দূষিত রাজনীতির কুপ্রভাবে বিতর্কিত  ক্রিকেট

ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচিত এক্সেকিউটিভ কমিটি ভেঙে দিয়ে ১১ সদস্যের একটি এড হক কমিটি ঘোষণা করেছে। কমিটিতে আছে প্রাক্তন বাংলাদেশ দল নায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে প্রাক্তন জাতীয় দলের খেলোয়াড় মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, আতাহার আলী খানের সঙ্গে বিএনপি সরকারের মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য পুত্র, একজন সংসদ সদস্যের স্ত্রী।

বিসিবির মতো একটি স্বশাসিত ক্রীড়া বোর্ডের নির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদ বাতিল করে এডহক কমিটি গঠন আইনসিদ্ধ কিনা সেটি বিতর্কিত বিষয়। জানিনা বিএনপি নেতানেত্রীদের তরুণ সন্তানদের ক্রিকেট ব্যাবস্থাপনায় কি দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা আছে।

বিসিবির  পূর্ববর্তী নির্বাচন ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিল গঠিত নিরপেক্ষ কমিটির মাধ্যমেই সম্পাদিত হয়েছিল। সরকার গঠিত কমিটি কিন্তু সেই নির্বাচন নিয়ে বড় ধরনের  অনিয়ম দেখতে পায়নি।  তবে এটিও অস্বীকার করা যাবে না অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিসিবির কার্যক্রমে অযাচিত হস্তক্ষেপ করেছে। মূলত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সরাসরি নির্দেশেই বিসিবি টি২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। তবে নির্বাচিত সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেটকে নিষেধাজ্ঞার মুখে ফেলবে কিনা সেটি দেখতে হবে।

২০২৪ আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বাধীন বিসিবি কার্যকরী পরিষদ পরিবর্তিত হয়। খণ্ডকালীন সময়ের জন্য প্রাক্তন অধিনায়ক ফারুক আহমেদকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হলেও কায়েমী স্বার্থবাদী মহলের চাপে ফারুক পদত্যাগ করে।

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব আমিনুল ইসলাম বুলবুল স্বপ্রণোদিত হয়ে তার আইসিসির লোভনীয় চাকরি ছেড়ে বিসিবির খণ্ডকালীন দায়িত্ব তুলে নেয়। বাংলাদেশ ক্রিকেটে কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনার জন্য বুলবুল তার এই খণ্ডকালীন মিশনকে টি২০ ইনিংস হিসাবে ঘোষণা করে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে  বুলবুলের নিবিড় সম্পৃক্ততার কারণে বিশ্বের খ্যাতনামা কিউরেটর, বিশেষজ্ঞ আম্পায়ার, অ্যান্টি করাপশন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিয়ে স্বল্প সময়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তৃণমূলে ক্রিকেট অবকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্বাভাবিক কারণেই বাংলাদেশ ক্রিকেট অঙ্গনের অশুভ শক্তিগুলোর সঙ্গে স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি হয়।

বিশেষ করে অশুভ মহল শংকিত হয়ে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করে। একশ্রেণীর বিতর্কিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটার সত্য মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে পরিবেশ বিষাক্ত করে তোলে। বুলবুল বিষয়গুলোকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়ে বিসিবি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। নির্বাচন সুষ্ঠু বা নিরপেক্ষ  সেই বিতর্কে যাবো না। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ দিকে এলো টি২০ বিশ্বকাপ। সবাই জানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভারতবিদ্বেষী মনোভাব এবং আইসিসির ভারত তোষণ নিয়মের কারণে বাংলাদেশ টি২০ অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির জন্য মূল দায় ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের। তবে সেই সময় সুযোগ ছিল আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নিজ থেকে সরে দাঁড়ানোর।

যাহোক ফেব্রুয়ারী মাসে সরকার পরিবর্তনের পর অনুমিত ছিল বিসিবির পূর্ববর্তী কমিটির অনিয়ম নিয়ে ব্যবস্থা  হবে। পরিবর্তন কাঙ্ক্ষিত ছিল কিন্তু এতো তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশের একজন ক্রিকেট আইকনকে অপমান না করলেই ভালো হতো। এনএসসির অধিকার আছে যৌক্তিক কারণ থাকলে যে কোনো খেলার কমিটি ভেঙে এডহক কমিটি গঠন করার।

দুর্ভাগ্য আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অবদান রাখতে পারলো না। নতুন কমিটির ৭ জন ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন। বাকি চার জন এসেছেন রাজনৈতিক পরিচয়ে। সময় বলে দিবে বিষয়টি বিতর্কিত  হলো কিনা।

আমি বুলবুলের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসাবে লিখেছিলাম, ‘অন্ধের দেশে আয়না বিক্রি করতে এসেছেন বুলবুল’। রাজনৈতিক দূষণে দূষিত বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অবশ্যই বুলবুলের মতো সাদা মনের মানুষ উপযুক্ত নয় প্রমাণ হয়ে গেল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

18 − 4 =