বিশ্লেষণ – মিকেল মেরিনোর শেষ মুহূর্তের গোলে পর্তুগালকে বিদায়, কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর বহুল প্রতীক্ষিত ‘আইবেরিয়ান ডার্বি’তে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে স্পেন। টেক্সাসের আর্লিংটনের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শেষ মুহূর্তে মিকেল মেরিনোর করা একমাত্র গোলই গড়ে দেয় জয়-পরাজয়ের ব্যবধান।

পশ্চিম ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি স্পেন ও পর্তুগালের লড়াই বরাবরই বিশ্ব ফুটবলে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। দক্ষিণ আমেরিকার সঙ্গে দীর্ঘ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের কারণে দুই দলের খেলায় ইউরোপীয় গতিময়তা এবং লাতিন ফুটবলের শৈল্পিক ছন্দের অনন্য সমন্বয় দেখা যায়। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবারও দুই দলের লড়াই ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে জমিয়ে তোলে লড়াই। একাধিক গোলের সুযোগ সৃষ্টি হলেও দুই গোলরক্ষকের দৃঢ়তা এবং রক্ষণভাগের সুশৃঙ্খল পারফরম্যান্সে দীর্ঘ সময় গোলশূন্য ছিল ম্যাচ। তবে নির্ধারিত সময়ের অন্তিম মুহূর্তে মিকেল মেরিনোর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় স্পেন, আর সেই গোলেই নিশ্চিত হয় স্প্যানিশদের জয়।

এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায় নিলেন পর্তুগালের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ, একাধিক ব্যালন ডি’অরসহ ক্লাব ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে অসংখ্য সাফল্য অর্জন করলেও বিশ্বকাপ শিরোপা অধরাই থেকে গেল তাঁর ক্যারিয়ারে। বিদায়ী ম্যাচে কয়েকটি মুহূর্তে নিজের ঝলক দেখালেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তিনি প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেননি।

অন্যদিকে, এই জয়ের মাধ্যমে শুধু কোয়ার্টার ফাইনালেই ওঠেনি স্পেন, গড়েছে অনন্য এক রেকর্ডও। বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচে কোনো গোল হজম করেনি স্প্যানিশরা। এবারের আসরে গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দে, উরুগুয়ে ও সৌদি আরব, এরপর নকআউট পর্বে অস্ট্রিয়া ও পর্তুগাল—কোনো দলই স্পেনের জালে বল পাঠাতে পারেনি। এর আগে ২০২২ বিশ্বকাপে মরক্কোর বিপক্ষেও নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ে ক্লিন শিট ধরে রেখেছিল স্পেন, যদিও টাইব্রেকারে বিদায় নিতে হয়েছিল। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচ এবং ১০ ঘণ্টা ৯ মিনিট ধরে গোল না খাওয়ার বিরল কীর্তি গড়েছে স্পেন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন রেকর্ড।

কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ হবে বেলজিয়াম, যারা শেষ ষোলোতে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করেছে। দুই ইউরোপীয় শক্তির এই লড়াই ঘিরেও ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে ব্যাপক আগ্রহ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

twenty − fifteen =