মেসির ৯০০তম গোল

আর্জেন্টিনার সুপারস্টার লিওনেল মেসি বুধবার তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ৯০০তম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। যদিও তার দল ইন্টার মিয়ামি কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপ থেকে বিদায় নিয়েছে। খবর ‍বাসস

ন্যাশভিলের সাথে ১-১ গোলে ড্র করার পর অ্যাওয়ে গোলের সুবাদে তারা বাদ পড়ে। ৩৮ বছর বয়সী মেসি ম্যাচের মাত্র সাত মিনিটে গোল করে শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে মিয়ামিকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

তবে ৭৪তম মিনিটে ন্যাশভিলের ক্রিস্টিনা এসপিনোজা সমতা ফেরান। এর ফলে দুই লেগ মিলিয়ে স্কোর দাঁড়ায় ১-১। ম্যাচের বাকি সময় মিয়ামিকে আটকে রেখে টেনেসির দলটি অ্যাওয়ে গোলের সুবিধায় কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে।

মেসির গোলের পর যে ম্যাচটি উদযাপনের রাত হওয়ার কথা ছিল, সেটাই মিয়ামির জন্য হয়ে যায় হতাশার। এটি ছিল ফোর্ট লডারডেলের চেজ স্টেডিয়ামে ক্লাবটির শেষ ম্যাচ। ২০২৩ সালে ফ্লোরিডায় যোগ দেওয়ার পর থেকে মেসির এমএলএস চ্যাম্পিয়নদের হয়ে গোলসংখ্যা দাঁড়ালো ৮১।

আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা কাতালান জায়ান্ট বার্সেলোনার হয়ে ৬৭২টি, ফ্রান্সের পিএসজির হয়ে ৩২টি এবং আর্জেন্টিনার হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১১৫টি গোল করেছেন।

৯০০তম গোলটি আসে তার পেশাদার ফুটবলের প্রথম গোলের প্রায় ২১ বছর পর। ২০০৫ সালে ১৭ বছর বয়সে বার্সেলোনার হয়ে আলবাসেতের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানেরজয়ে তিনি প্রথম গোলটি করেছিলেন।

ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে বিবেচিত মেসি এখনো পেছনে ফেলতে পারেননি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোকে, যার ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা বর্তমানে ৯৬৫।

মেসির ৯০০তম গোলের আগে ইন্টার মিয়ামির কোচ ও তার সাবেক সতীর্থ জেভিয়ার মাশেরানো বলেন, এই গোলসংখ্যা “অবিশ্বাস্য”।

তিনি বলেন, “আমি ভাগ্যবান যে তার অনেক গোল খুব কাছ থেকে দেখেছি। এটা সত্যিই সৌভাগ্যের ব্যাপার। ৯০০ গোলের মতো সংখ্যা সত্যিই অবিশ্বাস্য, আর এ কারনেই লিও একেবারেই অনন্য।”

বুধবারের ম্যাচটি ইন্টার মিয়ামির জন্য বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। কারণ এটি ছিল তাদের চেজ স্টেডিয়ামে শেষ ম্যাচ। ২০২০ সালে মেজর লিগ সকারে যোগ দেওয়ার পর থেকে এই স্টেডিয়ামটি তাদের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আগামী মাসে দলটি ২৬,৭০০ আসনের নতুন একটি স্টেডিয়ামে স্থানান্তরিত হবে।

এ বছর শেষে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির ষষ্ঠবার অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে ইন্টার মিয়ামির সঙ্গে ২০২৮ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত চুক্তি বাড়িয়েছেন।

মেসির গোল করার ক্ষমতা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বার্সেলোনার হয়ে ৭৭৮ ম্যাচে ৬৭২ গোল করেছেন। প্রতি ম্যাচে গড়ে তিনি ০.৮৬ গোল করেছেন এবং ক্লাবটিকে ৩৫টি শিরোপা জিততে সাহায্য করেছেন।

পিএসজিতে তিনি ৭৫ ম্যাচে ৩২ গোল করেন এবং দুটি লিগ শিরোপাসহ তিনটি ট্রফি উপহার দিয়েছেন। মিয়ামির হয়ে ৯৬ ম্যাচে তার ৮১ গোল এসেছে। মেসির কল্যাণে দলটি ২০২৩ সালের লিগস কাপ ও ২০২৫ সালের এমএলএস কাপ জিতেছে।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৯৬ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ১১৫। যার মধ্যে ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে দুটি গোলও রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট গোলসংখ্যায় তিনি এখন রোনাল্ডোর পরেই দ্বিতীয় স্থানে।

ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলেকে প্রায়ই ১০০০-এর বেশি গোলের কৃতিত্ব দেওয়া হয়, যদিও সেই সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অধিকাংশ পরিসংখ্যানবিদ তার মোট গোলসংখ্যা ৭৬২ বলে মনে করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

10 + 3 =