তৃতীয় সকালে হাসান মাহমুদ ম্যাজিকে চালকের আসনে বাংলাদেশ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে অনুষ্ঠানরত বাংলাদেশ আফগানিস্তান একমাত্র টেস্টের দ্বিতীয় দিনশেষে ম্যাচ প্রায় সমতায় ছিল। তৃতীয় সকালে উভয় দলের সামনেই ছিল এগিয়ে যাবার সমান সুযোগ। কিন্তু হাসান মাহমুদ এবাদত জুটি নতুন বলে মরু ঝড় তুলে তীব্র আঘাত হানে আফগান দুর্গে। এবাদত-হাসান ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় আফগান প্রতিরোধ। সূচনা করে নতুন বল নিয়ে এবাদত। দুর্দান্ত এক ইনসুইং উপড়ে ফেলে উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান ইকরাম আলিখেলের উইকেট। শেষ হয় রহমাত শাহ-আলিখেল ৮০ রানের প্রতিরোধ। ৪/২১৯ থেকে ২১০ অল আউট।

হাসান মাহমুদ জাদুতে ঝড়ে পরে আফগান প্রতিরোধ। হাসান মাহমুদ অর্জন করে টেস্ট ক্রিকেট হ্যাট্রিক। পর পর তিন বলে কায়েস, জিয়া আর ইয়ামেনের উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ পেস আক্রমণের নতুন সম্পদ হাসান মাহমুদ। হাসান (৫/৫৫) টেস্ট ক্রিকেটে চতুর্থ বারের মোট অর্জন করে ৫ উইকেট। সঙ্গী এবাদতের ৪/৫৬। ২৪০ রানে আফগান ইনিংস শেষ হলে ১০৬ রানের বিশাল লিড পায় বাংলাদেশ। বৃথা যায় রহমত শহর অপরাজিত ১০৫ রানের অসামান্য লড়াকু ইনিংস।

অথচ উইকেটে সামান্য অসম বাউন্স ছাড়া বোলারদের জন্য কিছুই ছিল না। নতুন বলে হাসান মাহমুদ-ইবাদাত হোসাইন জুটির তাণ্ডবের জন্য বাংলাদেশ উন্নতশীল উঁচু মানের পেস আক্রমণ সম্পদকেই কৃতিত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে কিন্তু আফগান পেস বোলারস ইয়ামিন, সালিম, ইসমাত আর স্পিনার জিয়া সামর্থ্যের সব কিছু দিয়ে লড়াই করেছে। তবে মিডেল বাংলাদেশ ক্রিকেটের পরম সম্পদ মুশফিকুর রহিমের (৮১) সঙ্গে ভাগ্যের সহায়তায় দীর্ঘ সময় উইকেটে থাকা অধিনায়ক নাজমুল শান্ত (৮২) চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১৫৯ রান যোগ করায় দিনশেষে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ২২৩/৬। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রান এগিয়ে থাকার সুবাদে ৩২৯ রান লিড নিয়ে বাংলাদেশ এখন আছে স্বস্তির অবস্থানে। আফগান ফিল্ডার্সদের ব্যার্থতায় অন্তত তিন বার বেঁচে যায় একসময় নড়বড়ে থাকা শান্ত। সুযোগগুলো হাতছাড়া না হলে ম্যাচ পরিস্থিতি ভিন্ন হতেও পারতো। তবে শুরু থেকে অসামান্য দৃঢ়তার সঙ্গে স্বাচ্ছন্দে খেলেছে মুশফিক।

ম্যাচের বর্তমান অবস্থায় দুই আগ্রাসী পেসার আর ক্ষয়িষ্ণু উইকেটে তিন ভালো মানের উইকেট টেকিং স্পিনার নিয়ে বাংলাদেশ টেস্ট জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারে। উইকেটে এখনো আছে লিটন কুমার দাস এবং মেহেদী  মিরাজ। এই উইকেটে প্রচণ্ড গরমে চতুর্থ ইনিংসে ৩৭০+ রান তাড়া করা বা দীর্ঘ সময় প্রতিরোধ করে পরাজয় এড়ানো হয়ত আফগান সামর্থে সম্ভব হবে না। টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে নিশ্চিত করে সুনিশ্চিত আগাম পূর্বাভাস দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ না হলেও বলবো বাংলাদেশের নিতান্ত দুর্ভাগ্য না হলে এই টেস্ট জয়ী না হওয়ার কারণ দেখছি না।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৩৪৬ অল আউট  (তানজিদ হাসান তামিম ৮৩, সাদমান ইসলাম ৬৭, লিটন কুমার দাস (৫৩) , মোমিনুল হক (৩৯) , নাঈম হাসান ৩৫, নাজমুল হোসেন শান্ত (২৯), মেহেদী হাসান মিরাজ (২৪) , মোহাম্মদ সেলিম (৪/৮২) , ইসমাত আলম (২/২০) ইয়ামিন আহমেদজাই (৩/৭৯)

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস ২২৩/৬ (নাজমুল হোসেইন শান্ত ৮২, মুশফিকুর রহিম ৮১, তানজিদ তামিম ৩১, ইয়ামীন আহমেদজাই ২/৪২, জিয়াউর রহমান ২/৫৫)

আফগানিস্তান প্রথম ইনিংস ২৪০ অল আউট  (রহমাত শাহ ১০৫* , আব্দুল মালিক ৬২, ইকরাম আলিখিল ৩২, ইবাদাত হোসেইন ৪/৫৬, হাসান মাহমুদ ৫/৫৫, মেহেদী মিরাজ ১/৪১)

৪ উইকেট হাতে নিয়ে ৩২৯ রানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + one =