চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে নাটকীয় টাইব্রেকারে হারিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার পর উৎসবে মেতে উঠেছে পুরো প্যারাগুয়ে। ঐতিহাসিক এই জয়কে স্মরণীয় করে রাখতে দেশজুড়ে এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জার্মানিকে ১–১ সমতার পর টাইব্রেকারে ৪–৩ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে প্যারাগুয়ে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিট শেষে ম্যাচের ফল ছিল ১–১। পরে স্নায়ুচাপের টাইব্রেকারে অসাধারণ গোলরক্ষক অরলান্দো হিলের নৈপুণ্যে জয় নিশ্চিত করে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
এই জয় প্যারাগুয়ের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০১০ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর দীর্ঘ ১৬ বছর বিশ্বকাপের মূল পর্বে দেখা যায়নি দলটিকে। প্রত্যাবর্তনের আসরেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি জার্মানিকে বিদায় করে নতুন ইতিহাস লিখেছে তারা।
বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হলো, জার্মানির বিপক্ষে তিনটি বিশ্বকাপ মোকাবিলায় এটি প্যারাগুয়ের প্রথম জয়। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টাইব্রেকারে পরাজিত হলো জার্মানি।
ঐতিহাসিক এই অর্জনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ সরকারি আদেশে স্বাক্ষর করার ছবি প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা সাধারণ ছুটির ঘোষণা দেন। তিনি লেখেন, “আজ পুরো দেশ উদযাপন করছে। এই জয় এমন একটি দলের, যারা আমাদের জাতীয় পরিচয়ের সবচেয়ে গভীর মূল্যবোধ—সংগ্রামী মানসিকতা, বিশ্বাস এবং কখনো হার না মানার শক্তির প্রতীক।”
সরকারি ঘোষণায় বলা হয়, এই বিজয় শুধু একটি ক্রীড়া সাফল্য নয়; এটি সমগ্র জাতির গর্ব ও ঐক্যের প্রতীক। তাই দেশজুড়ে উদযাপনের সুযোগ করে দিতেই সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজধানী আসুনসিওন থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন শহর ও জনপদে হাজার হাজার সমর্থক জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে বিজয় মিছিল ও আনন্দ-উল্লাসে অংশ নেন। রাতভর চলে গান, নাচ এবং আতশবাজির উৎসব।
এবারের বিশ্বকাপে লাতিন আমেরিকার দ্বিতীয় দেশ হিসেবে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করল প্যারাগুয়ে। এর আগে গ্রুপ পর্বে জার্মানিকে ২–১ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার পর দেশজুড়ে এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিলেন ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়া।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটনগুলোর একটি উপহার দেওয়া প্যারাগুয়ে এখন স্বপ্ন দেখছে আরও দূর যাওয়ার। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স ও সুইডেনের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল।