রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. মালেকুল সালেহীন (প্রত্যয়) রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকার ‘ফিফটি লেট পোবেডি’-তে চড়ে উত্তর মেরুতে একটি ব্যতিক্রমধর্মী বৈজ্ঞানিক অভিযানে অংশ নিয়েছেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রসাটমের উদ্যোগে আয়োজিত ‘আইসব্রেকার অব নলেজ ২০২৬’ কর্মসূচির আওতায় তিনি বিশ্বের আরও ২১টি দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই অভিযানে যোগ দিয়েছেন।
রাশিয়ার মুরমানস্ক বন্দর থেকে সম্প্রতি ১০ দিনব্যাপী এই অভিযানের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ক্যাপ্টেন রুসলান সাসোভের নেতৃত্বে আইসব্রেকারটি ব্যারেন্টস সাগর পাড়ি দিয়ে ভৌগোলিক উত্তর মেরু (৯০° উত্তর অক্ষাংশ) এবং ফ্রাঞ্জ জোসেফ ল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ঘুরে আবার মুরমানস্কে ফিরবে।
প্রত্যয় ‘আইসব্রেকার অব নলেজ’-এর সপ্তম আসরের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে এই বিরল সুযোগ অর্জন করেন। বাংলাদেশ, ভারত, চীন, ব্রাজিল, কাজাখস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, তুরস্ক ও ভিয়েতনামসহ ২২টি দেশের প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। তিন ধাপের বাছাই প্রক্রিয়া শেষে প্রতিটি দেশ থেকে একজন করে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়।

যাত্রার আগে নিজের অনুভূতি জানিয়ে প্রত্যয় বলেন, “কখনো ভাবিনি একদিন উত্তর মেরুতে যাওয়ার সুযোগ পাব। বাংলাদেশ থেকে আর্কটিক যেন এক দূরবর্তী স্বপ্নের মতো। এই অভিযানে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।”
রসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ বলেন, আর্কটিক এমন একটি অঞ্চল যেখানে ভবিষ্যতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন সম্ভাবনার জন্ম হয়। এই অভিযানের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা পারমাণবিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।
অভিযান চলাকালে শিক্ষার্থীরা পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকারের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করবেন, আর্কটিকের পরিবেশ ও প্রতিবেশ সম্পর্কে জানবেন এবং উত্তরাঞ্চলের নৌপথে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা লাভ করবেন। পাশাপাশি তারা বিজ্ঞানভিত্তিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, কর্মশালা, বিশেষজ্ঞদের বক্তৃতা, ক্যারিয়ার গাইডেন্স সেশন এবং বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রমে অংশ নেবেন। অভিযানের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা ভৌগোলিক উত্তর মেরুতে নিজ নিজ দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন।

এবারের কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে রয়েছেন খ্যাতিমান রুশ কল্পবিজ্ঞান লেখক সের্গেই লুকিয়ানেঙ্কো। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি যৌথ সৃজনশীল লেখালেখি কর্মশালা পরিচালনা করবেন এবং তাদের সম্মিলিতভাবে লেখা কল্পবিজ্ঞান গল্পটি অভিযান শেষে প্রকাশ করা হবে।
‘আইসব্রেকার অব নলেজ’ কর্মসূচির লক্ষ্য ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পারমাণবিক শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং ভবিষ্যতের বিজ্ঞানমনস্ক নেতৃত্ব গড়ে তোলা। গত ছয় আসরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৪০০-এর বেশি শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির মাধ্যমে উত্তর মেরুতে শিক্ষামূলক অভিযানে অংশ নিয়েছে।
বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকার বহর পরিচালনা করছে রাশিয়া। রসাটমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এফএসইউই অ্যাটমফ্লট পরিচালিত এই বহরে আটটি পারমাণবিক আইসব্রেকার রয়েছে, যা নর্দার্ন সি রুটে নৌচলাচল নিশ্চিত করে এবং ইউরোপ ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত সামুদ্রিক পথ ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।