রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ

পেসার নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-১’এ সমতা ফেরাল স্বাগতিক বাংলাদেশ। খবর বাসস

আজ সোমবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে হারিয়েছে সফরকারী নিউজিল্যান্ডকে। সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ২৬ রানে জিতেছিল কিউইরা।

এ ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে রানার বোলিং তোপে ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। ১০ ওভার বল করে ৩২ রানে ৫ উইকেট নেন রানা। জবাবে তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তর জোড়া হাফ-সেঞ্চুরিতে ৮৭ বল বাকী থাকতে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। তানজিদ সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেন। শান্ত ৫০ রানে আহত অবসর নেন।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডের মত এই ম্যাচেও টস হেরে প্রথমে ফিল্ডিংয়ে নামে স্বাগতিক বাংলাদেশ। টাইগারদের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামের আঁটসাঁট বোলিংয়ে প্রথম ৭ ওভারে ২৫ রান তুলেন নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার হেনরি নিকোলস ও নিক কেলি।

তাসকিন-শরিফুল উইকেটের দেখা না পাওয়ায় অষ্টম ওভারে প্রথমবারের মত আরেক পেসার রানাকে বোলিংয়ে আনেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথম ডেলিভারিতেই উইকেটের দেখা পান রানা। ১৩ রান করা নিকোলসকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন রানা।

তিন নম্বরে নামা নতুন ব্যাটার উইল ইয়ংকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি রানা। নিজেদের দ্বিতীয় ওভারে ইয়ংকে ২ রানে শিকার করেন তিনি। পরপর দুই ওভারে রানার জোড়া আঘাতের পর বাংলাদেশকে তৃতীয় উইকেট এনে দেন ছয় মাস পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা মিডিয়াম পেসার সৌম্য সরকার। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথামকে ১৪ রানে বিদায় দেন সৌম্য।

৫২ রানে ৩ উইকেট পতনের পর নিউজিল্যান্ডকে চাপমুক্ত করেন কেলি ও মুহাম্মদ আব্বাস। চতুর্থ উইকেটে ৬৬ বলে ৫৬ রান যোগ করে দলের স্কোর ১শ পার করেন তারা। এই জুটিতে ওয়ানডেতে প্রথম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান কেলি। কেলি-আব্বাসের জমে যাওয়া জুটিতে ভাঙন ধরান রানা। ৩৪ বলে ১৯ রান করা আব্বাসকে দারুণ ক্যাচে সাজঘরের পথ দেখান উইকেটরক্ষক লিটন দাস।

হাফ-সেঞ্চুরির ইনিংসকে বড় করে শতকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন কেলি। কিন্তু ব্যক্তিগত ৮৩ রানে শরিফুলের বলে মিড উইকেটে তাওহিদ হৃদয়কে ক্যাচ দেন তিনি। ১০২ বল খেলে ১৪টি বাউন্ডারি হাঁকান কেলি। দলীয় ১৪৫ রানে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে কেলি ফেরার পর নিউজিল্যান্ডের পরের দিকের ব্যাটারদের বড় ইনিংস খেলতে দেননি রানা-রিশাদরা। এতে ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড।

এসময় নিউজিল্যান্ডের আরও দুই ব্যাটারকে শিকার করে ওয়ানডেতে নিজের দশম ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মত ইনিংসে ৫ উইকেট শিকার করলেন রানা। গত মাসে মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭ ওভারে ২৪ রানে ৫ উইকেট শিকার করেছিলেন রানা। এবার ১০ ওভারে ৩২ রানে ৫ উইকেট নিলেন তিনি।

রানার পাশাপাশি শরিফুল ৩২ রানে ২টি, তাসকিন ৪৬ রানে, সৌম্য ২৭ রানে ও রিশাদ ২১ রানে ১টি করে উইকেট নেন।

জয়ের জন্য ১৯৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রথম ওভারের শেষ বলে ওপেনার সাইফ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। ২টি চারে ৮ রান করে নিউজিল্যান্ড পেসার ন্যাথান স্মিথের বলে বোল্ড হন তিনি। তিন নম্বরে নেমে সুবিধা করতে পারেননি সৌম্য। ১ ছক্কায় ৮ রানে বিদায় নেন তিনি।

২১ রানে ২ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ছক্কা মেরে ৩৩ বলে ওয়ানডেতে ষষ্ঠ হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন তানজিদ। তার ঝড়ো হাফ-সেঞ্চুরিতে ১৭তম ওভারে ১শতে পা রাখে বাংলাদেশ। দলীয় ১৪১ রানে থামেন তানজিদ। স্পিনার জেইডেন লেনক্সের শিকার হবার আগে ১০টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৫৮ বলে ৭৬ রান করেন তানজিদ। তৃতীয় উইকেটে শান্তর সাথে ১১০ বলে ১২০ রান যোগ করেন তানজিদ।

তানজিদের বিদায়ে ক্রিজে এসে ৭ রানের বেশি করতে পারেননি শততম ওয়ানডে খেলতে নামা লিটন দাস। এরপর ওয়ানডেতে ১১তম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন শান্ত। ১৩ ইনিংস পর ওয়ানডেতে অর্ধশতকের দেখা পেলেন তিনি। তবে ক্র্যাম্প সমস্যায় আহত অবসর নেন শান্ত। ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৭১ বলে ৫০ রান করেন শান্ত। ঐসময় ম্যাচ জিততে ৩২ রান দরকার পড়ে বাংলাদেশের।

পঞ্চম উইকেটে ৩২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৮৭ বল বাকী থাকতে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন তাওহিদ হৃদয় ও মেহেদি হাসান মিরাজ। ৫টি চারে হৃদয় ৩০ এবং মিরাজ ৮ রানে অপরাজিত থাকেন। ম্য্যাচ সেরা হন রানা।

আগামী ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে খেলতে নামবে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

নিউজিল্যান্ড : ১৯৮/১০, ৪৮.৪ ওভার (কেলি ৮৩, আব্বাস ১৯, রানা ৫/৩২)।বাংলাদেশ : ১৯৯/৪, ৩৫.৩ ওভার (তানজিদ ৭৬, শান্ত ৫০ আহত অবসর, লেনক্স ২/৩৬)।

ফল : বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ : তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-১’এ সমতা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

three × 3 =