বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ব্রাজিল দলে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে প্রথমার্ধে পাওয়া পেনাল্টি। ফর্মের তুঙ্গে থাকা ভিনিসিউস জুনিয়রের বদলে ব্রুনো গিমারাইস পেনাল্টি নেওয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। তবে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ভিনিসিউস।
রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা জানিয়েছেন, পেনাল্টি নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি কোচ কার্লো আনচেলত্তির ছিল এবং তিনি কখনোই দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানাননি।
ভিনিসিউস বলেন, “কোচ আগেই ঠিক করে দিয়েছিলেন ব্রুনো গিমারাইস পেনাল্টি নেবে। আমি কখনোই স্বার্থপর নই এবং টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়াই আমার লক্ষ্য ছিল না। ব্রুনো আমার চেয়ে ভালো পেনাল্টি নেয়, তাই কোচ তাকে বেছে নিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “অনেকে ভাবতে পারেন আমি দায়িত্ব এড়িয়ে গেছি। কিন্তু সেটা সত্য নয়। কোচ যখনই আমাকে দায়িত্ব দেন, আমি পেনাল্টি নিই। রিয়াল মাদ্রিদের হয়েও আমি নিয়মিত তা করেছি। দায়িত্ব নিতে আমি কখনো পিছিয়ে যাইনি।”
ম্যাচের ১৪তম মিনিটে পাওয়া সেই পেনাল্টি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ব্রুনো গিমারাইস। পরে আর্লিং হলান্ডের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে হেরে ৩৬ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
ম্যাচ শেষে কোচ কার্লো আনচেলত্তিও পেনাল্টি নির্বাচনের ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, গত এক বছর ধরে দলের খেলোয়াড়দের পেনাল্টি নেওয়ার দক্ষতা বিশ্লেষণ করে একটি ক্রম নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইনজুরির কারণে রাফিনিয়া না থাকায় নেইমার, ইগোর থিয়াগোর পর মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে ব্রুনো গিমারাইসই ছিলেন তাদের প্রথম পছন্দ।
আনচেলত্তি বলেন, “পেনাল্টি মিস করতেই পারে। আজ সেটাই আমাদের সঙ্গে হয়েছে। এজন্য আমি কোনো একক খেলোয়াড়কে দায়ী করছি না।”
পরিসংখ্যানও কোচের সিদ্ধান্তের পক্ষে কথা বলছে। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে পেনাল্টি নেওয়ার সাফল্যের হার বিবেচনায় ভিনিসিউসকে কোচিং স্টাফের শীর্ষ পছন্দের তালিকায় রাখা হয়নি।