হাল্যান্ডের জয়সূচক গোলে শেষ ষোলোয় নরওয়ে, এবার প্রতিপক্ষ ব্রাজিল

নরওয়ে ২: আইভরি কোস্ট ১

তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হাল্যান্ডের শেষ মুহূর্তের জয়সূচক গোলে আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব পেরিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ইউরোপের দলটি দুর্দান্ত লড়াইয়ের পর ইতিহাস গড়ে। এখন কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।

ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই সতর্ক ফুটবল খেললেও ৩৯তম মিনিটে দুর্দান্ত একক নৈপুণ্যে নরওয়েকে এগিয়ে দেন আন্তোনিও নুসা। মার্টিন ওডেগার্ডের নিখুঁত পাস ধরে বক্সে ঢুকে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডান পায়ের বাঁকানো শটে ইয়াহিয়া ফোফানাকে পরাস্ত করেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে এটি নুসার নবম গোল এবং বিশ্বকাপে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের গোল এটি।

বিরতির আগে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও পেয়েছিল নরওয়ে। আলেকজান্ডার সোরলথের হেড থেকে বল পেয়ে আর্লিং হাল্যান্ডের শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন ডিফেন্ডার এমানুয়েল আগবাদু।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় আইভরি কোস্ট। ৫৬তম মিনিটে নিকোলাস পেপের নিশ্চিত গোলের সুযোগ অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিয়ল্যান্ড।

৬০তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন আমাদ দিয়ালো। ৭৪তম মিনিটে নিজের গতিময় ড্রিবলিংয়ে একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত শটে গোল করে আইভরি কোস্টকে ১-১ সমতায় ফেরান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডার।

তবে শেষ হাসি হাসে নরওয়েই। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে প্যাট্রিক বার্গের বাড়ানো বল ছয় গজের বক্সের সামনে পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জয়সূচক গোলটি করেন আর্লিং হাল্যান্ড। এই গোলে নরওয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধানই ধরে রাখে।

যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে আবারও সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল আইভরি কোস্ট। আমাদ দিয়ালোর দারুণ ফ্রি-কিক ক্রসবারের নিচ দিয়ে জালে ঢুকে যাচ্ছিল, কিন্তু অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি ফিরিয়ে দেন নিয়ল্যান্ড। তার সেই দুর্দান্ত সেভই নিশ্চিত করে নরওয়ের ঐতিহাসিক জয়।

পুরো ম্যাচে বলের দখল ছিল প্রায় সমান। আইভরি কোস্ট ১৪টি শট নিয়ে পাঁচটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হলেও নরওয়ে মাত্র ৯টি শটের চারটি লক্ষ্যে রেখে দুটি গোল আদায় করে নেয়। সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতাই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়।

বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে হাল্যান্ডের গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচে। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি এখন কেবল লিওনেল মেসির (৬ গোল) পেছনে অবস্থান করছেন। জাতীয় দলের জার্সিতে ৫৩ ম্যাচে হাল্যান্ডের মোট গোলসংখ্যা এখন ৬০।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি নরওয়ের প্রথম জয়। আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দলটির সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা—কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল। হাল্যান্ড, ওডেগার্ড ও নুসার বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে সেলেসাওদের জন্যও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

thirteen + nineteen =