২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ধারাবাহিক ও ভয়ংকর পারফরম্যান্স দেখানো দল হিসেবে উঠে এসেছে ফ্রান্স। পাঁচ ম্যাচে শতভাগ জয়, ১৪ গোল এবং মাত্র দুই গোল হজম করে দিদিয়ের দেশমের দলকে শিরোপার প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখছেন অধিকাংশ ফুটবল বিশ্লেষক। তবে বড় প্রশ্ন একটাই—এই ফ্রান্স কি সত্যিই অপ্রতিরোধ্য?
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ফ্রান্স দুর্দান্ত ছন্দে থাকলেও দলটি অপরাজেয় নয়। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনই হতে পারে তাদের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ। সাবেক ইংল্যান্ড ফরোয়ার্ড ইয়ান রাইটের মতে, সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোর মধ্যে এত শক্তিশালী ফেবারিট খুব কমই দেখা গেছে। তবে বিশ্লেষক ইয়ান ডেনিস মনে করেন, ফ্রান্সের আক্রমণভাগ যতটা বিধ্বংসী, স্পেনের খেলায় রয়েছে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য। তার মতে, স্পেন এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে কোনো গোল না খাওয়ায় তাদের রক্ষণভাগও বড় শক্তি।

একই ধরনের মূল্যায়ন করেছেন বিবিসির প্রধান ফুটবল লেখক ফিল ম্যাকনাল্টি। তার মতে, ফ্রান্স এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফুটবল খেললেও সম্ভাব্য সেমিফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে লড়াইটিই হবে তাদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। এরপর ফাইনালে উঠতে পারলে ইংল্যান্ড অথবা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সাংবাদিক এলিজাবেথ কনওয়ের মতে, তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল পুরোপুরি ফিট না থাকলেও স্পেনের আসল শক্তি দলগত ফুটবলে। রদ্রি ও পেদ্রির নিয়ন্ত্রিত মিডফিল্ড, পাউ কুবার্সি ও আইমেরিক লাপোর্তের নেতৃত্বে দৃঢ় রক্ষণ এবং বলের দখল ধরে রাখার সক্ষমতা স্পেনকে ফ্রান্সের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত করেছে। সাম্প্রতিক দুই মোকাবিলায়ও স্পেন ফ্রান্সকে হারিয়েছে।
অন্যদিকে নিল জনস্টনের বিশ্বাস, ফ্রান্স এখনও তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দেখাতে পারেনি। কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল অলিসে ও উসমান দেম্বেলের নেতৃত্বে গড়া আক্রমণভাগ ইতোমধ্যেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ত্রাস সৃষ্টি করেছে। তার মতে, দলটির আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে এবং এই ফ্রান্সকে থামানো সহজ হবে না।
তবে জন বেনেটের মতে, অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক কৌশলই ফ্রান্সের দুর্বলতা হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে মাইকেল অলিসেকে আক্রমণভাগের ঠিক পেছনে খেলানোর কারণে মাঝমাঠে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে, যা স্পেন কিংবা মরক্কোর মতো দল কাজে লাগাতে সক্ষম।

বিবিসির গ্যারি রোজও মরক্কোকে হালকাভাবে না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, চার বছর আগে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা মরক্কো এখন আরও পরিণত দল। সংগঠিত রক্ষণ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণের কৌশলে তারা ফ্রান্সকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারে।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বৃহস্পতিবার (বাংলাদেশ সময় রাত ২টা) ম্যাসাচুসেটসের ফক্সবরোর জিলেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও মরক্কো। ম্যাচটিতে জয়ী দল সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে এবং সম্ভাব্যভাবে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পাবে।