
টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজের হতাশা ভুলে শেষ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে জিম্বাবুয়ে সফর শেষ করেছে বাংলাদেশ। সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে স্বাগতিকদের ৪ উইকেটে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে টাইগাররা।
একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয় এবং তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-২ ব্যবধানে হারের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় সফরে কিছুটা স্বস্তি এনে দিল বাংলাদেশ শিবিরে। আগামী আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে যাবে বাংলাদেশ। তার আগে এই সাফল্য আত্মবিশ্বাস বাড়াবে দলটির।
বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে টস জিতে আগে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ে ৭ উইকেটে ১৪৩ রান সংগ্রহ করে। ডিওন মায়ার্স ৭৩ এবং ব্রায়ান বেনেট ৪৭ রান করে দলের মূল ভিত গড়ে দেন। এ দুজন ছাড়া আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।
বাংলাদেশের হয়ে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন দুটি উইকেট নেন। এছাড়া মাহেদি হাসান, রিশাদ হোসেন ও আব্দুল গাফ্ফার সাকলাইন একটি করে উইকেট শিকার করেন। শেষ তিন ওভারে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণে বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি জিম্বাবুয়ে।

১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে ধাক্কা খেলেও ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে জয়ের পথে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৫৮ বলে ৬৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল একটি চার ও চারটি ছক্কা।
তানজিদকে দারুণ সঙ্গ দেন পারভেজ হোসেন ইমন ও অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। দুজনই ২৪ রান করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। শেষ পর্যন্ত দুই বল হাতে রেখেই ৬ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
এই জয়ে ম্যাচসেরার পাশাপাশি সিরিজসেরার পুরস্কারও জিতে নেন তানজিদ তামিম।
তবে পুরো সফরের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশের দুর্বলতাগুলোও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব, একাদশ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন, টস জিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দুর্বলতা এবং বোলিং সম্পদের কার্যকর ব্যবহার না করতে পারায় প্রত্যাশিত ফল আসেনি বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা সাজাতে হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি)। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে হলে দলকে আরও পরিণত ও কৌশলী পারফরম্যান্স দেখাতে হবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
জিম্বাবুয়ে: ১৪৩/৭ (ডিওন মায়ার্স ৭৩, ব্রায়ান বেনেট ৪৭; মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ২/৩৫)
বাংলাদেশ: ১৪৪/৬ (তানজিদ হাসান তামিম ৬৬*, পারভেজ হোসেন ইমন ২৪, তাওহিদ হৃদয় ২৪; রিচার্ড এনগারাভা ২/২০, ব্র্যাড ইভান্স ২/২৬, সিকান্দার রাজা ২/৩৮)
ফল: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী; সিরিজ ২-১ ব্যবধানে বাংলাদেশের।