টাইব্রেকারের নাটকে জার্মানির বিদায়, ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে প্যারাগুয়ে

সালেক সুফী

জার্মানি প্যারাগুয়ে

(টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের জয়)

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম বড় অঘটনের জন্ম দিল প্যারাগুয়ে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে ৪–৩ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় করে ইতিহাস গড়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিট শেষে ম্যাচের স্কোর ছিল ১–১। এরপর টাইব্রেকারেও পাঁচ শটে ৩–৩ সমতা থাকায় ম্যাচ গড়ায় সাডেন ডেথে। সেখানে স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে জয় নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে।

১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে এসে প্যারাগুয়ে শুধু শেষ আটে জায়গাই করে নেয়নি, ভেঙে দিয়েছে জার্মানির দীর্ঘদিনের এক গৌরবময় রেকর্ডও। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কখনও টাইব্রেকারে হারেনি জার্মানি। সেই অপরাজেয় ধারার অবসান ঘটানোর নায়ক গোলরক্ষক অরলান্দো হিল। ম্যাচজুড়ে ছয়টি দুর্দান্ত সেভের পাশাপাশি টাইব্রেকারে তিনি জার্মানির দুটি শট প্রতিহত করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

বোস্টনের স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল জার্মানির। কিন্তু গোল করে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। ৪২তম মিনিটে হুলিও এনসিসো-র গোলে এগিয়ে যায় তারা। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪তম মিনিটে কাই হাভার্টজ হেডে গোল করে জার্মানিকে সমতায় ফেরান।

এরপর পুরো ম্যাচজুড়ে একের পর এক আক্রমণ চালায় জার্মানি। হাভার্টজ, ফ্লোরিয়ান ভির্টজ ও লেরয় সানে-র একাধিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ এবং বিশেষ করে গোলরক্ষক অরলান্দো হিল। তাঁর অসাধারণ নৈপুণ্যই ম্যাচটিকে টাইব্রেকারে নিয়ে যায়।

টাইব্রেকারেও নাটকীয়তা ছিল তুঙ্গে। জার্মানির প্রথম শটেই হাভার্টজের প্রচেষ্টা ঝাঁপিয়ে পড়ে ফিরিয়ে দেন হিল। পরে জোশুয়া কিমিখ ও জামাল মুসিয়ালা গোল করলেও চতুর্থ শটে নিক ভল্টেমাডের শটও রুখে দেন এই গোলরক্ষক। অন্যদিকে প্যারাগুয়ে প্রথম তিনটি শট সফলভাবে নিলেও চতুর্থটি মিস করে। পঞ্চম শট ম্যানুয়েল নয়ার ঠেকিয়ে দিলে স্কোর দাঁড়ায় ৩–৩।

সাডেন ডেথে শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হাসে প্যারাগুয়ে। হোসে কানালের শট আর প্রতিহত করতে পারেননি নয়ার। সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয় জার্মানির।

২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর জার্মানির বিশ্বকাপ যাত্রা ধারাবাহিকভাবে হতাশার। ২০১৮ ও ২০২২ সালে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া দলটি এবারও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারল না। শেষ ষোলোর গণ্ডিই পেরোতে ব্যর্থ হয়ে দেশে ফিরতে হচ্ছে তাদের।

অন্যদিকে, ঐতিহাসিক এই জয়ের সুবাদে প্যারাগুয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে ফ্রান্স–সুইডেন ম্যাচের বিজয়ী দলের বিপক্ষে।

অনেক বিশ্লেষক ফলাফলটিকে বড় অঘটন বললেও এবারের জার্মান দলকে আগের মতো অপ্রতিরোধ্য মনে হয়নি। দলটিতে ছিল না সেই চিরচেনা মানসিক দৃঢ়তা ও ধারাবাহিকতা। অন্যদিকে প্যারাগুয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, অসাধারণ লড়াকু মানসিকতা এবং গোলরক্ষক অরলান্দো হিলের বীরত্বপূর্ণ পারফরম্যান্সে প্রাপ্য জয়ই অর্জন করেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 × one =