটা আমাদের অনুকূলেই এসেছে,” বলেন হাসান।

অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতেও দিনটি ভালোভাবে শেষ করেছে বাংলাদেশ। সাদমান ইসলাম ২০ রান করে আউট হলেও দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদ হাসান ও মোমিনুল হকের অবিচ্ছিন্ন ৬০ রানের জুটিতে দিনশেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৯৬ রান।

বাংলাদেশের ব্যাটারদের প্রশংসা করে হাসান বলেন, “ব্যাটাররাও দারুণ করেছে। দুর্ভাগ্যবশত সাদমান আউট হয়ে গিয়েছে। তানজিদ ও মোমিনুল ভালো জুটি গড়ে আমাদের এগিয়ে দিয়েছে।”

প্রথম দিনের শেষে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ১০২ রানে পিছিয়ে থাকলেও ৯ উইকেট হাতে নিয়ে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনে এই অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করাই এখন টাইগারদের লক্ষ্য।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

thirteen − nine =