পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরল রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

বাগেরহাটের রামপালে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ মালিকানাধীন ১,৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট (রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র) ৮ দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরেছে।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে এর দ্বিতীয় ইউনিটটি চালু করার মাধ্যমে দুটি ইউনিটই সচল হয়েছে।

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা দ্বিতীয় ইউনিটটি রক্ষণাবেক্ষণ শেষে রোববার দুপুর ১২টায় চালু করা হয়েছে। চালুর পর প্রাথমিকভাবে ৩৬৮.৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে চাহিদা অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি করা হবে। কেন্দ্রটিতে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ কয়লা মজুদ রয়েছে।

এর আগে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর (রোববার) দুপুর সাড়ে ১১টায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিগত ৮ দিন ধরে একটি ইউনিট দিয়ে কেন্দ্রটি সচল রাখা হয়েছিল, যার কারণে উৎপাদন কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি গ্রহণের পর ২০১২ সালে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও ভারতের এনটিপিসির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। গঠিত হয় ‘বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড’ (বিআইএফপিসিএল)।

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সাপমারী-কৈগর্দ্দাশকাঠি মৌজায় ১ হাজার ৩৪ একর জমিতে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১,৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার এই কেন্দ্রটি নির্মিত হয়।

দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর প্রথম ইউনিট এবং ২০২৩ সালের ২৪ অক্টোবর দ্বিতীয় ইউনিট উৎপাদনে যায়। দুটি ইউনিট যৌথভাবে সচল থাকলে সর্বোচ্চ ১,১০০ থেকে ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করতে সক্ষম এই কেন্দ্রটি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

three × 4 =