সহকর্মীদের মাঝে সৃজনশীলতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাভাবনার বিকাশে একঅগ্রণী উদ্যোগ নিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। ব্যাংকটি নিজেদের সহকর্মীদের লেখা নিয়ে ‘কথামালা’ নামক একটি ইন-হাউস সাহিত্য সাময়িকী প্রকাশ করেছে।
উল্লেখ্য, ব্যাংকিং খাতে এ ধরনের উদ্যোগএটিই প্রথম, যা কর্মক্ষেত্রে গল্পবলার দক্ষতা, ব্যতিক্রমী চিন্তা এবং শিল্প-সাহিত্যের চর্চা লালন করার ক্ষেত্রে ব্র্যাক ব্যাংকের অঙ্গীকারকে তুলে ধরেছে।‘কথামালা’ এমন একটি সাহিত্যিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ব্যাংকটির সহকর্মীদের বহুমাত্রিক ভাবনাপ্রকাশ পেয়েছে।
এই সাহিত্য সাময়ীকির মাধ্যমে ব্যাংকটির সহকর্মীরা ছোটগল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা,ভ্রমণকাহিনী এবং অন্যান্য সাহিত্যধারার মাধ্যমে নিজেদের অভিব্যক্তি তুলে ধরতে পারেন। এই উদ্যোগটি প্রতিষ্ঠানে প্রাণবন্ত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ওয়ার্ক-কালচারের বিকাশে ভূমিকা রাখছে, যা সহকর্মীদের পেশাগত উৎকর্ষতার পাশাপাশি সৃজনশীলতার বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ প্ল্যাটফর্ম রিডিং ক্যাফের উদ্যোগে সহকর্মীদের লেখা নিয়ে অমর একুশে বইমেলায় ‘প্রতিস্বর’ নামক একটি বই প্রকাশিত হয়,যা পাঠকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছিল। এটি ছিল বাংলাদেশের কোনো ব্যাংকের রিডিং ক্লাব সদস্যদের লেখা প্রথম বই। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ব্যাংকটি এই সাহিত্য সাময়ীকি প্রকাশের উদ্যোগ নেয়, যা প্রতি চার মাস পর পর প্রকাশিত হবে।
ব্র্যাক ব্যাংকের এমন ব্যতিক্রমী ও কর্মীবান্ধব উদ্যোগ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে ব্যাংকটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, “কথামালা কেবল একটি সাহিত্য ম্যাগাজিনই নয়; এটি আমাদের সম্মিলিত বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও চিন্তাভাবনার প্রতিফলন। এই উদ্যোগ আমাদের সেই বিশ্বাসকেই তুলে ধরে যে,একটি আদর্শ কর্মপরিবেশ কেবল ব্যবসায়িক সাফল্য দিয়ে নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল বিকাশ দিয়েও সংজ্ঞায়িত হয়। আমরা এমন একটি কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে আমাদের সহকর্মীরা পেশাগত ও ব্যক্তিগত—উভয় ক্ষেত্রেই উৎকর্ষ অর্জন করতে পারেন।”
তিনি আরও বলেন, “সহকর্মীদের সাহিত্যচর্চায় উদ্বুদ্ধ করা এবং নিজেদের সাহিত্যিক ভাবনা প্রকাশের সুযোগ তৈরি করার মাধ্যমে আমরা এমন জনবল গড়ে তুলছি, যারা পেশাদার জীবনের পাশাপাশিমননশীল ও সৃজনশীল সমাজ গঠনে অবদান রাখছে। ব্র্যাক ব্যাংকে এমন সহকর্মী ও কর্মপরিবেশ নিয়ে আমি গর্বিত।”