বেইজিং সফরে বড় কোনো অর্জন নেই যুক্তরাষ্ট্রের

চীনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশে ফিরেছেন সীমিত কিছু অর্থনৈতিক সাফল্য ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতি একাধিক প্রশংসাবাক্য নিয়ে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর থেকে প্রত্যাশিত বড় কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার (১৫ মে) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শফরকালে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা বাণিজ্য, জ্বালানি ও কৃষিপণ্যসহ কিছু অর্থনৈতিক বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছান। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, কৃষিপণ্য, গরুর মাংস ও জ্বালানি বিক্রির ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কাঠামো তৈরির কথাও হয়েছে। তবে বাজারে আশাবাদ জাগানোর মতো বড় কোনো চুক্তির স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি।

ট্রাম্প দাবি করেন, চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাণিজ্যিক বিমান কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত অর্ডারের পরিমাণ বাজার প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম হওয়ায় বিমান নির্মাতা কোম্পানি বোয়িং-এর শেয়ারে পতন দেখা যায়।

সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল ইরান সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরান যুদ্ধ“কখনোই শুরু হওয়া উচিত ছিল না এবং এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

এছাড়া আলোচনায় আসে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ও, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।

চীনা নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে জানায়, তাইওয়ান ইস্যু ভুলভাবে পরিচালনা করা হলে তা বড় ধরনের সংঘাতের দিকে যেতে পারে। এই সতর্কবার্তা সফরের তুলনামূলকভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেও কূটনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয়।

সফর শেষে ট্রাম্প বলেন, বৈঠকগুলো খুবই ইতিবাচক ছিল এবং তিনি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় অনেক সাদৃশ্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি পেয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরান নীতি বা ভূরাজনৈতিক সংকটে চীনের কাছ থেকে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি আদায় করতে পারেনি ওয়াশিংটন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৈঠক মূলত দুই পরাশক্তির সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল রাখলেও বাস্তব অগ্রগতির দিক থেকে সীমিত ফলাফলই দিয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

two × five =