মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব বাংলাদেশের, জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারে দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগ

ঢাকা, ২ আগস্ট ২০২৬ – মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সরকার। দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

রোববার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. ইউ কিয়াও সোয়ে মোয়ে (H.E. U Kyaw Soe Moe)-এর সঙ্গে বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।

বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। সেই চাহিদা পূরণে মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানির বিষয়ে বাংলাদেশ বিশেষ আগ্রহী। এর জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত প্রস্তাবটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন এবং পাইপলাইন ছাড়াও এলএনজি সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে অতীতে আলোচিত মিয়ানমার-চট্টগ্রাম গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পটি নতুন করে বিবেচনায় আনার বিষয়েও উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে।

জ্বালানি সহযোগিতা এগিয়ে নিতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের মধ্যে বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি মিয়ানমারের জ্বালানিমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি প্রয়োজন হলে নিজেও মিয়ানমার সফরে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় উত্থাপিত চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর গঠনের প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ করা হয়। জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, এই করিডোর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও জ্বালানি সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির আলোকে বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহী এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক সদিচ্ছা রয়েছে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব করেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করে সম্ভাব্যতা পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + sixteen =