
বাংলাদেশ-পাকিস্তান ওডিআই সিরিজ
মীরপুরে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিজেদের অভয়ারণ্যে ক্ষুধার্ত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বিক্রমে পাকিস্তানকে বিদ্ধস্ত করে ৯ উইকেটের বিশাল জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পেস সেনসেশন নাহিদ রানার আগুনে বোলিং পাকিস্তানের দুর্বল ব্যাটিং জ্বালিয়ে ছারখার করে দিলে ৩০.৪ ওভারেই ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। বাংলাদেশ পাকিস্তানের মামুলি টার্গেট হেসে খেলে ১৫.১ ওভারেই.১১৫/২ করে পেরিয়ে গেলে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যাবধানে ম্যাচ জয় করে।
পাকিস্তান দলের ব্যাটিং আদৌ আন্তর্জাতিক মানের মনে হয়নি। জানিনা কোন পরিকল্পনায় বাবর আজম, সাইযুম আইয়ুম, আব্দুল্লাহ শফিক, শান মাসুদ, ইমামুল হকদের মতো পরিক্ষিত প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যানদের দেশে রেখে আনকোরা নবীনদের পাঠিয়েছে বলির পাঠা করলো পাকিস্তান? মানলাম নাহিদ রানার গতি, বাউন্স, মুভমেন্ট কাল হকচকিয়ে দিয়েছিলো। কিন্তু পাকিস্তান ব্যাটসম্যানদের আনাড়ির মতো ব্যাটিং আদৌ আন্তর্জাতিক মানের বলবো না। প্রথম ম্যাচে সম্পূর্ণ আউটপ্লেড হবার পর সিরিজে ঘুরে দাড়াতে পারবে বলে মনে হয় না পাকিস্তান। এই ধারা বজায় থাকলে সিরিজে স্বাভাবিক পরিণতি বাংলা ওয়াশ।
বাংলাদেশ রাজনৈতিক কারণে টি২০ বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি। পাকিস্তানের কাছে আগের ওডিআই সিরিজে ৩-০ হোয়াইট ওয়াশ হওয়ায় আহত বাঘের মতই প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছিল বাংলাদেশ। পরিবর্তিত মীরপুর উইকেটে কাল পেস, বাউন্স, মুভমেন্ট সবই ছিল। টিম ম্যানেজমেন্ট তিন পেসার নিয়ে একাদশ সাজানো যথার্থ ছিল। পাকিস্তানের টপ অর্ডারে ফারহানসহ তিনজন (ফারহান, মাজ সাদাত, শামিল হোসেন) আনকোরা নবীন।
কোনো ভাবে তাসকিন, মুস্তাফিজের ওপেনিং স্পেল সামাল দিলেও নাহিদ রানার দ্রুত গতির পেস আর বাউন্স মোকাবেলায় বেসামাল হয়ে পরে। নাহিদের প্রথম ওভারেই প্রতি ওভারে ফারহান (২৭), শামিল (৫), মাজ সাদাকাত (১০), মোহাম্মদ রিজওয়ান (১০) সালমান আগা (৫) ফিরে গেলে ৬৯ রানে ৫ উইকেট হারানো পাকিস্তান ১০০ রান পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। নাহিদ (৫/২৪) সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারে প্রথম ৫ উইকেট অর্জন করে। অধিনায়ক মিরাজ (৩/২৯) উইকেটে নড়বড়ে থাকা পাকিস্তানের লেট অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ভুলের ফাঁদে ফেলে বিপর্যয় ত্বরান্বিত করে। তাসকিন আর মুস্তাফিজ দ্বিতীয় স্পেলে এসে পাকিস্তানের লেজ মুড়িয়ে দিলে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। শুরুতে ফারহান (২৭) আর শেষ দিকে ফাহিম আশরাফ (৩৭) পাকিস্তান ইনিংস নিয়ে লেখার কিছু নেই।
মামুলি টার্গেট তাড়া করতে বাংলাদেশের সূচনা ভালো হয়নি। তৃতীয় ওভারে সাইফ হাসান (৪) শাহীন আফ্রিদির বলে ফিরে যাবার পর তানজিদ তামিম (৬৭) আর নাজমুল শান্ত (২৭) দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৮২ রান যোগ করে হেসে খেলে বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যায়। তামিমের ইনিংসে ছিলো ৭ চার, ৫ ছক্কা। বাংলাদেশ ১৫.১ ওভারে ১১৫/২ করে ৮ উইকেটে ম্যাচ জয় করে।
বিশাল ব্যাবধানে পরাজিত পাকিস্তানকে সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে হলে অলৌকিক কিছু করতে হবে। দুই দলের জন্যই চলতি সিরিজ ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি মিশন। শুভ সূচনা হলো বাংলাদেশের। নিশ্চয় লক্ষ্য আছে ৩-০ সিরিজ জিতে রাঙ্কিং উন্নয়ন। পাকিস্তান টি২০ বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ড থেকে ছিটকে পরে হয়ত দিশেহারা হয়ে পড়েছে। না হয় বাংলাদেশে বাংলাদেশ তুখোড় দল জেনে শুনে কেন আনকোরা অনভিজ্ঞদের পাঠিয়েছে।
পাকিস্তান ১১৪ অল আউট (ফাহিম আশরাফ ৩৫, শাহিবজাদা ফারহান ২৮। নাহিদ রানা ৫/২৪, মেহেদী মিরাজ ৩/২৯)
বাংলাদেশ ১১৫/২ (তানজিদ হাসান তামিম ৬৭*, নাজমুল হোসেন শান্ত ২৭)
বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী
ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়: নাহিদ রানা