সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে চুক্তি করবে সরকার

জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে এ সংক্রান্ত চুক্তি সরকার করবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

রবিবার (২৪ মে) সচিবালয়ে ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা জানান।

বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে সরকার। ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’ এর আওতায় মোট ২৬টি ব্লকে (১১টি অগভীর ও ১৫টি গভীর সমুদ্র) অনুসন্ধানের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বিএনপি আমলের পর আর নতুন করে কোনো বিদেশি কোম্পানিকে এনে এভাবে জাতীয় বিডিং করা হয়নি। আমরা দেখেছি যে সমুদ্র বিজয় হয়েছে। তা নিয়ে অনেক লাফালাফি হয়েছে। কিন্তু সেখান থেকে যে আহরণ করতে হবে সেই ব্যবস্থা ভুলে গিয়েছিল।

মন্ত্রী বলেন, এখনো মাটির নিচে কী আছে আমরা জানি না। তা আমরা জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ ছিলাম যে আমরা ক্ষমতায় আসলে আমাদের বাপেক্সকে আমরা শক্তিশালী করবো। যেহেতু বাপেক্সের গভীর সমুদ্রে এক্সপ্লোরেশন করার মতো এক্সপেরিয়েন্স নেই এবং যেসব জিনিস প্রয়োজন সেগুলোও নেই। সেজন্য বাপেক্সে আমরা বলেছি যে তোমরা এই বিডিংয়ে আসো। বিদেশি কোম্পানিদের সঙ্গে বিডিং জয়েন্ট ভেঞ্চার করতে বলে আসো, বাপেক্সকেও কিন্তু আমরা এর মধ্যে (নতুন বিডিং) রেখেছি।

‘আমরা যে ওয়াদাবদ্ধ হয়েছিলাম আমরা ১৮০ দিন শেষ হওয়ার আগেই কিন্তু এই বিডিংয়ে গেছি। আমরা আশা করি এই বিডিংয়ের পরে আমরা দেশের আইন-কানুন মেনে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষা করে আমরা এই বিডিংয়ে যারা পাবে, তাদের কাছে হস্তান্তর করতে পারবো। ভবিষ্যতে যদি আমাদের এখান থেকে গ্যাস বা তেল যেটাই উত্তোলন করা যায়, সেটা দেশের উন্নয়নের জন্য একটা বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়াবে।’

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়ে জ্বালানি খাত বেহাল অবস্থায় পেয়েছে দাবি করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, আমরা সেটাকে নজরে নিয়েই আমাদের দেশের জ্বালানির একটা এনার্জি সিকিউরিটি যেটা করা লাগে, সেটার জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি এবং এখন আমরা আগের থেকে অনেক ভালো অবস্থায় আছি।

মন্ত্রী বলেন, বিএনপি সবসময় তাদের মূল যে জাতীয়তাবাদ, সেই জাতীয়তাবাদকেই সামনে রেখে আমরা আমাদের এই বিডিং করছি যাতে আমার দেশের কোনো রকমের কোনো ক্ষতি না হয়। কোনোকিছু বিনিময়ে যেন না করি আর কী। তবে আন্তর্জাতিকভাবে উত্তোলনের যেসব কন্ট্রাক্ট আছে সেগুলোকে বিশ্লেষণ করেই আমাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে আমরা এই কন্ট্রাক্টগুলো করবো। আশা করি ইনশাল্লাহ আমরা কামিয়াব হবো।

বিদেশি কোম্পানিগুলো কেন এবার বিডে আসবে- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, যারা বিড করবে, তারা অপরচুনিটিটা খুঁজবে। যেহেতু আমরা একটা নির্বাচিত সরকার এবং আমাদের যে ইলেকশনটা হয়েছে, সেই ইলেকশন নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। সুতরাং একটা পিপল ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা এই এই সরকারে এসেছি। সেটাও আমাদের এই ইনভেস্টরদের জন্য একটা বড় আস্থার জায়গা। আমরা জবাবদিহি নিশ্চিত করেছি। এসব দেখে আমার কাছে তাদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, তাদের আস্থার জায়গায় তারা ফেরত এসেছে এবং তারা বিডে আসবে।

রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো শঙ্কা আছে কি না? এ প্রশ্নে তিনি বলেন, উই আর ভেরি ট্রান্সপারেন্ট এবং আমরা আমাদের দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কিছু বলবো না। এটা আমাদের কমিটমেন্ট, সেটাই আমরা জানিয়ে দিয়েছি।

কোনো বিদেশি কোম্পানি বিডে অংশ নিতে যোগাযোগ করেছে কি না, তাদের আগ্রহ আছে কি না? অথবা এই সমুদ্রে কোনো জিওপলিটিক্যাল ইস্যু আছে কি না? এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে কী হবে আমি কিছু বলতে পারবো না, সেটা একমাত্র আল্লাহ জানেন। আর দুই নম্বর হলো যে, যারা এটা করবে অনেকেই আমার সঙ্গে দেখা করে গেছে, বলে গেছে দে আর ইন্টারেস্টেড। পার্টিকুলারলি বড় বড় কোম্পানিগুলো, আমেরিকান কোম্পানিগুলো আছে এবং চাইনিজরাও ইন্টারেস্টেড এই ব্যাপারে দেখলাম। তো আমি আশা করি যে এবার অতীতে কী হয়েছে সেটা হবে না, এবার বিডিংয়ে লোকজন আসবে।

আপনার এই পিএসসিতে এমন কী চমক আছে যাতে দেশের স্বার্থ রক্ষা হবে এবং বিদেশি কোম্পানি অনুসন্ধানে আগ্রহ দেখাবে? এ বিষয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, চমক হলো বিএনপি সরকার।।

কোনো কোম্পানি যদি সবগুলো ব্লক চায়, দেওয়া হবে কি না? এ বিষয়ে তিনি বলেন, আগে চেয়ে নিক, তারপর চিন্তা করবো।

এবার বিডিংয়ের ক্ষেত্রে কি রপ্তানির সুযোগ রাখা হচ্ছে- জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী বলেন, রপ্তানি তখনই করতে পারবো যখন আমার ডিমান্ড ফুলফিল হবে। আমি না খেয়ে অন্যকে খাওয়াবো না। এইটুকুই দেশের স্বার্থে থাকবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 × 4 =