অলকানন্দা মালা
একটা সময় ছিল টিভি খুললেই দেখা যেত অভিনেত্রী সুমাইয়া শিমুকে। মিষ্টি হাসি ও দক্ষ অভিনয়ে সম্মোহিত করতেন দর্শকদের। তার অভিনয়ে মুগ্ধ থাকতেন নাটকপ্রেমীরা। সে অনেক আগের কথা। শিমুকে অনেক দিন হলো পর্দায় দেখা যায় না। ফলে মাঝের একটি প্রজন্ম অভিনেত্রীর কথা প্রায় ভুলেই গেছে। আর যারা তার ভক্ত ছিলেন তারাও আক্ষেপে পুড়ছিলেন। এ আক্ষেপ অভিনেত্রীকে নতুন করে না দেখার। তবে তা ঘুঁচেছে। নির্মাতা নুহাশ হুমায়ুনের ২ষ ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে ফিরেছেন সুমাইয়া শিমু। অভিনয় করেছেন এর শেষ কিস্তি বেসুরায়। এরই মধ্যে মুক্তি পেয়েছে সিরিজটি। শিমুকে নতুন করে পেয়ে খুশি ভক্তরা। সামাজিকমাধ্যমে চলছে আলোচনা। বিষয়টি বেশ ভালো লাগছে অভিনেত্রীর। সব কিছু নিয়ে অভিনেত্রী কথা বললেন রঙবেরঙের সঙ্গে।
২য় তে কাজ করে কেমন সাড়া পেলেন?
এটিকে মিউজিক্যাল হরর গল্প বলে সম্বোধন করা হচ্ছে। এখানে বেশ কিছু মনস্তাত্ত্বিক বিষয় উঠে এসেছে। রিলিজের পর থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। আশা করি দর্শকের ভালো লাগবে। কেননা কাজটি ভালো। আমার চাওয়া কনটেন্টটি সবাই দেখুন।
আপনার চরিত্রটি কেমন ছিল…
ভিন্নধর্মী একটি চরিত্র। এতে আমার সাজসজ্জা পোশাক পরিচ্ছদ সবই অর্থবহ। এটি আমাকে চরিত্রটি উপস্থাপন করতে বেশ সাহায্য করেছে। যখন এই বেশে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতাম তখন কাজটা কেন যেন অনেক সহজ হয়ে যেত।
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পাহাড়ি এলাকায় শুটিংয়ের সেট ফেলা হয়েছিল। কিন্তু আমার পক্ষে ঢাকার বাইরে শুটিং করা সহজ ছিল না। তাই যখন শুনলাম কাজটি করতে ঢাকার বাইরে যেতে হবে তখন বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই। কিন্তু সিদ্ধান্ত বদলাতে হয় নুহাশের কথা শুনে। তার সঙ্গে কথা বলে মনে হলো কাজটি আমার করা উচিত। সে কারণেই কষ্ট উপেক্ষা করে সীতাকুণ্ডে চলে যাই শুটিং করতে।
সামাজিকমাধ্যমের কারণে তারকা-ভক্তদের দূরত্ব কমেছে, কীভাবে দেখছেন?
যখন নিয়মিত কাজ করতাম তখন সামাজিকমাধ্যমের প্রসার এখনকার মতো ঘটেনি। ফলে দর্শকের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকা সম্ভব ছিল না। কেউ কেউ ফোন করতেন। কিন্তু আমার ফোন নাম্বার তো আর সবার কাছে ছিল না। তাই সে সুযোগটি কম ছিল। কোথাও গেলে হয়তো দেখা হতো। এর বাইরে পত্রিকার মাধ্যমে ভক্তরা আমাদের সম্পর্কে জানতে পারতেন। এখন সামাজিকমাধ্যমের কারণে আমরা তাদের অনেক কাছাকাছি থাকছি। চাইলেই অনুরাগীরা আমাদের ছবিতে বা পোস্টে মন্তব্য করতে পারছেন। যেটা আমাদের জন্য ইতিবাচক। সহজেই তাদের মতামত জানতে পারছি। ওই জায়গা থেকে বলতে চাই শুধু প্রশংসা না, গঠনমূলক সমালোচনা করুক সবাই।
ওটিটিতে প্রথম কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
ওটিটি এখন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়। আন্তর্জাতিক মানের কাজ হয় এখানে। নিজেরও আগ্রহ রয়েছে। এই মাধ্যমের কিছু বিশেষত্ব রয়েছে। এখানে সব খাতের জন্য আলাদা দেখভালের ব্যবস্থা থাকে। গোছানো সব কিছু। আমি একজন অভিনয়শিল্পী। আমার কাজ অভিনয়। এর বাইরে অন্য কিছু নিয়ে আমাকে মাথা ঘামাতে হয়নি।
এখানে বৈচিত্র্যের কারণটা কী?
টিভি নাটকে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। একজন নির্মাতা চাইলেই মন খুলে কাজ করতে পারতেন না। বাজেটের স্বল্পতা মাথায় রাখতে হতো। ফলে অনেক কিছুই সম্ভব হতো না। ওটিটিতে সে সীমাবদ্ধতা নেই বলে মনে হয়েছে আমার। ফলে মন খুলে কাজ করতে পারছেন নির্মাতারা। যারা সীমাবদ্ধতার কারণে অন্য মাধ্যমে মনের মতো কাজ করতে পারেননি এখানে তারাও পারছেন। অভিনয়শিল্পীরাও ভিন্নধর্মী কাজে নিজেকে যুক্ত করতে পারছেন।
নতুনদের সঙ্গে কাজ করে কেমন মনে হয়েছে?
আমি কিছুটা চিন্তিত ছিলাম। এখন যারা কাজ করছেন তাদের সঙ্গে কাজ করা হয়নি। খাপ খাইয়ে নিতে পারব কি না ভাবছিলাম। কিন্তু সবাই আমাকে এত দারুণভাবে গ্রহণ এবং সম্মান করেছেন সেটা আশাতীত ছিল।
এটাকে প্রত্যাবর্তন বলা যায়?
প্রত্যাবর্তন বলবেন না প্লিজ। এমন তো না যে একেবারে কাজ বাদ দিয়েছি। মাঝে মাঝে করি। এছাড়া আত্মিকভাবেও অভিনয়ের সঙ্গে আছি। এই অঙ্গনের মানুষের সঙ্গে আছি। তাই প্রত্যাবর্তন বলবেন না।
নুহাশ হুমায়ূনের পরিচালনায় কাজ করলেন, কেমন লাগল?
নুহাশ হুমায়ূন প্রতিশ্রুতিশীল পরিচালক। এরই মধ্যে তিনি তার আগের কাজগুলো দিয়ে প্রমাণ করেছেন। সব মিলিয়ে কাজটা করে ভালো মনে হয়েছে। আমার বিশ্বাস, তিনি আরও অনেক ভালো কাজ আমাদের উপহার দেবেন।
একসময় প্রায় প্রতিদিন শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন, সময়টা মিস করেন?
না, ওইভাবে মিস করা হয় না। যখন নিয়মিত কাজ করেছি, তখন একরকম জীবন ছিল। এখন জীবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে, গুরুত্বের জায়গা বদলেছে। এখন চাইলেও আগের মতো কাজ করতে পারব না। আগে যে ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতাম, সেগুলো মানাবেও না। আবার এটাও সত্যি, অনেক দিন শুটিং না করলে খারাপ লাগে। কারণ অভিনয়কে ভালোবাসি। মানুষ আমাকে চেনে অভিনয়শিল্পী হিসেবে। কিন্তু বর্তমান জীবন নিয়েও আমি খুশি। তবে অভিনয়টা কম হোক বেশি হোক, করতে চাই।
আপনাকে অভিনয়ে নিয়মিত পাওয়া যাবে?
নিয়মিত পাওয়া যাবে না। তবে কাজ করব। কিন্তু আগে যেরকম সারাক্ষণ শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম সেটি সম্ভব হবে না। যদিও ওটিটিতে এখন দারুণ সব কাজ হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের গল্প নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট চলছে। অনেকেই কাজের জন্য ডাকছেন। আমি একটু ভাবছি। কোনটা আমার জন্য ভালো হবে, কোনটা ভালো হবে না। যেহেতু আগের মতো সময় দিতে পারব না, তাই যে কাজগুলো করব ভেবেছি বেছে বেছে করব। যে কাজগুলো নিজের জন্য ভালো মনে হবে, নিজের কাছে ভালো লাগবে সেগুলো করব।
আজকাল তারকাদের প্রায়ই ক্যামেরার সামনে দেখা যায়…
সব সময় চাই আমি না, আমার কাজ আমার হয়ে কথা বলবে। সে কারণেই কাজ ছাড়া কথা বলাটা প্রয়োজন মনে করি না। এই যে আপনার সঙ্গে কথা বলছি কাজের কারণে কিন্তু। ফলে একটি কাজের কথা বলতে গিয়ে আরও কয়েকটি কাজের কথা বলা হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কাজ ছাড়া অনেকেই আমাকে ফোন করেন। আমি বিনয়ের সঙ্গে এড়িয়ে যাই। কারণ আমি ভাইরাল হতে চাই না। কাজ নিয়ে কথা বলতে চাই।
আপনার প্রতিষ্ঠান বেটার ফিউচার ফর হিউম্যানের কী খবর?
আমি সবসময় নারীদের নিয়ে কাজ করতে চাই। নারীর শিক্ষা-দীক্ষা দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে উন্নয়ন; এসব বিষয় নিয়ে কাজ করি। আমি চাই নারী অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হোক। এসব নিয়ে কাজ করছি। ভবিষ্যতেও করে যাব।
বর্তমান ব্যস্ততা কি নিয়ে?
এই তো ২ষ করলাম। এর আগে টেন মিনিট স্কুলের একটি কাজ করেছি।
বাচ্চারা কেমন আছে?
ওরা বেশ ভালো আছে, সুস্থ আছে। দোয়া করবেন। ওদের নিয়েই সারাদিন কাটে।
লেখাটির পিডিএফ দেখতে চাইলে ক্লিক করুন: আলাপচারিতা