কানে জুরি হিসেবে বাংলাদেশের বিধান রিবেরু

কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৫তম আসরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সমালোচক, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক বিধান রিবেরু (বামপাশ থেকে একজনের পরে)  জুরি হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনিই এই অনন্য সম্মাননা পেলেন।

বাংলাদেশ সময় ১৯ মে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে কান উৎসবের রেড কার্পেটে উপস্থিত হন বিধান রিবেরু। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফিল্ম ক্রিটিকসের (ফিপরেসি) বিচারকরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। কান উৎসবের এই আসরে ফিপরেস্কির বিচারক হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছেন বিধান রিবেরু।

কান উৎসবে রেড কার্পেটে হেঁটে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে বিধান রিবেরু লেখেন, কানের লাল গালিচা অন্য রকম এক অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশ থেকে এই রেড কার্পেটে হেঁটে বাংলাদেশকেই বারবার মনে হয়েছে, কারণ আমার নামের সঙ্গে আমার দেশের নামও উচ্চারিত হয়েছে।

কান চলচ্চিত্র উৎসবে অফিশিয়াল সিলেকশন প্রতিযোগিতার শাখা আঁ সার্তে রিগা, ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ডস ও ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট- এই তিন শাখায় পুরস্কার দেয় ফিপরেস্কি। এর মধ্যে ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ডস ও ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট এই দুটি সেকশন মিলে প্যারালাল সেকশন ইন্টারন্যাশনাল ক্রিটিকসে জুরি হিসেবে বাংলাদেশ থেকে থাকছেন বিধান রিবেরু।

এর আগে ২০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিধান রিবেরু। আর দ্বিতীয় আমন্ত্রণটিই তিনি পেলেন কান চলচ্চিত্র উৎসব থেকে।

চলচ্চিত্র নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি ২০০৫ সাল থেকে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত আছেন বিধান রিবেরু। দেশের প্রথম সারির টিভি চ্যানেলে কাজ করেছেন তিনি। চলচ্চিত্র নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করছেন বিভিন্ন পত্রিকায়। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘চলচ্চিত্র পাঠ সহায়িকা’, ‘চলচ্চিত্র বিচার’, ‘শাহবাগ : রাজনীতি ধর্ম চেতনা’, ‘বিবিধ অভাব : লিওনার্দো লালন লাকাঁ’, ‘বলিউড বাহাস’ প্রভৃতি।

কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতকের পর নরওয়ে সরকারের বৃত্তি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর করেছেন বিধান। স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়েও চলচ্চিত্র নিয়ে স্নাতকোত্তর করেছেন। আরও পড়াশোনা করেছেন ভারতের পুনের বিখ্যাত ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের ফিল্ম অ্যাপ্রিসিয়েশন বিষয়ে।

বাংলানিউজ

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

three × 2 =