শেষ মুহূর্তে ব্যাটিং বিপর্যয়ে জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ হার বাংলাদেশের

জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং ধসে ১৩ রানের পরাজয় বরণ করেছে বাংলাদেশ। ফলে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ২-০ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। টেস্ট সিরিজে বড় ব্যবধানে হারের পর ওয়ানডেতেও একই হতাশার মুখে পড়ল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ১৩ রানে সৌম্য সরকার এবং ৩৮ রানের মধ্যে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ফিরে গেলে চাপে পড়ে সফরকারীরা।

এরপর তানজিদ হাসান তামিম দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৭০ বলে ৫৭ রান করে দলকে লড়াইয়ে ফেরান। পরে তাওহীদ হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহানের জুটিতে জয়ের আশা জাগে। হৃদয় অর্ধশতক পূর্ণ করেন, আর সোহান খেলেন ৩৮ রানের কার্যকর ইনিংস। তবে সেট হওয়া ব্যাটারদের বিদায়ের পর আবারও ছন্দ হারায় বাংলাদেশ।

শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ১৪ রান, হাতে ছিল একটি উইকেট। কিন্তু ৪৯তম ওভারের প্রথম বলেই বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার ২৭ রানের লড়াকু ইনিংসও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে পারেনি। মাত্র ২৭ রানে শেষ পাঁচ উইকেট হারিয়ে ১৩ রানের হতাশাজনক পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার দারুণ বোলিংয়ে ৬৬ রানেই চার উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

তবে সেখান থেকে ইনিংস গড়ে তোলেন বেন কারান। সিকান্দার রাজার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ার পর ব্র্যাড ইভান্সকে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন সপ্তম উইকেটে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন তিনি। কারান ১২২ বলে অপরাজিত ১১১ রান করেন, আর ইভান্স মাত্র ৩৬ বলে ৫৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তাদের দুর্দান্ত জুটিতে জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৪৭ রান সংগ্রহ করে।

বাংলাদেশের বোলাররা শুরুতে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেললেও শেষদিকে রান নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন। অন্যদিকে ব্যাটাররা একাধিক জুটি গড়েও ইনিংস শেষ করতে পারেননি। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট হারানো এবং চাপের মুহূর্তে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের অভাবই সিরিজ হারের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

টেস্ট সিরিজের পর ওয়ানডে সিরিজও হাতছাড়া হওয়ায় জিম্বাবুয়ে সফর বাংলাদেশের জন্য আরেকটি হতাশার অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে। এখন শেষ ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোই হবে সফরকারীদের প্রধান লক্ষ্য।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

twelve + 8 =