ফিফার বাণিজ্যিক পরিকল্পনা ঘিরে উত্তেজনা, বিশ্বকাপ বয়কটের হুঁশিয়ারি উয়েফার

ঢাকা, ২৯ জুলাই ২০২৬: বিশ্ব ফুটবলের বাণিজ্যিক কাঠামো নিয়ে ফিফা ও উয়েফার মধ্যে নতুন করে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফিফার নতুন বাণিজ্যিক পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। পরিস্থিতির সমাধান না হলে ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ইএসপিএনের তথ্য অনুযায়ী, স্পেন, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, পর্তুগালসহ উয়েফার ৫৫ সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে চলতি সপ্তাহে একটি জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। বৈঠকে ফিফার নতুন পরিকল্পনার বিরুদ্ধে যৌথ অবস্থান গ্রহণ এবং সম্ভাব্য করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে। স্কাই স্পোর্টস নিউজও একই ধরনের তথ্য জানিয়েছে।

সম্প্রতি ফিফা ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’ নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপসহ ফিফার প্রধান টুর্নামেন্টগুলোর সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি, লাইসেন্সিং এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

এ লক্ষ্যে সংখ্যালঘু বিনিয়োগকারী যুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক প্রতিষ্ঠান জে.পি. মরগান-এর সঙ্গে কাজ করছে ফিফা। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের তালিকায় রয়েছে থ্রাইভ ইটারনাল, যার প্রতিষ্ঠাতা জশুয়া কুশনার।

ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ইকুইটি মূল্যায়নের ভিত্তিতে এফএফইর শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে চলতি বছরের শেষ নাগাদ সর্বোচ্চ ৪.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করা হবে। সংস্থাটির দাবি, সদস্যদেশগুলোর অনুমোদন মিললে আগামী চার বছরে বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্নয়নে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার-এরও বেশি বিনিয়োগ সম্ভব হবে।

তবে ফিফা স্পষ্ট করেছে, ফুটবলের পরিচালনা, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, ম্যাচসূচি এবং সব ধরনের ক্রীড়া ও নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্তের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এ উদ্যোগকে বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বাড়ানোর একটি নতুন সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষায়, এটি বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নকে আরও গণমুখী করার উদ্যোগ।

তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় উয়েফা। সংস্থাটির মতে, ফুটবলের বাণিজ্যিকীকরণ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা খেলাটির ঐতিহ্য ও সুশাসনের জন্য উদ্বেগজনক। উয়েফা বলেছে, ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ—জাতীয় ফুটবল সংস্থা, লিগ, ক্লাব, খেলোয়াড়, সমর্থক ও সরকার—এ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

এক বিবৃতিতে উয়েফা আরও বলেছে, “ফুটবল কোনো বাণিজ্যিক সম্পদ নয়, যা বিক্রি করা যায়। ফুটবলের মালিক কেউ নয় এবং এটি বিক্রি করার অধিকারও কারও নেই।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধ ফিফা ও উয়েফার মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষমতা ও বাণিজ্যিক প্রভাব বিস্তারের দ্বন্দ্বকে আরও স্পষ্ট করেছে। এর আগে ২০২১ সালে প্রতি দুই বছর অন্তর বিশ্বকাপ আয়োজনের ফিফার প্রস্তাবও উয়েফার তীব্র বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি।

এদিকে ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের দিন সদস্যদেশগুলোর বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন না করে পরে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিকল্পনা ঘোষণা করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে উয়েফাসহ কয়েকটি জাতীয় ফুটবল সংস্থা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও আগে থেকে এ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ছিল না।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “ফুটবল বিনিয়োগকারীদের সম্পদ নয়; এটি সেই সমর্থকদের, যারা প্রতি সপ্তাহে গ্যালারিতে এসে নিজেদের দলকে সমর্থন করেন।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

14 − one =