পর্তুগাল-স্পেন দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা: বিশ্বকাপজয়ী মারচেনা

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে প্রতিবেশী দুই ফুটবল পরাশক্তি স্পেন ও পর্তুগাল। এই লড়াইকে ঘিরে বাড়তি উত্তেজনার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের সাবেক ডিফেন্ডার কার্লোস মারচেনা। তার মতে, দুই দেশের ভৌগোলিক নৈকট্য ও একে অপরকে ভালোভাবে চেনার কারণেই এই ম্যাচগুলো সবসময়ই জমজমাট হয়।

ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মারচেনা বলেন, “স্পেন ও পর্তুগালের ম্যাচে সবসময়ই বাড়তি উন্মাদনা থাকে। কারণ দুই দলই একে অপরকে খুব ভালোভাবে চেনে। প্রতিবেশী হওয়ায় এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবসময় বিশেষ কিছু।”

২০১০ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্পেন শিরোপা জয়ের পথে এগিয়ে গিয়েছিল। সেই ম্যাচের স্মৃতি তুলে ধরে মারচেনা বলেন, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোদের বিপক্ষে ম্যাচটি যে কঠিন হবে, তা আগে থেকেই জানা ছিল।

তার ভাষায়, “পর্তুগাল ছিল শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ দল। ধৈর্য ধরে খেলতে হয়েছে এবং রক্ষণে ভুল না করাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”

তিনি জানান, ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় বদলি হিসেবে ফার্নান্দো ইয়োরেন্তে মাঠে নামার পর। তার উপস্থিতিতে স্পেনের আক্রমণে গতি আসে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই দাভিদ ভিয়া ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন।

মারচেনা আরও বলেন, ২০০৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার অভিজ্ঞতাই স্পেনের সোনালি যুগের ভিত্তি তৈরি করেছিল। সেই ব্যর্থতার পরই দলটি ২০০৮ ইউরো এবং ২০১০ বিশ্বকাপ জয়ের পথে এগিয়ে যায়।

২০১০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার ঐতিহাসিক গোলের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, গোল উদযাপনে সতীর্থদের সঙ্গে ছুটে না গিয়ে তিনি মাঝমাঠে অবস্থান নিয়েছিলেন, যাতে প্রতিপক্ষ দ্রুত খেলা শুরু করতে না পারে।

মারচেনার মতে, “বিশ্বকাপ জয়ের অনুভূতির সঙ্গে অন্য কোনো অর্জনের তুলনা চলে না। ক্লাব ফুটবলে যত শিরোপাই জিতুন না কেন, দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ সবকিছুর ঊর্ধ্বে।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

fifteen − nine =